হটনিউজ স্পেশাল

রাশিয়ায় চিংড়ি রপ্তানির পথ খুলবে: মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : রাশিয়াতে আবার চিংড়ি রপ্তানির পথ খুলতে সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার এ নিকোলাভের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ গ্রীষ্মকালে চিংড়িতে যে পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া থাকে, রাশিয়া তার চেয়ে ভাল চিংড়ি চায়। এ কারণে গত বছরের অক্টোবর থেকে রাশিয়ায় চিংড়ি রপ্তানি একপ্রকার বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি দিতে বলেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার আমরা ওই চিঠি পাঠাব। আশা করছি শিগগিরই সব জট খুলে যাবে।

রাশিয়ায় চিংড়ি রপ্তানির জট কীভাবে খুলবে- সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি মন্ত্রী।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত বলেছেন যেভাবেই হোক রাশিয়াতে চিংড়ি রপ্তানির ব্যবস্থা করবেন।
২০০৯ সালের ২৫ অগাস্ট বাগেরহাট সি ফুড, খুলনার ফ্রেস ফুডস লিমিটেড, চট্টগ্রামের অ্যাপেক্স ফুড লিমিটেড এবং এআরকে ফুডস লিমিটেড নামের চার বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান রাশিয়ায় মাছ রপ্তানির অনুমতি পায়।

মাছ রপ্তানির বিষয়ে ২০০৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাশিয়ার মৎস বিভাগের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি সমঝোতা স্মারকেও সাক্ষর করে।

তবে রাশিয়ার কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করতে না পারায় গত অক্টোবর থেকে চার প্রতিষ্ঠানের চিংড়ির ওপরই বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাট সি ফুডকে সাময়িক অনুমতি দেয়া হলেও বাকি তিন প্রতিষ্ঠানের নিষেধাজ্ঞা থেকেই যায়।

মন্ত্রী জানান, অধিকাংশ ক্রেতা দেশ ইন্টারন্যাশনাল কমিশন ফর মাইক্রোবায়েলজিক্যাল স্পেসিফিকেশন ফর ফুডস (আইসিএমএসএফ) ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনের (আইএসও) মান অনুযায়ী মাছ ও খাদ্য সামগ্রী আমদানি করলেও শীতপ্রধান দেশ রাশিয়া নিজস্ব মানদণ্ড মেনে চলে।

ছায়েদুল হক জানান, বাংলাদেশ বছরে ৮০ হাজার মেট্রিকটন চিংড়িসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ রপ্তানি করে, যার মধ্যে চিংড়ির পরিমাণ ৫০ হাজার মেট্রিকটনের বেশি।

২০১৩-১৪ অর্থ বছরে রাশিয়ায় মাত্র এক হাজার ৪১৬ মেট্রিকটন চিংড়ি রপ্তানি করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।