জাতীয়

উপজেলায় হুমকি আতঙ্কে বিএনপি’র প্রার্থীরা

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা চরম হুমকি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তারা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে নানা বাধা পেরিয়ে। অনেক প্রার্থী বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে সরকার সমর্থক প্রার্থীদের হাতে। ইতোমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় প্রার্থীরা হামলা ও অপহরণের শিকার হয়েছে বলেও জানিয়েছেন শীর্ষ নিউজের স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনের আজ (মঙ্গলবার) প্রচার প্রচারণার শেষ দিন। প্রথম ধাপের ধারাবাহিকতায় প্রায় প্রত্যেক উপজেলায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দল সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় ভোটের আমেজ দেখা গেলেও বিভিন্ন উপজেলায় সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের হুমকির মুখে রয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও ভোটারেরা। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলাগুলো থেকে।

ভোলার দু’টি উপজেলায় নির্বাচন রয়েছে এ দফায়। চরফ্যাশন উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোস্তফাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ কর্মীরা গত শনিবার অপহরণ করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এছাড়া এ উপজেলায় ছাত্রলীগসহ আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা ভোটার ও অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে জানান শীর্ষ নিউজের স্থানীয় প্রতিনিধিরা। এখানে জাতীয় পার্টি সমর্থিত একজন প্রার্থীও রয়েছে। অপরদিকে, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় দুই পক্ষ সমান অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

যশোরের চারটি উপজেলায় নির্বাচন হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি। তার সার্বিক পরিস্থিতি ভাল থাকলেও চৌগাছা উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম হাবিবের বিরুদ্ধে অন্য প্রার্থীদের হুমকি ধামকির অভিযোগ রয়েছে। তার কর্মীরা প্রতিপক্ষ প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দিয়েছে এবং সোমবার এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় এ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধি। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ রয়েছে। এখানে আওয়ামী সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান ভাল অবস্থানে রয়েছেন।

জামালপুরের তিনটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে দু’পক্ষের হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভোটারেরা বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীর গত টার্মের ক্ষমতা কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছে। তারা মনে করে স্থানীয় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের হয়েও তারা কাঙ্খিত কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। তাই ক্ষমতার পালা বদল প্রয়োজন।

ময়মনসিংহের সদরসহ তিনটি উপজেলায় নির্বাচন হলেও সদরের নির্বাচন নিয়ে ভয়ে আছে ভোটাররা। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলছে। ইতোমধ্যে এক প্রার্থীসহ তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভোটের হিসাব নিকাশে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ভালুকায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যানের চাপে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে বলে খোদ স্থানীয় বিএনপি অভিযোগ করছে।

ঢাকার দু’টি উপজেলায় নির্বাচন হবে এ দফায়। কেরানীগঞ্জ ও সাভারে ইতোমধ্যে প্রার্থীদের প্রচারণায় নির্বাচন আমেজ জমে উঠেছে। সাভারে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী।

১৯ ফেব্রুয়ারি ৯৭টি উপজেলা নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় ২৭ ফেব্রুয়ারি ১১৬টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনের পর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সরকার সমর্থিত প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার খায়েশ বেশি রয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচন বর্জন করায় উপজেলা নির্বাচনের তার শোধ নিতে মরিয়া বিএনপিসহ তার শরিক দলগুলো। ইতোমধ্যে তারা প্রমাণ দিয়েছে প্রথম দফার নির্বাচনে। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সরকারি দলের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। যদিও এ নির্বাচন স্থানীয় সরকার নির্বাচন।