জাতীয়

আমি সাগর-রুনি হত্যার বিচার চাই

ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি  (হটনিউজ২৪বিডি.কম) : ‘একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর কী অসহায় অবস্থায় আমি আছি, সেটা বোঝাতে পারব না।তবে আমি কোনো ধন-দৌলত চাই না।আমি শুধু আমার সাগর আর রুনি হত্যার বিচার চাই।তোমরা এ জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করো।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কথাগুলো বলেন সাংবাদিক সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মুনীর। উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন।

সাগর-রুনি হত্যার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা।মানববন্ধনের একপর্যায়ে সালেহা মুনীর যোগ দেন।তিনি বলেন, ‘আমি আর রুনির মা সন্তান হারিয়েছি।মেঘ হারিয়েছে তার বাবা-মা।আমি এর বিচার চাই।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল।তিনি বলেন, ‘দুই বছরেও এই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হলো না, এটি আমাদের লজ্জা।আর সাগর-রুনির নিরাপত্তা দিতে না পারা এবং খুনের বিচার না করা এই রাষ্ট্রের লজ্জা।’ তিনি বলেন, ‘সাগর-রুনি আমাদের চেতনার মধ্যেই আছে।আমরা এই হত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবব্ধ ছিলাম এবং থাকব।’

বিএফইউজের আরেক অংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব আবদুল জলিল ভুঁইয়া ও শওকত মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আলতাফ মাহমুদ ও আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাবেক নেতা ওমর ফারুক ও শাবান মাহমুদসহ সাংবাদিক নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন।

সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতেও একটি স্মরণসভা হয়।সেখানে সালেহা মুনীর অভিযোগ করেন, ‘আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, বিচার না হওয়া পর্যন্ত সাগর-রুনির কবর জিয়ারত করব না। আর কতকাল আমাকে এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে তা আমি জানি না।’ তিনি বলেন, ‘সাগরের সবচেয়ে প্রিয় ছিল কৃষ্ণচূড়াগাছ, সাগর-রুনির খুনিরা ধরা পড়লে আমি ওদের কবরের পাশে দুটো কৃষ্ণচূড়াগাছ লাগিয়ে বলব, তোমাদের খুনিরা ধরা পড়েছে, ওদের শাস্তি হয়েছে।’

সালেহা মুনীর বলেন, ‘অনেকেই রাস্তায় দেখে আমার কাছে জানতে চায়, আমাকে চেনা চেনা লাগে, আমি টিভিতে অ্যাড (বিজ্ঞাপন) করি কি না।আমি ছেলেহারা মায়ের অ্যাড করি।’ বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন সাগরের মা। স্মরণসভায় মেঘকে কয়েকবার মাইকের সামনে আনা হলেও বারবার সে বলে, ‘আমি কিছু বলব না।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহেদ চৌধুরী স্মরণসভায় বলেন, সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে ৩১ মার্চ ডিআরইউর সামনে দিনব্যাপী প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হবে। কেউ পাশে থাক আর না থাক, সাগর-রুনির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে ডিআরইউ আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। ৩১ মার্চের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কাফনের কাপড় পরে মিছিল, আমরণ অনশন ও রাজপথ অবরোধের মতো কর্মসূচি দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

একই দাবিতে মাছরাঙা টেলিভিশনেরে সামনেও মানববন্ধন করেছেন সেখানকার কর্মীরা।এ ছাড়া সাগর-রুনির বন্ধুরা বেলা সাড়ে তিনটায় সার্ক ফোয়ারা মোড়ে মানববন্ধন করবেন।

২০১১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতের কোনো একসময় রাজাবাজারের নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। দুই বছরেও এই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়নি।