অপরাধ জাতীয় প্রধান খবর মৌলভীবাজার সিলেট

বাইক্কা বিলকে বাচাঁতে বাধঁ র্নিমান বন্ধ করে বিয়াই বিলের ইজারা

Moulvibazar Baikka billed Bhad stop pic -06এম শাহজাহান আহমদ,মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের পাখি ও মাছের মিলন মেলাস্থল বাইক্কাবিলকে বাচাঁতে এলাকাবাসীসহ জেলার সবাই এক সাথে কাজ করছে। বাধঁ নির্মান বন্ধ করে বিয়াই বিলের ইজারা প্রথা বাতিলের দাবী গন মানুষের। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাজীপুর বরুনার পার্শবর্তী স্থানে
বাইক্কা বিলের অবস্থান। বাইক্কা বিলের পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকাখানা ও সরকারী কিছু বিল রয়েছে সেখোনে বাইক্কা বিলের পাখির বড় একটি অংশ কিছুটা সময় কাটায়। বাইক্ক্য়া প্রবেশের মর্হুতে পাখিপ্রেমীদের জানিয়ে দেয় সামনে অনেক বিশ্বের অজানা পাখিদের অবস্থান রয়েছে। সেখানে রয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। সেখানে যখন কোন লোক বা পর্যটক থাকেন না তখন বড় বড় পাখি গুলো তাতে বসে। এখানে রয়েছে বিভিন্ন বিরলপ্রজাতির কোড়া ঈগলসহ নানা ধরনের পাখি। বিলজুড়ে পদ্মপাতায় শিশিরের খেলা দেখতে খুবই ভালো লাগে। তার মাঝে রয়েছে বেগুনি কলম গাছের ঝাঁক। বাইক্কা বিলে পাখি দেখায় মজাই আলাদা। ওয়াচ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় হাজার প্রজাতির দেশি ও বিদেশী পাখির। সেখানে রয়েছে একটি দূরবীন। সেখানে পাখি চেনার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেন এলাকার মিরাশ মিয়া। তিনি পর্যটকদের দূরবীন দিয়ে দেখিয়ে দেন কোথায় কোন পাখি বসা রয়েছে বিশাল বাইক্কা বিল এলাকায়। টাওয়ার থেকে পাখি দেখা যায় তবে মন ভরে দেখতে যেতে যেতে হয় নৌকা নিয়ে। নৌকার মাঝী মোসাব্বির মিয়ার নৌকা নিয়ে যেতে হয় বিলে। তখন মনে অন্যরকম আনন্দ জাগে বুঝা যায় যে এটাই পাখির রাজ্য। সে রাজ্যের পানকৌড়ি, সরালি, অধিপতি কালেম, বালিহাঁস, বক, জলমুরগি, দলপিপি, জলপিপি সবাই। শীতের কুয়াশামোড়া সকালে ঘুম থেকে ওঠার সব কষ্ট, ক্লান্তি ভুলে গিয়ে সেখানে শান্তি পাওয়া যায়। পদ্ম, শালুক, নলখাগড়াবন ঠেলে জলকেটে যেতে হয় নৌকায়। আনহারের হাতের ইশারায় নৌকার থামিয়ে দিলেন মাঝি। গৌছুলের চোখ কোথায় বড় পাখি শুধু ছবি ছাই। হঠাৎ সামনে পড়লো একটি বিরল প্রজাতির একটি বিশাল জলমুরগি। এসেছে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে। কয়েকশত হাঁস তার পিছু ছাড়ছে না। বেশি কয়েকটি লেঞ্জা হাঁস, পাতি তিলি হাঁস, রাজ সরালিও। নৌকা নিয়ে সারা বিলের চুুর দিক ঘুরে অনেক কিছু জানা গেলো। এ সময় মাথার উপর দিয়ে উড়তে থাকে হাজার পাখি। দেখা গেল বেশ বেগুনি কালেম। বাইক্কা বিলটা যেন পাখিদের মিলন মেলার স্থল। হঠাৎ পানির নীচে চলে গেলো একটি পানকৌড়ি, ভেসে উঠলো
আরেকটি। পদ্মপাতার বুক চিরে নৌকাটি নিয়ে বেড়াতে খুবই আন্দ লাগে। পানিতে হাত ভেজাতে সবুজ জলে আরো ভালো লাগে। মলা, পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট
মাছ খেলা করছে পানিতে। পাখির কলকাকালিতে মুখর করে তুলে সবাইকে। কখনো নৌকা থামিয়ে, কখনো চলন্ত অবস্থায় একের পর এক ছবি তুলতে থাকলো এস এম উমেদ আলী। অনেকটা সাহস নিয়ে সাদা বড় বকগুলো নৌকার পাশেই বসে থাকে। তারা ছবি তোলার জন্য সবাইকে সুযোগ দিচ্ছে বুঝা গেল। বিভিন্ন আঙ্গিকে পাখি গুলো ছবি তুলার ব্যবস্থা করে দিলো ক্যামেরাম্যানদের। এমনকী ঝগড়া করতেও দেখা গেলো সাদা বকদের। অপেক্ষা করে দেখতে পাবেন অনেক ঝগড়া। মনে হয় তাদের ধরে আদর করার। কঢ়ুরিপানার উপর বসে রয়েছে সাইবেরিয়া থেকে আসা মেটে মাথা টিটি। প্রতিটা মুহূর্ত জন্ম দেয় নতুন আবেগ ও আনন্দ। বিকেলে পাখিরা আসতে শুরু করে তাদের বাসস্থানে। সাইবেরিয়া, রাশিয়া, তিব্বত,শ্রীলঙ্কা থেকে আসা অতিথি পাখিরাও ফেরে তাদের অস্থায়ী বাসায়। মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেলো কয়েকটি দল তাদের গন্তবে। হঠাৎ উদয় হলো এক মেছো বাঘ। কিন্তু মানুষের গন্ধ পেয়ে আবার উদাও হয়ে গেল মহুর্তেও মধ্যে। বাইক্কা বিলের অধিকাংশ এলাকা জুড়ে রয়েছে হিজল-তমালগাছ। শালিক, সুইচোরা, পেঁচাদের নীড় এই গাছ গুলো। কিচির-মিচির শব্দে কয়েক হাজার পাখি সেখানে। সে গান শুধু চোখ বন্ধ করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে অনুভব করা যায়। এই বাইক্কা বিলে প্রবেশ মূল্য ৫ টাকা। ওয়াচ টাওয়ারে জনপ্রতি দিতে হয় ২০ টাকা সরকার নির্ধারিত। আর নৌকা চড়ার জন্য দিতে হয়
ঘণ্টাপ্রতি ৬০ টাকা। মনে রাখতে হবে সতর্কতাঃ সতর্কতার সাথে পাখিদের দেখবেন তাদের অসুবিধা বা শব্দ করা যাবে না। বাইক্কা বিল মাছের অভয়ারণ্য বলেই পাখিরা নিরাপদে নিরিবিলি থাকে। ঢিল ছুড়বেন না সেখানে, কিছু খেয়ে ফেলবেন না পানিতে। যাতে পাখিদের সমস্যা না হয়। কিভাবে আসবেন এই সুন্দর স্থানে: ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলে বাসে আসতে সময় লাগে ৪ ঘণ্টা, আসতে পারেন ট্রেনেও। তবে সময় একঘণ্টা বেশি লাগতে পারে। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে বাইক্কা বিলের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। শেষ আট কিলোমিটার রাস্থা মাটির তৈরী। শহর থেকে সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ করলে ভাড়া নেবে ৫০০-১০০০ টাকা। শুধু যাওয়া ৪০০ টাকা। তবে যাওয়ার আগে অবশ্যই খাবার নিতে হবে। কারণ সেখানে খাবার পাওয়া যায় না। থাকার জন্য রয়েছে পাচঁ তারকা হোটেলসহ বেশিকিছু কটেজ শ্রীমঙ্গল শহরে। ভাড়া হোটেল ভেদে ৩০০ থেকে ৪০০০ টাকা। তবে শহরের হোটেলগুলোতে হাওরের টাটকা দেশি মাছ পাওয়া যায়। বাইক্কা বিল নিয়ে বেশ কয়েকটি গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় টনক নড়লো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। গত রবিবার বাইক্কা বিলে বাঁধ তৈরী নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান পড়েন বিপাকে। তিনি বলেন, আমরাও বাইক্কা বিলে পানি রাখার জন্য বাঁধ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। গত বুধবার স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানসহ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে শুধু বিয়াই বিলের বাঁধ তৈরি বন্ধ করাই নয় বাইক্কা বিলে পানির স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এদিকে বাইক্কা বিলের সংশ্লিষ্টদের কাছে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, এই বিলের পানির উৎসমুখ অর্থাৎ বিয়াই বিলে শুধু বাঁধ নয় ইতোমধ্যে পানি সেচের জন্য পা¤পও বসানো হয়েছে। স্থানীয় জেলেরা জানান, গত বুধবার বাদ আছর সেচের মেশিন চালু হয়। সঙ্গে চলে শিন্নি দেওয়াসহ নানা উৎসব। স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানান মাহবুবুর রহমান। অগণিত দেশের মানুষের জন্য এই চোখজুড়ানো প্রাণোচ্ছ্বল সৌন্দর্য উপভোগ্য করার স্থান তোলে ধরতে সবাই যাই বিলে। কিন্তু শুরুতেই ওখানকার দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানালেন এক অশনি সংকেতের
কথা। বাইক্কা বিলের পানির অন্যতম উৎসমুখে নাকি দু-একদিনের মধ্যেই বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা হবে। সেই উপলক্ষে চলবে উৎসবও! মুহূর্তে পাখির পেছনে ছোটা বন্ধ করে নৌকা নিয়ে চলে গেলাম বাঁধমুখে। যাদের জন্য আজ এখানে আসা, যে মাছ-পাখির বৈচির্ত্য দেখতে দেশ-বিদেশের হাজারও মানুষ অসেন এই বিলে, তাদের বাঁচানো বড় দায়িত্ব নিঃসন্দেহে। জলপদ্ম, কচুরিপানা আর উলুখাগড়া বন ঠেলে মাঝি মোসাব্বির মিয়া ছপ ছপ করে লগি ঠেলে নিয়ে যেতে লাগলেন ঘটনাস্থলে। একটু পরপরই তার মন্তব্য, ভাই এই বিলটি তাদের সংসার চালানোর এক মাত্র অবল্মন। মাঝির দ্রুত গতিতে পৌঁছে দিলো বিয়াই বিলের (কাগাউড়া) ক্যানেলে। এই ক্যানেল দিয়েই প্রবাহিত হয় বাইক্কা বিলের পানি। বাইক্কার পরই এই জলমহাল। হঠাৎই মাঝি বললেন, আফনারা ছুপ থাকই। কেউ মাতলে কইবা পাখির ছবি তোলতে আইছি। দেখুইন সামনেদি মাটি লইয়া নৌকা যার। মাটি পালাইব তখন আপনার ছবি তুলিলাইবা। মাঝি ও বাইক্কা বিলের কর্মচারীদের কথার প্রমাণ পেতে দেরি হলো না। দুজন মাঝি নৌকা নিয়ে মাটি পালঅতে শুরু করলো। তাদের কাছ থেকে জেনে নিলাম মাটি ফেলার কারণ। পাশে মাছ ধরতে থাকা অপর দুই মাঝির সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তারা চিনতেন মাঝি মোসাব্বিরকে। মাটি এনে যারা ফেলছিলেন তাদের একজনের নাম হারুন মিয়া। কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, এটা শুকিয়ে এক বিল থেকে আরেক বিলে যাওয়ার পথ তৈরি করা হবে। যদিও তাদের মাটি ফেলার ধরন দেখে তা মনে হয়নি। এরপর হারুন জানায়, বিলের সেচ কার্যক্রম উপলক্ষে শিরনি দেওয়া হবে। ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে গরু কেনাও শেষ। মোট খরচ হবে দুই লাখ টাকা! বিয়াই বিলের মানুষের চোখে মুখে যখন উৎসবানন্দ, বাইক্কা বিলের দুঃখের শুরু। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাছ-পাখির অভয়ারণ্য বাইক্কা বিলের কোল ঘেঁষে বিয়াই বিল। বাইক্কা বিলের আয়তন ১০০ একর। আর ১০ একরের কিছু বেশি জায়গা নিয়ে বিয়াই বিল জলমহাল। এ জলাশয়টি সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হয়। তিন বছরের জন্য ইজারা দেওয়া এ জলমহালটি এরই মধ্যে পার হয়েছে দুই বছর। ইজারা নেন পরবেশ আলী নামের এক ব্যক্তি বাইক্কা বিল থেকে প্রতিনিয়ত চুরি করে বড় বড় মাছ নিয়ে শহরে বিক্রির গডফাদার। তিনি আবার ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে সাব-ইজারা দেন জনৈক এরশাদ মিয়া, মিসির মিয়া, আকিস মিয়া, আলফু মিয়াসহ আরও একজনের কাছে। সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা
নীতিমালায় অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও প্রতিবছর এরা উচ্চক্ষমতাস¤পন্ন পা¤প বসিয়ে বিয়াই বিলের পানি শুকিয়ে ফেলে মাছ ধরেন। অথচ, নীতিমালা অনুযায়ী জল শুকানো দূরের কথা, মাছের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা (যেমন,নেট জাল পাতা) তৈরি করাও নিষেধ। এই বিল সেচ করে পানি শুকালে বাইক্কা বিলের মৎস্য অভয়াশ্রম এবং এই অভয়াশ্রমে স্থায়ী-অস্থায়ী আবাস গড়া দেশ-বিদেশি প্রায় ১৬৬ প্রজাতির পাখি (পাখি বিশেষজ্ঞদের শুমারি
অনুযায়ী)। এর প্রভাব যে কত ভয়ংকর ক্ষতি করতে পারে তারই প্রমাণ ২০১৩ সালের ৯ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে চলা বাইক্কা বিলের মাছ লুটপাট। সেই লুটপাটে ক্ষতি হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। পানি কমে যাওয়ায় ওই লুটপাটের ঘটনা  ঘটে। হাজার হাজার মানুষ এসে নামে এই বিলে। মৎস্য বিভাগ, বড়গাঙ্গিনা স¤পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠন (আরএমও) স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দিয়েও আটকানো যায়নি সে লুটপাট। সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রিত এ মৎস্য অভয়াশ্রমে সেবার চলে কয়েক কোটি টাকার মাছ লুট। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় মা মাছগুলোর (ডিমওয়ালা)। কারণ কম পানিতে এরা বাঁচতে পারে না। বাঁধে মাটি ফেলার সময় আমাদের নৌকার পাশের যে নৌকা দুটির মাঝি কথা বলতে চাননি, তারা মাটির নৌকাটি চলে যাওয়ার পর এগিয়ে এলেন কথা বলার জন্য। মাঝি ওয়াসিম বলেন, যে গরিব মানুষ এই বাঁধের বিরুদ্ধে মাতবো তার অবস্থা খারাপ হয়ে পড়বো। এই বিলটায় বাঁধ দেওয়ার কারণে শুধু পাঁচ-সাতজন (!) মানুষ লাভবান হলেও শত শত গরিবের পেটে লারি মারা হবে। পাশ থেকে আরেক মাঝি জাহাঙ্গীর জানান, বাঁধ দিলাইলে আমরার না খাইয়া থাকতে হইবো। শুধু বাইক্কা বিল নয়, আশাপাশের আরও বিল শুকাই যায়। আর এসব বিলে তারা মাছ মারিয়া জীবিকা নির্বাহ করে। বাইক্কা বিলের পাখি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের দায়িত্বে থাকা মিরাশ মিয়া বলেন, পানি শুকিয়ে গেলে মাছের তো ক্ষতি হয়ই, সঙ্গে পাখির অনেক সমস্যা হয়। তারা খাবার পায় না, পানিতে বসতে পারে না।এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, আজ থেকে ১০ দিন আগে এ বিলের লিজগ্রহিতা পরেশ আলীকে ডেকে বলে দিয়েছি এ বিলে ভাসমান মাছ মারা যাবে। কোনো রকম বাঁধ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। এরপরও যদি বাঁধ দেওয়া হয় তাহলে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। তাদের বলাটাই শেষ হয়ে যায় পড়ে বড় বড় মাছ পেয়ে সব অপর্কম চালিয়ে যায় এই পরেশ আলী চক্র। লোট করে মাছ নষ্ট করে বাইক্কা বিলের পরিবেশ বলে এলাকার অনেকেই জানান। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশফাকুল হক চৌধুরী জানান, বাইক্কা বিলের পানি যাতে বিয়াই বিলে না যায় তার জন্য তারা বাইক্কা বিলে বাঁধ দিয়ে এর পানি আটকে রাখার চেষ্টা করছেন। বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে শুনে তিনি বলেন, রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে লোক পাঠাবেন। কত বিচিত্র সুন্দর চেহারা, গড়নের, রংয়ের-ঢংয়ের সব পাখি। তাদের চলার গতি, ওড়াউড়ি, কলকাকলি কী মুগ্ধতা ছড়ায়! মায়ের কোলের নিরাপদ শিশুর মতো মনে হয় তাদের এই বাইক্কা বিলে। মনোমুগ্ধকর সব ছবি, দেখলে আপনাকেও ছুটে আসতে হবে এই অসাধু ফাঁদ থেকে বাইক্কা বিলকে বাঁচাতে, উপভোগ করতে সেসব নয়নাভিরাম দৃশ্য। বাধঁ নির্মান বন্ধ করে বিয়াই বিলের ইজারা প্রথা বাতিলের দাবী গন মানুষের।