জাতীয় মৌলভীবাজার সিলেট স্বাস্থ্য

রাস্তায় পড়ে থাকা এক পাগল মা জন্ম দিলেন রাজপুত্রের!

এম শাহজাহান আহমদ ,মৌলভীবাজার: ফজরের আযানের সময় রাস্তায় পড়ে থাকা মানসিক ভারসাম্য হীন এক নারীর প্রসব ব্যাথার চিৎকারে ঘেও ঘেও করছিল রাস্তার কুকুরগুলো। নিত্য দিনের মতো রাস্তার ডাস্ট বিনের খাবার খাওয়া পাগল মা রাজপুত্রের জন্ম দেবেন। তাই হয়তো আনন্দে, না হয় পাগল মায়ের অসহায়ত্ব দেখে সাহায্য প্রার্থনা করে কুকুর গুলো এমন আর্তনাদ করছিল! শুক্রবার শ্রীমঙ্গল শহরের কলেজ রোডে উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এমন দৃশ্য অবলোকন  করেন অনেকে।আধার কেটে চারদিকে আলো ছড়িয়ে পরার সাথে সাথে পৃথিবীর মুখ দেখে পিতৃ পরিচয় হীন রাজপুত্রটি। ফজরের নামাজ পড়ে পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন মুসুল্লি রা, যাদের মধ্যে থাকা একজন ডাক্তার ব্লে ড সংগ্রহ করে ছিন্ন করেন রাজপুত্রের সাথে মায়ের নাড়ির সুতোটি। আর এক পথচারী মহিলা বাচ্চাটিকে কোন রকম ভাবে মায়ের সাথে রাখার চেষ্টা করে চলে যাচ্ছিলেন। পাগল মা নব জাতকটিকে ধুলো বালি লাগাচ্ছিল এবং কনকনে শীতে কাঁপচ্ছিল বাচ্ছাটি। পথচারী মহিলা নবজাতকটিকে তুলে দেন সন্তান হীন এক দম্পতির কাছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল গড়ালেও অসহায় প্রসূতি মায়ের নিথর হয়ে পড়ে থাকার বিষয়টি নজর কারেনি স্থানীয় প্রশাসন, জন প্রতিনিথি  এমনকি সমাজের বিত্তবানদের। অসহায় পাগল মাটি নিথর হয়ে পড়ে রইল উদয়ন স্কুলের সামনে। ততক্ষনে প্রসব জনিত রক্ত ক্ষরনে ভেজা কাপড় থেকে র্দুগন্ধ ছড়াচ্ছিল। শ্রীমঙ্গল দমকল বাহিনী অপারোগতা প্রকাশ করে প্রসূতি মাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে। পথ চারিরা নাকে মুখে কাপড় দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিলেন যে যার মত করে। বিষয়টি শ্রীমঙ্গল পুলিশ সার্জেন্ট সালাহ উদ্দিন কাজলের দৃর্ষ্টি গোচর হয়। প্রসুতি মায়ের করুন অবস্থা দেখে, তাকে হাসপাতালে না পাঠানো পর্যন্ত ক্ষান্ত হলেন না পুলিশ সার্জেন্ট সালাহ উদ্দিন কাজল। পাগল মা’কে হাসপাতালে নেওয়া কোন ভাবেই সম্ভব ছিলনা। তার উপর আবার রক্তে ভেজা শরীর। স্থানীয় সাংবাদিক বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী,  দিপংকর ভট্টাচার্য, জহর তরফদার ও ব্যবসায়ি ফাহাদ সার্জেন্ট কাজলকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন। সবার সহযোগিতায় অবশেষে পাগল মাকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।