জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

‘ জামায়াতের আমির খালেদা’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক,হটনিউজ২৪বিডি.কম,ঢাকা: খালেদা জিয়াকে জামায়াতে ইসলামের ‘আমির’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সহিংসতা চালিয়েও তিনি নির্বাচনে মানুষের ভোট দেয়া ঠেকাতে পারেননি। নির্বাচনের পর সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত যশোরের অভয়নগরের মালোপাড়া ঘুরে দেখার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়া এখন আর বিএনপির নেত্রী নেই, তিনি জামায়াতের আমির হয়ে গেছেন।”

শেখ হাসিনা বলেন, “জামায়াত এমন একটি দল, যারা পাকিস্তানেও নিষিদ্ধ হয়েছিল। তারা ইসলামের নামে রাজনীতি করে কিন্তু ইসলামে বিশ্বাস করে না। বিএনপি নেত্রী এই জামায়াতকে সাথে নিয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।”

গত ৫ জানুয়ারি ভোট দিতে যাওয়ার কারণেই অভয়নগরসহ বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালানো হয় বলেও প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, “নির্বাচনে বাধা দিতে তিনি (খালেদা জিয়া) হরতাল, অবরোধ, ভোট কেন্দ্রে আক্রমণ, নির্বাচন কর্মকর্তাদের পুড়িয়ে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। জামায়াত শিবিরের ক্যাডাররা মালোপাড়ায় ১৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ঋষিপল্লীতে দুই নারীকে ধর্ষণ করেছে।”

জনগণ সেদিন ভোট দিতে যায়নি- খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা।

“মিথ্যা বলতে বলতে এমন অবস্থা হয়েছে যে নিজের স্বামীর জন্মদিন পরিবর্তন করে ফেলেছেন। এমনকি নির্বাচনের তারিখও গুলিয়ে ফেলেছেন। আবার ভুল ধরিয়ে দিতে গেলে বলবেন- ‘চুপ বেয়াদপ’।”

খালেদা জিয়া নিজেকে ‘৯৫ শতাংশ মানুষের নেত্রী’ দাবি করলেও ৫ জানুয়ারি ‘৪৪-৪৫ শতাংশ ভোট’ কীভাবে পড়লো- সে প্রশ্নও তিনি তোলেন।

সব বাধা পেরিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ায় দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপি ‘ট্রেন মিস’ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “গোলাপীরে গোলাপী ট্রেন তো মিস করলি। গোলাপী এখন আর ট্রেনে নাই, ট্রেন মিস হয়ে গেছে।”

গোপালগঞ্জের নাম বদলে দেয়া হবে- খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

“গোপালগঞ্জের উপরে এতো রাগ কেন? জাতির পিতার জন্মস্থান বলে? আপনি কি দেশের স্বাধীনতা চান না? নাকি এখনো পেয়ারা পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেন? পাকিস্তানি প্রভুদের ভুলতে পারেন না দেখেই কি এতো রাগ?”

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধে সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ কাজ করতে হবে।

“কেউ এ অধিকারে হস্তক্ষেপ করলে সরকার তা সহ্য করবে না। কোনো ধরনের জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসকে সহ্য করা হবে না। এর জন্য যতোটা কঠোর হওয়া দরকার সরকার ততোটাই কঠোর হবে।”

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ গত সরকারের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করারও অঙ্গীকার করেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়া আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।