জাতীয় প্রধান খবর মৌলভীবাজার সিলেট

হাকালুকি হাওরে অতিথি পাখির কলকাকলি-তৎপর অসাধু শিকারী চক্র

 এম শাহজাহান আহমদ,মৌলভীবাজার:  এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জলাভুমি হাকালুকি হাওর এখন অতিথি পাখির কলতানে মূখরিত। হাওরের আকাশ বাতাসে যেন রং বেরঙের পাখির প্রতিচ্ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। দেশ বিদেশ থেকে আগত নানা প্রজাতির লাখ লাখ শীতের পাখি দিনভর খেলা করছে আড়াই শতাধিক বিলবেষ্টিত হাকালুকি হাওরে। বিভিন্ন আকার ও রঙের অগনিত পাখির আগমনে দেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি এখন পাখির অভয়ারণ্য। বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া এবং সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার বিরাট অংশ নিয়ে বিস্তৃত দেশের তথা এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর আয়তনের এ হাওরে রয়েছে ২৫৮ টি ছোট-বড় বিল। বিশাল প্রাণীরাজ্যে হাকালুকির এসব বিলে শীত মৌসুমের সূচনালগ্ন থেকেই দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির লাখ লাখ পাখির কলকাকলিতে হাওরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রতিবারের মত এবারও হাওরে অতিথি পাখির আগমনের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিদিন হাওরের বুকে খেলা করছে অগনিত পাখি। আর এসব পাখির কলতান শুনতে এবং হাওরের জীববৈচিত্র্য ও আয়তনের বিশালতা প্রত্যক্ষ করতে দলে দলে লোকজন সেখানে ভিড় করছেন। এবার হাওরে জলচর অতিথি পাখিদের মধ্যে পিয়ং হাঁস, লেঞ্জা, ভূতি হাঁস, মরচেরং, চকাচকি, কালোকোট, খুস্তি হাঁস, টিকি হাঁস, খোপা ডুবুরি, গ্রে হেরন, বেগুনী কালেম, সরালি, রাজ সরালি, কটুপাখি, বক, গাংচিল, পানকৌড়ি অন্যতম। এছাড়াও দেশি পাখিদের মধ্যে রাজসরালী, পাতিসরালী ও শামুকখোল ইত্যাদি পাখি বিচরণ করতে দেখা যাচ্ছে। হাকালুকি হাওরের কয়েকটি বিল ঘুরে নানা প্রজাতির দেশি বিদেশি পাখির অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে। এদের কিচির মিচির শব্দে বর্ণিল সুরের অপূর্ব এক ব্যঞ্জনা হাকালুকির বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। এর সঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ন্ত পাখির মনোরম দৃশ্যও সেখানে আগত দর্শনার্থীদের বিমোহিত করছে। তৎপর অসাধু শিকারী চক্র : হাকালুকিতে অতিথি পাখির আগমনের সাথে তৎপর হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ শিকারী চক্র। এসব অতিথি পাখি ধরা পড়ছে সংঘবদ্ধ পাখি শিকারীদের হাতে। ১২ জানুয়ারী সকালে হাকালুকি হাওরের অতিথি পাখি শিকারের দায়ে একটি এয়ারগান, গুলিবিদ্ধ ৩টি বাঁলি হাঁস ও ১টি হাঁস পাখিসহ ফয়ছল আহমদ (৩০), আব্দুল বাছিত (২৫) ও সুমন
আহমদ (২৫) নামে তিন অসাধু শিকারীকে আটক করে এলাকাবাসী পুলিশে সোপর্দ করে। হাওর পাড়ের অসাধু শিকারীরা ধানের সাথে বিষ মিশিয়ে অতিথি পাখি নিধন করে হোটেল রেস্তোরায় উচ্চ দামে বিক্রি করছে। গত ১৭ জানুয়ারী বিষটোপে জনৈক কৃষকের সাড়ে তিনশ’ হাস মারা যায়। বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আমিনুর রহমান জানান, অতিথি পাখির ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর ভূমিকা গ্রহন করছে। কেহ অতিথি পাখি হত্যা করলে তাদের অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে। অতিথি পাখি শিকারীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।