জাতীয় ঢাকা রাজনীতি সাক্ষাতকার

মানব মুক্তির লড়াইয়ে বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত জীবনের পরিপূর্ন সফলতা আসবে না-বিমল বিশ্বাস

৬০এর দশকে মজিদ খান শিক্ষা কমিশন এবং হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে রাজনীতিতে আবির্ভাব হয় বিমল বিশ্বাসের। পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হওয়ার পর তা ভেঙ্গে গেলে তিনি মেনন গ্রুপের সাথে ওয়ার্কাস পার্টিতে থেকে যান। ১৯ বছর ওয়ার্কাস পার্টির সাধারন সম্পাদক থাকার পর বর্তমানে তিনি দলের সিনিয়র পলিটব্যুরো নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি হটনিউজ২৪বিডি.কম এর প্রতিবেদক সৈয়দ নাসরুল ইসলামের সাথে নিজের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা, দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় এই বর্ষিয়ান নেতার। আলোচনার চুম্বক অংশটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।
হটনিউজ২৪বিডি.কম : বর্তমানে দেশের গনতন্ত্র কোন পর্যায়ে আছে বলে আপনি মনে করেন ?
বিমল বিশ্বাস : বর্তমান পরিস্থিতিটা সহিংসতা, অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে। গনতান্ত্রিক বিধি বিধান যেখানে চালু থাকে সেখানে তো অনিশ্চয়তা, সহিংসতা থাকার কথা নয়। সেদিক থেকে প্রাথমিক পর্যায়ের গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থা যে অবস্থায় সে সব জায়গার থেকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ প্রচন্ড হুমকির মুখে।
হটনিউজ২৪বিডি.কম : দেশের গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে এই মূহুর্তে কি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?
বিমল বিশ্বাস : গণতন্ত্রের মূলকথা হচ্ছে একটি নিদিষ্ট সমাজে সর্বক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা থাকা এবং জনগণ হবে সার্বভৌম ক্ষমতা সম্পন্ন। যদিও গণতন্ত্রকে একেকজন একেকভাবে সংঞ্জায়িত করে কিন্তু একটি নিদিষ্ট সমাজে সর্বক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রে স্বাধীনতা সহ সমস্ত জায়গায় স্বাধীনতা থাকার কথা। আমরা বর্তমানে যে অবস্থায় আছি তাতে গনতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে। এর বিপরীতে যে ছবিটি দেখছি তা খুব ভয়াবহ। যা হচ্ছে প্রচন্ড সশস্ত্র সহিংসতা, খুন, হত্যা এটা গণতান্ত্রিক অবস্থা ও ব্যবস্থার সাথে মোটেই সামঞ্জস্যপূর্ন নয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে মৌলিক অধিকারের স্বাধীনতা অর্থাৎ ব্যাক্তি, সভা, সংবাদপত্র, সমাবেশের স¦াধীনতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। গণতন্ত্রের বিকল্প গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে সন্ত্রাসী বা সহিংস কর্যকান্ড দিয়ে গণতন্ত্র কয়েম, প্রতিষ্ঠা বা রক্ষা করা যায় না। আসলে যে অবস্থায়  এসে দাঁড়িয়েছে তাতে কতগুলো মৌলিক প্রশ্নের সমস্যার সমাধান হতে হবে তবেই এখানে গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থা কায়েম হবে। যার একটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ অর্থাৎ যে বা যারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না তাদের কোন গণতান্ত্রিক অধিকার থাকতে পারেনা। এই যে একটা প্রশ্ন যা এখনো দেশে অমিমাংসিত রয়ে গেছে বিধায় সহিংসতা বেড়েই চলেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়ে এর একটি পর্ব এগিয়ে যাচ্ছিল কিন্তুু বিষয়টি নানা ভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে দিয়েছে ফলে সরকারি ও বিরোধী দলের কঠিন কঠিন কথা বার্তা উচ্চারিত হচ্ছে। কেউ বলছে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি থাকতে পারবেনা, কেউ বলছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি বাংলাদেশকে মানেই না। এই অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে ধ্বংশের শেষ সীমানায় গিয়ে পৌঁছাবে। সেই জন্য এই প্রশ্নটির একটা মীমাংসা হওয়া উচিত। এটা হলে অনেকগুলো বিষয়ের সমাধান হবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে ৫ বছর অন্তর অন্তর ভোট দেয়া শুধু এটাই গণতন্ত্র না, গণতন্ত্র হচ্ছে প্রতিদিনের বিষয়। এবং বাংলাদেশের নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে এর একটা মীমাংশা হতে হবে। কারন এর সমঝোতা ছাড়া সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নেবে। আমাদের এটা মনে করার কোন কারন নেই যে, বিদেশী দেশ তাদের দেশের স্বার্থ ছাড়া বাংলাদেশের জনগণের হয়ে এখানকার স্বার্থ রক্ষার জন্য মনোনিবেশ করবে। আসলে বাংলাদেশের স্বার্থ বাংলাদেশের জনগনকেই রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ বাংলাদেশের মানুষকেই বুঝতেই হবে। দেশ প্রেম থেকে বিদেশ প্রেম যাদের বেশি তাদের দিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হবে এটা মনে করার কোন কারণ নেই।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনকে কিভাবে দেখছেন এবং এ নির্বাচন দিয়ে কি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?
বিমল বিশ্বাস : সরকার পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে এটা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন। বাইরে থেকে দেখলে, একটা নির্বাচন প্রতিদ্ধন্দি¦তাপূর্ন হওয়া দরকার এর জন্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকা দরকার কিন্তু এ নির্বাচনের ফলাফল হচ্ছে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দিতায়  নির্বাচিত। বিনা প্রতিযোগীতায়  নির্বাচিত হওয়ার কোন সাংবিধানিক বিধি বিধান তো আমাদের নেই বরং জনগনের দ্বারা নির্বাচিত হতে হবে এটাই সংবিধানে আছে। বাকি ১৪৭টির অবস্থা হচ্ছে আওয়ামীলীগের সাথে আওয়ামীলীগের এবং তার শরিক দল গুলোর আসন ভাগাভাগি। এদিকে আরপিও অনুযায়ী কোন ব্যাক্তি কোনো দলের মনোনয়ন কিনলে সে স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারবে না কিন্তু বর্তমান অবস্থা দেখছি ভিন্ন। তাই প্রধান বিরোধীদল সহ অন্যান্য দলগুলোর অনুপস্থিতিতে এ নির্বাচন দেশে বিদেশে কোথাও গ্রহনযোগ্যতা পাচ্ছে না। তাই এই সরকারের শুরুতেই একটা নৈতিক দূর্বলতা থেকে যাচ্ছে। তারপরও মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদ ও বিদেশী শক্তি বহু ষড়যন্ত্র করেও নির্বাচনকে ঠেকাতে পারেনি।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: দেশের সামগ্রিক অবস্থা কোন দিকে যাচ্ছে বলে মনে করেন?
বিমল বিশ্বাস : দেশে সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা, খুন, গুম, দুর্নীতি, ধর্মের নামে রাজনীতি  চলছে। এই অবস্থায় প্রধান বিরোধীদল যদি একটা আলাপ আলোচনার মধ্যে সমঝোতা চায় তাহলে একটি সমঝোতামূলক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যথায় দেশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একবারেই কাম্য নয়।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: বর্তমানে দেশের পেশাজীবী সংগঠনগুলো দুটি বড় দলের অংশ হিসেবে কাজ করছে এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
বিমল বিশ্বাস : আমরা যে রাজনীতি করি তাতে শ্রেণী পেশার সংগঠনকে বিভক্ত করার ঘোড় বিরুদ্ধে। কারন এ সংগঠনগুলোকে শাসক শেণী তাদের শোষন ও লুন্ঠনের স্বার্থে ভাগ করে ফেলে। তাই এই সংগঠনগুলো যতবেশি তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকবে ততবেশি জনগণের আধিপত্য বা রাজনৈতিক শক্তির উদ্ভব হবে। শেণী পেশার সংগঠনগুলো বিভক্ত হয়ে আর যাই করুক তারা ভালো কাজ করছে না।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সহিংস কর্মকান্ডগুলোকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
বিমল বিশ্বাস : রাজনৈতিক কর্মসূচী বলতে মানুষ খুন, পুড়িয়ে মারা, গাড়িতে আগুন দেয়া, গুলি করে মারা এগুলো হতে পারে না। এসব সহিংসতায় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, পুলিশ, বিজিবি, এমনকি সাধারন মানুষও মারা গেছে। যা কখনোই রাজনৈতিক কর্মসূচী হতে পারে না। রাজনৈতিক কর্মসূচীগুলো রাজনীতি ও জনগণ কেন্দ্রিক হতে হবে, জনসমম্পৃক্ততা থাকতে হবে।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকরের যাত্রাকে কিভাবে দেখছেন?
বিমল বিশ্বাস : প্রথম কথা হচ্ছে বর্তমান সরকার তাদের ইশতেহার অনুযায়ী জনগনের কাছে যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যকরে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। যার ফল স্বরূপ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে এবং যথেষ্ঠ নিয়ম কানুন অনুসরণ করে রায় দেয়া হয়েছে যা পত্র পত্রিকায় জেনেছি। সেই বিবেচনায় বিচার বিভাগ যে রায় দিয়েছে তা সবার মেনে নেয়া উচিত এবং আমিও মেনে নেয়ার পক্ষে। কিন্তু একটা গোষ্টি এটাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে এটা প্রথম বলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এরপর বলেছে বৃটেন এরপর খালেদা জিয়া তারপর জামায়েতে ইসলাম। এ থেকে কি বোঝা যায় না যে, এই কোর্টটাকে প্রথম থেকেই বিতর্কিত করবার জন্য পাকিস্তান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করেছে এবং এর জন্য লক্ষ লক্ষ বিলিয়ন অর্থ ব্যয় করেছে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তারা কিন্তু সেভাবে বিতর্কিত করতে পারেনি। কারন বাংলাদেশের এমনও গ্রাম ছিলনা যেখানে পাকবাহিনীর দোসরদের হাতে মানুষ মৃত্যু বরন করেনি।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: যুদ্ধাপরাধ ইস্যু নিয়ে ভিন্ন দেশের পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাবকে কিভাবে দেখছেন?
বিমল বিশ্বাস : এটা বলার কোনো অপেক্ষা রাখেনা যে পাকিস্তান পার্লামেন্ট নিন্দা প্রস্তাব এনে ঔদ্ধত্তপূর্ণ ও শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরন করেছে। এটাকে প্রচন্ড ভাবে নিন্দা জানাই এবং এ বিষয়ে যারা নিরব ভূমিকা পালন করছে তারা জাতি ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী মানসিকতার লোক। তারা পাকিস্তানী ভাবাদর্শের পক্ষে।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাব ও সুপ্রীম কোর্টের সহিংস ঘটনাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
বিমল বিশ্বাস : এটা যে কত বড় নিন্দনীয় ঘটনা তা তারা নিজেরাই পরবর্তীতে অনুধাবন করেছে। কিন্তু তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল কারণ তারা অপরাধমূলক কর্মকান্ড করেছে। যাহোক শেষ পর্যন্ত যে তাদের বোধদয় হয়েছে সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: আপনাদের রাজনৈতিক ভাবনা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন?
বিমল বিশ্বাস : আমরা মার্কসবাদে বিশ্বাসী। মার্কসবাদের মতে, মানুষ ও মানুষের শ্রমশক্তি হচ্ছে সবকিছু সৃষ্টির মূল জায়গা। মানুষের শ্রমের মূল্যের নায্যতা থাকা দরকার। সেই জায়গা থেকে আমরা একটি মানবিক মূল্যবোধের সমাজে বিশ্বাস করি। যে সমাজে মৌলিক চাহিদার অভাব থাকবে না। যে সমাজে মানুষ মানুষকে শোষন, লুন্ঠন করবে না। যে সমাজে মানুষ মানুষকে হত্যা করবে না। বরং মানুষ মানুষকে মূল্যবোধ দেয়, মর্যাদা করে, ভালবাসে, ¯েœহ করে এমন মানবিক গুনাবলি সম্পন্ন সমাজ আমরা প্রতিষ্ঠিত করবো।
এদেশে কমিউনিষ্ট বামপন্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যা হওয়া উচিত তা হলো মানুষের জীবনের সংগ্রামের সাথে একাতœ হয়ে মানুষের পাশাপাশি থেকে মানুষের আস্থা অর্জন এবং মানুষকে নিয়ে শক্তিশালী দল গঠন এটাই এক নম্বর পরিকল্পনা হওয়া উচিত। যেখান থেকে দেশের বামপন্থীরা বহুদূরে আছে।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপনার দলের অবস্থান ও পদক্ষেপগুলো কিকি?
বিমল বিশ্বাস : আমাদের দলে উপর থেকে নীচ পর্র্যন্ত প্রতিটি বিষয়ে মতামত দেবার অধিকার রয়েছে তবে যথেষ্ঠ মাত্রায় গণতান্ত্রিক চর্চায় উন্নত না হলেও অন্তত ব্যাক্তির কথায় দল চলে না এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারি।
দেশের জনগণ যদি রুখে দাঁড়ায় এবং তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় তাহলে এ সমস্ত ক্ষমতাসীন দল মানুষের উপর যে শোষন চালাচ্ছে তা থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হবে। তাই জনগণকে একত্র করে তাদের সজাগ, সচেতন, ঐক্যবদ্ধ করা এবং অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: বর্তমান সংকট নিরসনে কি করনীয় বলে মনে করেন?
বিমল বিশ্বাস : উভয় দল বা জোটের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। আর যদি না হয় তাহলে দেশ ভয়াবহ অবস্থার দিকে যাবে যাতে লাভবান হবে দেশী বিদেশী অপশক্তি। যার ফলে দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: কিভাবে আপনার রাজনীতিতে আসা এবং বাম ধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া?
বিমল বিশ্বাস : ১৯৬২ সালে মজিদ খান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট ও হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনে দুই জন শহীদ হন। এই আন্দোলন আমাদের বর্তমান নড়াইল জেলায় গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং এই আন্দোলনে যোগদান করার মধ্য দিয়েই রাজনীতিতে আমার যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হওয়ার পর তা ভেঙ্গে গেলে আমি মেনন গ্রুপের সাথে থাকি এভাবেই বামধারার রাজনীতির সাথে আমার সম্পৃক্ততা। এরপর বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহন করি এবং এ পর্যন্ত ৫ বার কারাভোগ করি।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: আপনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সফলতা কি বলে মনে করেন?
বিমল বিশ্বাস : আমি মানুষের মুক্তির আদর্শ নিয়ে যে লড়াই শুরু করেছিলাম এখনও সেই লড়াইয়ে নির্ভীক ভাবে দাঁড়িয়ে আছি এবং অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে ছোট হলেও আমার কিছু অবদান আছে। বহুবার মৃত্যুর কাছাকাছি থেকেও ফিরে এসেছি, আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রথম থেকেই লড়াই করেছি। মূল কথা হচ্ছে মানব মুক্তির লড়াইয়ে যতক্ষন পর্যন্ত বিজয়ী না হচ্ছি ততক্ষন পর্যন্ত জীবনের পরিপূর্ন সফলতা বলতে যা বোঝায় তা বোঝাবে না।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: বাংলাদেশকে নিয়ে আপনি কি আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন?
বিমল বিশ্বাস : আশার আলো হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। আজ দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় গর্বের জায়গা হচ্ছে প্রবাশী শ্রমিকদের রেমিটেন্স, কৃষকের অর্জিত ফসল, গার্মেন্টস শিল্প প্রভৃতিসহ শ্রমজীবি মানুষের সম্পদ সুষ্টিতে অবদান। এবং সবচেয়ে ঘৃনার জায়গা হচ্ছে লুটেরা ধোনীক গোষ্ঠী যারা জনগণের সম্পদ লুট করে নিজস্ব সম্পদ তৈরি করছে, দেশকে ধ্বংশ করছে, জাতিকে ধ্বংশ করছে, অপরাজনীতি প্রতিষ্ঠা করছে এবং নিজেরা বিত্ত-বৈভব বৃদ্ধি করছে ঘৃনা করি তাদেরকে। আর শ্রদ্ধা করি দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবি মানুষ, শ্রমিক, ক্ষেতমজুর, দরিদ্র কৃষক, শহরবাসী, বস্তিবাসী, ভ্যানওয়ালা, গাড়িওয়ালা, সাংবাদিক, ডাক্তার, বুদ্ধিজীবি, জাতীয় ধনীক শ্রেণী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে। এরাই বাংলাদেশের সম্ভাবনা এবং এরা বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে নেবেই এ ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: দেশের মানুষ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি?
বিমল বিশ্বাস : কেউ কাউকে কিছু দেয় না। জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই, জনগণই হবে ক্ষমতার মালিক এবং তাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে হবে অন্যথায় তাদের জীবন থেকে দুর্ভোগ যাবে না।
হটনিউজ২৪বিডি.কম: হটনিউজ২৪বিডি.কম কে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ?
বিমল বিশ্বাস : আপনাদেরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।