অপরাধ জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

তিন তেহরিক-ই-তালিবানের জঙ্গি গ্রেফতার

 নিজস্ব প্রতিবেদক,হটনিউজ২৪বিডি.কম, ঢাকা, ২০ জানুয়ারি:  রাজধানীতে পাকিস্তান ভিত্তিক তেহরিক-ই-তালিবানের তিন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গিকে গ্রেফতার  করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার দিনগত রাত আনুমানিক এগারটার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল শিল্পকলা একাডেমির প্রধান গেইট থেকে তাদের গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মেহমুদ (২৬) পিতা: আলী আহম্মদ, জেলা: মালির, উসমান (২৩) পিতা: হাশেম আলী, জেলা: কৌরঙ্গি,  ও ফখরুল হাসান (৫০) পিতা: দরবেশ আলী, জেলা: কৌরঙ্গি, পাকিস্তান। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বোমা তৈরির ম্যানুয়াল, সমরাস্ত্র প্রশিক্ষণের তথ্যাদি সম্পর্কিত একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত তিনজনের মধ্যে  মেহমুদ ও উসমানের কাছে কোনো পাসপোর্ট ছিল না।  ফকরুল হাসানের কাছে  পাকিস্তানি পাসপোর্ট থাকলেও তাতে ভিসার মেয়াদ উর্ত্তীণ ছিল। তারা সকলেই কক্সবাজারের টেকনাফ অঞ্চলে যাওয়ার জন্য রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে। তাদের টেকনাফ যাওয়ার উদ্দেশ্য এবং এদেশে তাদের অন্য সহযোগীদের পরিচয় জানার জন্য গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে  জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা  দাবি করেন, সদ্য সমাপ্ত দশম সংসদ নির্বাচন পূর্বে কিংবা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ধ্বংসাত্মক কাজ করার জন্য তারা সংঘবদ্ধ হচ্ছে এমন গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা আরো জানান, গ্রেফতারকৃত তিন পাকিস্তানি উর্দুভাষী হলেও উসমান এবং ফকরুল  বাংলা  ভালো বলতে পারেন।  ফখরুল অপর দু’জনের গাইড হিসাবে তাদের  টেকনাফ নিয়ে যাচ্ছিল বলে তাদের বক্তব্য থেকে জানা গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের সূত্রগুলি থেকে আরো জানা গেছে , গ্রেফতারকৃত তিনজনই এক সময় মায়ানমারের আরাকানে বসবাস করতেন। পাকিস্তানে যাওয়ার পর সেদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।  তারা পাকিস্তানের ওয়াজিরস্তানের সীমান্ত এলাকায় ’তেহরিক-ই-তালিবান অব পাকিস্তানের কাছ থেকে  বোমা তৈরী, বোমা হামলা, বিভিন্ন প্রকার অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, যুদ্ধের কৌশল সম্বন্ধে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা এসব অভিযোগ স্বীকার করেন।  আরাকানে রেখে আসা আত্মীয় স্বজন ও সেখানকার জঙ্গি সংগঠনগুলির নেতাদের সঙ্গে যোগোযোগের জন্যই তারা টেকনাফ যাচ্ছিল বলেও পুলিশ দাবি করেছে। বাংলাদেশে অবস্থান সম্পর্কে তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।