জাতীয় নীলফামারী রংপুর লাইফ স্টাইল

ভালবাসার পাখি অপরুপ ডাহুক!

মো. আমিররুজ্জামান, নীলফামারী ১৯ জানুয়ারি : বাংলার এক অপরুপ পাখির নাম ডাহুক। কবিকুল তাকে ভালবাসার নিঃস্বার্থ প্রহেলিকা বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। নিসর্গের কবি জীবনানন্দ দাস এই ডাহুক পাখি নিয়ে লিখেছেন, “মালঞ্চে পুষ্পিতা অবনতামুখী/ নিদাঘের রৌদ্রতাপে একা সে ডাহুকী/ বিজন তরুণ শাখে ডাকে ধীরে ধীরে/ বনচ্ছায়া- অন্তরালে তরল তিমিরে”। সেকালের চন্ডিদাস একালের বাংলার কবি আল-মাহমুদের কবিতাতেও এই বর্ণিল পাখির কাব্যময় উপস্থিতি রয়েছে। আসলে পাখিটি চিরবিরহী প্রকৃতির। জলচর ডাহুক- ডাহুকির ভালবাসার গল্প অনেকটা আরব্য উপন্যাসের লাইলী- মজনু, শিরি- ফরহাদ, রজকিনী- চন্ডিদাস, আনারকলি- সেলিম কিংবা দেবদাস- পার্বতীর মতোই। বনে- বাদরে ঘুরে বেড়ানো এই ডাহুক- ডাহুকি শাশ্বত পলিটনিক ( দেহাতীত) ভালবাসার প্রতীক। সঙ্গীহীন হলে এরা পাগল হয়ে যায়। ডাহুক হারালে ডাহুকী দিনরাত ডাকতে ডাকতে গলা চিরে রক্ত ওঠে এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সঙ্গী ছাড়া এক মুহূর্ত নয়। কি অবাক ও মর্মান্তিক পাখি ডাহুক। তাই বুঝি বিদ্যাপতি, চন্ডিদাস, ফররুখ আহম্মেদ, জীবনানন্দ, আল-মাহমুদের কবিতার অলংকার হয়েছে ডাহুক পাখি। ভীরু, লাজুক, প্রেমিক পাখি ডাহুক পাখি কবিতার প্রতীক, উপমা উৎপ্রেক্ষায় অলংকিত হয়েছে। বড় বড় জলাভূমির পাজরের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকে ডাহুক। এরা মাঝারি আকারের পাখি। লেজ ছোট, পা লম্বা লম্বা। ৫২-৫৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পায়ের আঙ্গুলগুলোও বেশ লম্বা। মানুষ দেখলেই পলায়নপর পাখি। ডাহুকের গায়ের রং ধূসর- কালো খয়েরির মিশেলে। মাথা বুক সাদা। লেজ লালটে আভা। হলুদ ঠোঁটের উপরে লাল টুকটুকে একটি টয়া। এরা জলাভূমির কঢ়ুরিপানা অথবা শাপলা পাতার উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। পায়ের নখগুলো ভীষণ লম্বা বলে পানির উপর ঝোঁপ যেখানে সেখানেই এরা বাসা বানায়। প্রজননকাল জুন- সেপ্টেম্বর মাস। ডিম দেয় ৬/৭টি। ডিমের রং ফিকে হলুদ বা গোলাপি মেশানো সাদা। ডাহুক- ডাহুকী দু’জন মিলেই ডিমে তা দেয়। বাচ্চাদের রং সব সময় হয় কালো। জলজ পোকা- মাকড়, উদ্ভিদের কচি ডগা, শ্যাওলা এদের প্রিয় খাবার। ডাহুকের ইংরেজি নাম (চযবধংধহঃ ঞধরষবৎ ঔধপধহধ) আর বৈজ্ঞানিক নামও ওটাই । ডাহুকের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ লাললেজী কালো পাখি। রাতে ডাহুকের কোয়াক কোয়াক ডাক শুনেই চিনে নেওয়া যায়। বর্ষাতেই এ ডাক বেশি শোনা যায়। কিন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য মায়াবী ভালবাসার বর্ণিল এই পাখিটি প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। বাসস্থান আর নির্দয় শিকারীদের জন্য এই পাখিটি সহসা চোখে পড়েনা।