অর্থ ও বাণিজ্য প্রধান খবর

ফ্রিজ আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদী শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশীয় শিল্প বিকাশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানীর স্বার্থে দেশে তৈরি রেফ্রিজারেটর শিল্পকে উৎসাহিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় ফ্রিজ আমদানি নিরুৎসাহিত করার দাবিও করা হয়েছে। এজন্য ফ্রিজ আমদানিতে লিটার প্রতি টু ডোর ১ মার্কিন ডলার এবং সাইড বাই সাইড, থ্রি ডোর ও ডিসপ্লে প্যানেল ১.৫০ মার্কিন ডলার শুল্কায়নের জোর দাবি জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে বর্তমান শুল্ক হার লিটারপ্রতি দশমিক ৭৫ থেকে ১ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার।
বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর প্রধান কার্যালয়ে আমদানী পর্যায়ে রেফ্রিজারেটরের শুল্ক নির্ধারণী আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ রেফ্রিজারেটর ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যাসোসিয়েশন (বিআরএমএ) এর মহাসচিব লোকমান হোসেন আকাশ বলেন, দেশে বর্তমানে ৪টি দেশীয় রেফ্রিজারেটর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২২ লাখ ইউনিট। যার মধ্যে ওয়ালটনের উৎপাদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশী, বার্ষিক ১৪ লাখ। এছাড়া যমুনা ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোবাইলস কোম্পানী লিমিটেডের উৎপাদন ক্ষমতা ৩ লাখ, বাটারফ্লাই ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানীর ২ লাখ এবং এরএফএল ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের উৎপাদন ক্ষমতা ৩ লাখ। দেশে মোট বার্ষিক চাহিদা ৮ লাখের কিছু বেশি। অর্থ্যাৎ প্রায় ১৪ লাখ ইউনিট বেশী উৎপাদন করতে সক্ষম দেশীয় উৎপাদকরা। এরই মধ্যে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বিদেশে রপ্তানী শুরু করেছে। তাই আমদানি নিরুৎসাহিত এবং উৎপাদন উৎসাহিত করা হলে বাংলাদেশ একদিকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে। এখন আমদানি করতে যে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়, তার বদলে উল্টো বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। এজন্য বিষয়টি মাথায় রেখে আমদানির উপর দীর্ঘমেয়াদি শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারন জরুরী।
বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা দেশীয় শিল্প রক্ষায় সাময়িকভাবে নির্ধারিত লিটার প্রতি .৭৫ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি করে ১ মার্কিন ডলার এবং সাইড, থ্রি ডোর ও ডিসপ্লে প্যানেল ১.২০ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি করে ১.৫০ মার্কিন ডলার শুল্কায়নের ওপর জোর দেন।
এনবিআর সূত্র মতে, বিভিন্ন দেশ থেকে সরেজমিন তথ্য নিয়ে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন সমপরিমান শুল্কায়নের জন্য এনবিআর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছে। যা অত্যন্ত বাস্তবিক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফ্রিজের উৎপাদন মূল্য চায়না অরিজিন ডাবল ডোর ফ্রিজে লিটারপ্রতি ১.৪৬; থাইল্যান্ড অরিজিনের ক্ষেত্রে ১.৩৯; সাইড বাই সাইড, থ্রি ডোর, ডিসপ্লে প্যানেল এর ক্ষেত্রে চায়না অজিনি ২.৭৪ ও থাইল্যান্ড অরিজিন ৫.১১ ডলার। অথচ বর্তমানে শুল্কায়ন হচ্ছে তার চেয়েও কম মূল্যে। তারপরও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিতে আন্ডার ইনভয়েসিং হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ। কিছু আমদানিকারক লিটারপ্রতি মাত্র দশমিক ৪০ থেকে দশমিক ৫০ ডলার মূল্য দেখিয়ে
ফ্রিজ আমদানি করছে। যা আন্ডার ইনভয়েসিং এর বাস্ত প্রমাণ।
উৎপাদকদের যুক্তি হলো- বর্তমানে আমদানীকৃত পণ্যের মূল্য প্রকৃত মূল্যের চেয়েও অনেক বেশী। অর্থাৎ আন্ডার ইনভয়েসিং হচ্ছে। তাই এসব পণ্য আমদানির উপর শুল্ক কমানো যুক্তিযুক্ত নয়।
অবশ্য বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের পক্ষে তাদের নেতৃবৃন্দ আমদানি শুল্ক কমানোর দাবি জানান।
বৈঠকে উপস্থিত এনবিআরের শুল্ক বিষয়ক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেন। তিনি উভয় পক্ষকে আগামি দশ দিনের মধ্যে এবিষয়ে লিখিত বক্তব্য দেয়ার কথা বলেন। পরে উভয় পক্ষের যুক্তি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আব্দুল হক, ইলেক্ট্রনিক্স মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ সানাউল্লাহ, আরএফএল ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেডের প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম, ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক (পিআর এন্ড মিডিয়া) চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এবং নিবার্হী পরিচালক (পলিসি এন্ড এইচআরএম) এস এম জাহিদ হাসানসহ এনবিআর ও ট্যারিফ কমিশনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।