প্রযুক্তি

হতাশ থ্রিজি সেবা নিয়ে গ্রাহকরা

 আফিফা জামান, ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি :  তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন (থ্রিজি) প্রযুক্তির প্রত্যাশিত সেবা না পেয়ে হতাশ গ্রাহকরা। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই তড়িঘড়ি সেবাটি চালু করায় এমনটি হয়েছে বলে মনে করছেন এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।তাদের মতে, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত না করেই সেবাটি চালু করে দেশের বেসরকারি চার মোবাইল কোম্পানি গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল। গ্রাহক টানতে রীতিমতো প্রচারণার প্রতিযোগিতায় নামে তারা। নিয়ম মানতে লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রথম নয় মাসের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে এ সেবা চালু করতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে মনোযোগী হয় অপারেটরগুলো। ফলে গুণগত মানের দিকে তেমন একটা নজর দেওয়া হচ্ছে না।এদিকে ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক পরীক্ষামূলকভাবে থ্রিজি সেবা চালু করলেও সেবার ক্ষেত্রে তাদের অবস্থাও একই রকম। বর্তমানে অপারেটরটি সাত বিভাগীয় শহরসহ দেশের প্রায় ১৮টি জেলায় এ সেবা চালু করেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, রাজধানীর যেসব এলাকায় এ সেবা চালু রয়েছে বলে দাবি করছে অপারেটররা, সেসব এলাকাতেও প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল হ্যান্ডসেটে থ্রিজি চিহ্ন দেখা গেলেও ইন্টারনেটের গতি অনেকটা আগের মতোই। আবার কোথাও কোথাও সেবা দিচ্ছে টুজির (দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন প্রযুক্তি) মতোই। মূলত সেবার নাম পরিবর্তন ছাড়া মানের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।এ বিষয়ে অপারেটরগুলোর বিক্রয় ও গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় এমনটা হচ্ছে। শিগগির এর সমাধান হবে।শ্রীলঙ্কাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাইদ খান বলেন, কারিগরি সক্ষমতা যাচাই না করেই সেবাটি চালু করায় এমনটা হচ্ছে। তবে নতুন সেবা চালু করতে গিয়ে শুরুতে এমনটা হতেই পারে।অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির রাইজিংবিডিকে বলেন, টানা অবরোধ ও হরতালে থ্রিজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অপারেটরদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় থ্রিজি নেটওয়ার্কের যন্ত্রাংশ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। এতে নেটওয়ার্ক রোলআউট অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে।বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, থ্রিজি সেবার গুণগত মান এবং দামের বিষয়টি নজরদারির আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।সুনীল কান্তি বোস আরো বলেন, সেবার মান নিশ্চিত করতে এবং মূল্য নির্ধারণের জন্য একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে। গ্রাহকরা ইন্টারনেট গতি ঠিকমতো পাচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবে প্রতিষ্ঠানটি।এদিকে বহুল কাঙ্ক্ষিত থ্রিজি সেবার বিভিন্ন দামে হরেক রকমের প্যাকেজ ঘোষণা করেছে অপারেটররা। অপারেটরগুলো সেকেন্ডপ্রতি ২৫৬ কেপিবিএস থেকে ৩ এমপিবিএস গতিতে মাসিক ১ জিবি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ জিবি ডেটা ব্যবহারের জন্য এনেছে বিভিন্ন প্যাকেজ। এ ছাড়া রয়েছে তিন দিন থেকে শুরু করে ১৫ দিন মেয়াদি নানা প্যাকেজ, যা দামের দিক থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।থ্রিজির জন্য সরকারের বরাদ্দ ৪০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের মধ্যে নিলামের মাধ্যমে গত ৮ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ মেগাহার্টজ কিনে নেয় দেশের চারটি অপারেটর। এর মধ্যে গ্রামীণফোন ১০ মেগাহার্টজ এবং রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক ৫ মেগাহার্টজ করে মোট ১৫ মেগাহার্টজ। নিলামে প্রতি মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) বিক্রি হয় দুই কোটি ১০ লাখ ডলার। লাইসেন্স নেওয়ার পর গত অক্টোবরে বাণিজ্যিকভাবে এ সেবা চালু করে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবি। এয়ারটেল এ সেবা চালু করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। তবে ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে থ্রিজি সেবা চালু করে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক।