জাতীয় প্রধান খবর

বাংলাদেশে একতরফা নির্বাচনে ভারতের স্বার্থ হাসিল!

হটনিউজ ডেস্ক : যে কোনো হিসাবেই বলা যায়, ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন একপাক্ষিক। বিরোধীদলবিহীন ‘কলঙ্কের’ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৩২ টিই তাদের দখলে। এখন দুই-তৃতীয়াংশ আসন তাদের। কিন্তু মজার বিষয় হলো নির্বাচিতদের দুই-তৃতীয়াংশই জয়ী হয়েছেন বিনা নির্বাচনে। শপথও গ্রহণ করেছেন তারা। আগামীকাল (রোববার) গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা। এর ফলে স্পষ্টতই দেশে বিরাজ করছে একই সঙ্গে দুই সংসদ। যা দেশটির সংবিধানের ১২৩ (৩) এর (ক) ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের ভেতরেই।

নির্বাচনকে ‘ভুয়া’ উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবিতে হরতাল-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে  বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সব দলের অংশগ্রহণে নতুন একটি নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু সব দাবিকে উপেক্ষা করে নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে আওয়ামী জোট। সারাবিশ্বে এই নির্বাচনকে ঘিরে যখন সমালোচনার ঝড়। তখনো বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত এই নির্বাচনকে খোলামেলা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। হাসিনা সরকারের বৈধতার জন্য আন্তর্জাতিক মহলেও কূটনীতি জোরদার করেছে। এতে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে ভারত কেন এমনটা করছে ? তাদের স্বার্থটাই বা কী।

এনিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন-আইবিএন-এর বিদেশ সম্পাদক সুশানি হায়দার ‘বাংলাদেশকে সমর্থন’ শিরোনামে মতামত প্রকাশ করেছে ভারতের দ্যা হিন্দু পত্রিকা। শনিবার প্রকাশিত ওই লেখায় সুশানি হায়দার ঢাকা থেকে প্রকাশিত ঢাকা ট্রিবিউন-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দেন। সেখানে সামাজিক গণমাধ্যম কর্মী সাখাওয়াত রাব্বি ভারতের এই সমর্থনের সমালোচনা করে বলেন, অনেক বাংলাদেশি মনে করেন- ভারতীয়রা বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু নেতার নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। তারা বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনীর পোশাক পরে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব ব্যক্তিকে ভারত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।

অপরদিকে হাসিনা সরকারের জন্য পশ্চিমাবিশ্বেও কূটনীতি চালাচ্ছে ভারত।

এদিকে সুশানি হায়দার তার লেখায় বলেন, বাংলাদেশে কোন দল শাসন করছে সেটা অগ্রাহ্য করেই ভারত অবশ্যই এখানে ভূমিকা রাখবে। কারণ হিসেবে দুটি সাধারণ প্রতিশ্রুত বিষয়কে আনা যায়। দুই বছর আগে কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ঐতিহাসিক সফরে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সে সময় তিনি দুদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা স্থলসীমান্ত চুক্তি ও তিস্তা পানিবন্টন চুক্তির বিষয়টি সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সেই প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয় নি। যদিও বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে অনেক দেন-দরবার করেছে। কিন্তু সবশেষে ভারতের ‘অবিশ্বস্ততার’ বিষয়টিই উঠে এসেছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারত বাংলাদেশের সমর্থনে কাজ করতে পারে। গত বছরের ব্যাপক সহিংসতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৭৫ শতাংশ অবদান রাখা গার্মেন্টস খাত মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস কারখানা মালিক ও রফতানিকারক সংস্থা (বিজিএমইএ) এর হিসাবে,  মাত্র তিন মাসের সহিংসতায় ক্রয়াদেশ অর্ধেক কমে গেছে এবং  আগামী জুন মাসের মধ্যে এই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এক বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। গার্মেন্টস সেক্টরে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। এই অবস্থায় ভারতের ব্যবসায়ীদের সুযোগ না নেওয়ার কোনো কারণ নেই। তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলি-কমিউনিকেশন সেক্টরের ক্ষেত্রেও এটা হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ তারা তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকমিউনিকেশন খাতে অবশ্যই বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে। যা ইন্টানেটের গতির উপর দ্বিতীয় রেভ্যুলেশন তৈরি করবে।

বৃহৎ পরিসরে মূল যে বিষয়টা হবে তা হলো- বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে মহাসড়ক (হাইওয়ে) নির্মাণ এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে করিডোরের অবকাঠামো নির্মাণ। আর তা যদি হয় তাহলে আশিয়ান দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি ও আন্তঃনির্ভরশীলতা বাড়াতে এশিয়ান হাইওয়ে নির্মাণের সুবিধা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হবে।

সিএনএন-আইবএন-এর বিদেশ সম্পাদক সুশানি হায়দার আরো বলেন, এটা স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়ন নাও হতে পারে। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিক এই সংকট কাটাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে জামায়াতের সঙ্গ ছেড়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এই অবস্থায় ভারতের উচিত হবে দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলা, কোনো দলের পক্ষে নয়। যদি সব দল সমঝোতায় না আসে এবং সব দলের অংশগ্রহণে নতুন নির্বাচন না হয় তাহলে স্পষ্টভাবে বলা যায়, এই সংসদ হবে ক্ষণস্থায়ী। যেমনটা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভাষ্যকার থমাস কেইনে সম্প্রতি বলেছেন, সমাধানের জন্য কোন খারাপ নির্বাচন কোন নির্বাচন নয়।