জাতীয় নীলফামারী রংপুর

শীতে কাহিল লাখ লাখ মানুষ, পুরানো কাপড় কিনতে ফুটপাতে ভিড়

 মো. আমিররুজ্জামান, নীলফামারী ০৯ জানুয়ারি :  প্রকৃতির হাঁড় কাঁপানো শীত ও কুয়াশায় কাঁপছে নীলফামারীর জনপদের মানুষ। গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের মুখ দেখতে পায়নি এ জেলার মানুষ। ঘণ কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার দাপটে হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে এখানকার লাখ লাখ মানুষ। সারাদিন ঘণ কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে চারদিক। ঘণ কুয়াশার চাদর ভেদ করে উঁকি দিতে পারছে না সূর্য। গত কয়েকদিন ধরে রাত ৯টার পর থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশাপাত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস। খরকুটো জ্বালিয়ে আগুন তাপিয়ে শীতের দাপট থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে মানুষজন। ঘণ কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহনগুলোতে চলাচল করতে হচ্ছে। শীতে কাঁপছে হিমালয়ের কোলঘেঁষা দারিদ্র নিপীড়িত নীলফামারী জেলার দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। হাড় কাপানো শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে মানুষসহ গবাদিপশু। হিমালয় থেকে জেলার দুরত্ব খুব কাছে হওয়ায় ঘণ কুয়াশার কারণে এ সময়ে এলাকার মানুষ সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। সৈয়দপুরে বিমান আবহাওয়া অফিস জানায়, গত কয়েকদিন ধরে এ এলাকায় সূর্য আলো ছড়াতে পারছে না। তাপমাত্রা ৮ থেকে ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসে অবস্থান করছে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের পর তাপমাত্রা আরো নেমে যায়। ঘণ কুয়াশার কারণে দিন-রাতের মধ্যে খুব একটা ব্যবধান নেই। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি হয়ে উঠছে ভয়াবহ। শীত মৌসুমের শুরুতেই স্মরণকালের ঘণ কুয়াশাপাত হচ্ছে এ জেলায় । দিনভর প্রচন্ড শীতের ফলে ক্ষেতমজুর ও শ্রমজীবীরা কাজ করতে না পেরে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকছে অপরদিকে বিপাকে পরেছেন স্কুলগামী ছেলে ও মেয়েরা। বাসাবাড়িতেও দিনের বেলায় ঘরের বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে গৃহস্থালির কাজকর্ম করছেন গৃহিনীরা। দুপুরের পর থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সন্ধ্যার আগেই পথঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এদিকে শীতের কবল থেকে মানুষকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান,রাজনৈতিক ও সচেতন মানুষদের শীতার্তদের পাশে দাড়ানো আহবান জানাচ্ছেন সমাজের সুধী মহল। অপরদিকে জেলার ছমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সৈয়দপুরে রেললাইনের উপর বসা ফুটপাতের পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্র বিক্রি ও কেনার হিড়িক পড়েছে।