অর্থ ও বাণিজ্য

আশার আলো জাগাচ্ছে ইপিজেডগুলো

নিয়াজ , ঢাকা, ২ জানুয়ারি : চলমান রাজনৈতি অস্থিরতায় কোনো সু-খবর দিতে পারছে না অর্থনীতির সূচকগুলো। তবে নানা প্রতিবন্ধকতায়ও ভালো খবর দিচ্ছে দেশের ৮ ইপিজেডের বিনিয়োগ।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কমেই চলছে। ঠিক সে মুহূর্তে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত অর্থনীতিতে ইপিজেডগুলো আশার আলো জোগাচ্ছো বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

ইপিজেড নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (বেপজা) সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের (২০০১৩-১৪) প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশের ৮টি ইপিজেডে বিনিয়োগ বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এ সময়ে ইপিজেডগুলোতে ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে। যা আগের অর্থবছরে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

বেপজা সূত্রে আরো জানা যায়, গত পাঁচ মাসে প্রায় ৬ কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ হয়েছে ঢাকা ইপিজেডে। যা অন্য সব ইপিজেড থেকে এগিয়ে। এরপর আদমজী ইপিজেডে ৪ কোটি ডলার, চট্টগ্রাম ইপিজেডে ৩ কোটি ২১ লাখ ডলার, কর্ণফুলী ইপিজেডে ১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার, উত্তরা ইপিজেডে ৬২ লাখ ডলার, কুমিল্লা ও মংলা ইপিজেডে ৪০ লাখ ডলার করে নতুন বিনিয়োগ হয়েছে।

এদিকে গত অর্থবছরেও (২০১২-১৩) ইপিজেডগুলোর বিনিয়োগ ও রপ্তানি ছিলো ইতিবাচক। এ সময়ে ইপিজেডগুলোর মাধ্যমে ৪৮৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে বিদেশে। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫০ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রার ৩৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার বেশি এসেছে এই খাত থেকে । মোট রপ্তানি আয়ে ইপিজেডগুলোর অবদান ১৮ শতাংশ ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইপিজেপগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ায় রপ্তানিও বাড়ছে। আর এর ফলে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান বড় জায়গা।

তাদের মতে, সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির ফলে দেশজুড়ে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তাতে ইপিজেডগুলোর বিনিয়োগ পরিবেশ অনেকটাই নিরাপদ। রাজনৈতিক হানাহানির প্রভাব পড়ছে না ইপিজেডগুলোতে। এর ফলে বিনিয়োগ ক্রমেই বাড়ছে।

বেপজার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীর রাইজিংবিডিকে জানান, সারাদেশের তুলনায় বেপজার পরিবেশ অনেক সংরক্ষিত এবং নিরাপদ। বিনিয়োগকারিরা বাহিরে নিরাপদ মনে করছেন না। তাই ইপিজেডমুখি বিনিয়োগ করছেন নতুন-পুরানো বিনিয়োগকারিরা।

বেপজা নতুন বিনিয়োগের জন্য পাঁচটি বিদেশি এবং চারটি দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জানিয়ে সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান খান রাইজিংবিডিকে বলেন, ইপিজেডগুলোর উন্নয়নে বেপজা কাজ করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো ইতিবাচক থাকলে রপ্তানি আয় আরো বেশি হতো বলে জানান তিনি।