কৃষি দিনাজপুর রংপুর

অবরোধে সব্জি নিয়ে চাষীরা বিপাকে

মো.নুরুন্নবী বাবু.দিনাজপুর প্রতিনিধি :
শষ্য ভান্ডার খ্যাত দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার উৎপাদিত মৌসুমী সব্জি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। বিক্রি করে মজুরের মূল্যও না পাওয়ায় অনেকের ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে সব্জি। আবার অনেকে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন তাদের উৎপাদিত সব্জি। অন্যদিকে সব্জি বিক্রি করে ঋণ  শোধ করার কথায় ধার নেয়া টাকা পরিশোধ করতে না পারায় লজ্জায় পাওনাদারদের এড়িয়ে যাচ্ছেন অনেক ঋণগ্রস্থ সব্জি চাষী।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহ্ আলম জানান, এবার উপজেলায় শীতকালীন সব্জির ব্যাপক আবাদ হয়েছে এবং ফলনও আশানুরুপ হয়েছে। বেশ খোশ মেজাজেই ছিলেন সব্জি চাষীরা। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে টানা অবরোধ আর হরতালের কারণে ক্ষেত  থেকে সব্জি তুলে বাজারে পাঠাতে পারছেন না চাষীরা।
উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামের সব্জি চাষী মামুনুর রশদি জানান, অনেক কষ্টে সব্জি বাজারে পৌঁছলেও তা দীর্ঘ সময় প্রক্রিয়াধীন থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে দাম এতো কম হচ্ছে যে উৎপাদন খরচও উঠছে না। হাবিবপুর গ্রামের রোকোনুজ্জামান রোকন মাষ্টার জানান, অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং টানা অবরোধ আর হরতালের কারণে ক্ষেত থেকে সব্জি তুলে বিক্রি করতে পারছিনা। তাছাড়া উৎপাদন খরচ তোলায় দায়। মাহমুদপুর গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আমরা সাধারণ সব্জি চাষীরা সরকার ও বিরোধী দলের টানা অবরোধ আর হরতালের যাঁতা কলে পিষ্ঠ হয়ে গেছি।  বাহির থেকে পাইকাড় আসতে না পারায় পানির দামে সব্জি বিক্রি করতে হচ্ছে। এবারে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে যাবে।
বিরামপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ২ টাকা থেকে ৩ টাকা, সিম ৪ টাকা থেকে ৬ টাকা, ফুল কপি ৪ টাকা থেকে ৬ টাকা, পাতা কপি ২ টাকা থেকে ৪ টাকা, মুলা ১ টাকা থেকে ২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা দরে। শাক বিক্রি হচ্ছে আরও কম দামে। ধনিয়া পাতা এক কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪ টাকা থেকে ৮ টাকায় ।
অনেকেই চাষী আবার তাদের পুঁজি হারিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। অনেকই ব্যাংক/ এনজিও অথবা দাদন নিয়েছেন কিন্তু এখন তা পরিশোধ করতে পারছেন না।
এ অবস্থায় আসছে রবি মৌসুমে অনেক কৃষকই বিপাকে পড়বেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা ভুক্তভোগী চাষীরা।