অর্থ ও বাণিজ্য

২৮৫ কোটি টাকা বেশি ব্যয়ে ইঞ্জিন কিনেছে রেলওয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর: ১৬টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন ক্রয় করতে ২৮৫ কোটি টাকা বেশি ব্যয় করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ইঞ্জিনগুলো কেনা হয়েছে ভারত থেকে। যার আন্তর্জাতিক বাজারদর হওয়ার কথা ছিল ৩২৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। কিন্তু এগুলো কেনা হয়েছে ভ্যাটসহ প্রায় ৬০৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ২৮৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ইঞ্জিনগুলো কেনায় ভারতের রেইটস লিমিটেডের সঙ্গে ২০১২ সালের ১০ জুন চুক্তি হয়। এক্ষেত্রে ভারত ঋণ দিচ্ছে ৪২৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আর সরকারের তহবিল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৮০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

১৬টি ইঞ্জিনের দামে ৩০টি ইঞ্জিন ক্রয় করার কথা ছিল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় ১৬টি ইঞ্জিন কিনছে রেলওয়ে।

রেলওয়ের তথ্যমতে, ভারত থেকে ৩০টি ইঞ্জিন কেনার আগে বিভিন্ন দেশের দর যাচাই করা হয়। সে হিসাবে প্রতিটি ইঞ্জিনের দাম ধরা হয় (ভ্যাট ছাড়া) ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কাস্টম শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য করসহ ইঞ্জিনপ্রতি মোট ব্যয় হওয়ার কথা ২০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। সে অনুযায়ী ৩০টি ইঞ্জিন কেনায় ৬০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্প চূড়ান্ত ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন করা হয়। কিন্তু দরপত্র আহ্বানের পর ভারতের রেইটস লিমিটেড প্রতিটি ইঞ্জিনের দাম প্রস্তাব করে (ভ্যাট ছাড়া) ২৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ভ্যাট ও অন্যান্য করসহ ইঞ্জিনপ্রতি ব্যয় দাঁড়ায় ৩৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। এতে ৩০টি ইঞ্জিন কেনায় ব্যয় দাঁড়ায় ১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ডলার ক্রেডিট লাইন ঋণের আওতায় ভারতের রেইটস লিমিটেড ইঞ্জিনগুলো সরবরাহ করছে।

ইঞ্জিনগুলো কেনায় ৫৩৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত দরকার হলেও তার সংস্থান পায়নি রেলওয়ে। ফলে প্রকল্প কাটছাঁট করা হয়। এক্ষেত্রে ৩০টির পরিবর্তে ১৬টি ইঞ্জিন কেনার চুক্তি হয়। এতে ব্যয় দাঁড়ায় ৬০৯ কোটি টাকা। ৩০টির পরিবর্তে ১৬টি ইঞ্জিন কিনে রেলওয়ের গচ্চা দিতে হচ্ছে ২৮৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবু তাহের বলেন, ভারত থেকে কেনা ইঞ্জিনের দাম নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তবে ভারতের ডলার ক্রেডিট লাইন ঋণের অন্যতম শর্ত ছিল দেশটি থেকে কেনাকাটা করতে হবে। তাই বেশি দামেই ইঞ্জিনগুলো কিনতে হয়েছে।

অতিরিক্ত ব্যয়ে কেনা হলেও ইঞ্জিনগুলোর মান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ভারত থেকে রেলের ইঞ্জিন কেনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সুখকর নয়। এর আগে ১৯৯৮-৯৯ সালে দেশটি থেকে ছয়টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন কেনা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোর মান খুব বেশি ভালো না হওয়ায় কিছু দিন পর পরই ওয়ার্কশপে পাঠানো হয়।