কৃষি চট্টগ্রাম চাঁদপুর বরিশাল ভোলা

ভোলায় শতাধিক হেক্টর জমিতে আলু চাষ : ভালো বীজ না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা

এম. শরীফ হোসাইন, ভোলা :  ভোলায় রবি শস্য আলু চাষে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ বছর ভোলা সদর উপজেলায় পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে শতাধিক হেক্টর জমিতে আলুর বীজ রোপন করার এক মাস অতিবাহিত হলেও বীজের আঙ্কুরোধম হয়নি। এতে সাধারণ কৃষকরা চরম হতাশায় ভুগছে। শনিবার সকালে সরেজমিন ঘুরে সদর উপজেলার পূর্ব চর ইলিশা ও গুপ্তমুন্সী ব্লকের কৃষকদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানাগেছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানায়, প্রতিবছর তারা বিএডিসি ডিলারের কাছ থেকে ক্রয় বীজ দিয়েই আলুর চাষ করে। অনেক কৃষক বীজ সংগ্রহ করার জন্য পূর্ব থেকেই বীজ ব্যবাসায়ী ডিলারদের টাকা দিয়ে থাকেন। ভোলা সদর উপজেলায় বিএডিসি’র ডিলারা ভেজাল বীজ মিশিয়ে কৃষকদের হাতে দেয়ায় অভিযোগ উঠেছে। কৃষকরা বিএডিসি বীজ মনে করে জমিতে রোপন করে। কিন্তু এক মাস পরও জমিতে আলু অংকুরোদম না হওয়ায় কৃষকরা কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির পরিমান গুনতে হচ্ছে।
কৃষক সামছুদ্দিন জানায়, ভোলা নতুন বাজারে বিএডিসি’র ডিলার মেসার্স সোহাগ ট্রেডার্স তার কাছ থেকে ২শ’ ২৫ ব্যাগ বি-গ্রেড আলুর দাম ১ লাখ উনচল্লিশ হাজার পাচঁশত টাকা নেয়। টাকা নেয়ার সময় মেসার্স সোহাগ ট্রেডার্স’’র মালিক নাজিম উদ্দিন ও হেলাল ফরিদপুর থেকে আলুর বীজ দিবে বলে জানায়। কিন্তু নাজিম ও সোহাগ চাদপুর জোন থেকে ডায়মন্ড নামে আলুর বীজ দেয়। কিন্তু আসলে মেসার্স সোহাগ ট্রেডার্স’’র আলু ব্যাগের গায়ে লেভেল লাগিয়ে ও চাদপুর জোনের কিছু অসাধুপায়ী কর্মকর্তার সহায়তায় বাহির থেকে বীজ কিনে আমাদেরকে বিএডিসির বীজ বলে চালিয়ে দেয়। যার ফলে জমিতে আলুর বীজ রোপনের সময় বেবধান দেখতে পেয়েছি অন্যান্য ডিলারদের দেয়া বীজের মধ্যে। বিএডিসির সিল থাকায় আমরা সেসময় জমিতে বীজ রোপন করছি। আর এত আমার ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আরো ২০/২২ জন কৃষকরা জানায়, তারাও মেসার্স সোহাগ ট্রেডার্স এর কাছ থেকে বীজ নিয়েছে। বীজ নেয়ার সময় কৃষকদেরকে আলুর বীজ ক্রয়ের ম্যামো দেয়া হয়নি। জমিতে আলু গাছ না উঠায় কৃষকদের মনে সংসয় দেখা দিয়েছে। তাদের পাশের জমিতে অন্য ডিলার এর কাছ থেকে নেয়া বীজের এখন গাছ প্রায় এক হাত।
এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার বশির উদ্দিন ও মিলন চন্দ্র দে জানায়, মেসার্স সোহাগ ট্রেডার্স’’র বীজ হয়তো ভাল ছিলনা। ২০/২২ জন কৃষকের ক্ষেত ঘুরে দেখছি কোন আলুর অঙ্কুরোদম হয়নি। বিষয়টি আমরা উপজেলা কৃষি কর্মকতাকে জানিয়েছি। তবে কৃষকদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ছে। অন্য সকল ডিলার থেকে বীজ নেয়া কৃষকরা ভাল ফলাফল পেয়েছে। এ ব্যাপারে মেসার্স সোহাগ ট্রেডার্স’র সাথে আলাপ করতে গেলে দোকান টি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সামছুদ্দিন আলম চৌধুরী জানায়, কৃষকরা আমাকে ঘটনাটি জানিয়েছে। উপসহকারী কৃষি অফিসার বশির উদ্দিন ও মিলন চন্দ্র সে স্থানে কর্মরত আছে। আমি চাঁদপুর যোনের বিএডিসিকে জানিয়েছি। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে কেন কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হল। তবে তাপমাএার কারনে এমনটি হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।