জাতীয় মৌলভীবাজার সিলেট

সাধারন যাত্রীরা ভোগান্তীর শিকার মৌলভীবাজারে যাত্রীদের আন্তনগর ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার জেলায় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সিলেট থেকে ছেড়ে আশা ঢাকাগামী আন্তনগর ট্রেন কোনো সময় কুলাউড়া জংশন রেলস্টেশন পৌঁছবে যাত্রীদের সঠিক সে সময় বলতে নারাজ স্টেশনের দায়িত্বরত সহকারী মাস্টার কামরুল ইসলাম। এক পর্যায়ে জনৈক মাস্টারকে তার নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের দরজা তালা দিয়ে ভেতরে বসে আড্ডা দিতে দেখা যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম হতাশায় পড়েন। একমাত্র ভরসা বাস থাকলেও তাও বন্ধ রয়েছে। সাধারন যাত্রীরা ভোগান্তীর শিকার ।
কুলাউড়া স্টেশনের এক সাধারণ যাত্রী এনামুল ইসলাম জানান, তিনি তার বৃদ্ধমাকে নিয়ে ঢাকায় ডাক্তার দেখাতে যাবেন কিন্তু যখন দায়িত্বরত মাস্টারকে জিজ্ঞেস করেন, কোন সময় ঢাকাগামী পারাবত ট্রেনটি কুলাউড়া প্লাটফরমে আসবে তখন মাস্টার বলেন, ‘বাড়িতে চলে যান। বিএনপির কাম শেষ। ঢাকায় যেতে পারবেন না।’ সরকারি কর্মচারির এমন আচরণে সাধারন যাত্রীরা হতাশায় ভুগছেন।
ট্রেনের সাধারণ যাত্রীরা ‘অঘোষিত সরকারি হরতাল’ শুরু হয়েছে বলে অনেকে প্রকাশ্যে দাবি করছেন। তবে সরকারবিরোধীরা বলছেন, ১৮ দলের ডাকা ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ ঠেকানোর পদক্ষেপ এটি। আরও বিপরীতচিত্র শুক্রবার সন্ধায় ও শনিবার সকালে কুলাউড়া জংশন স্টেশনের প্লাটফরমে দেখা যায়। যারা অগ্রিম টিকেট কিনেছিলেন তা ফেরত দেয়া শুরু করেন সাধারণ যাত্রীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্টেশনের কর্মচারীরা বলছেন, এ বিপর্যয় শেষ হবে যখন বিএনপি, আওয়ামী লীগের সমন্বয়ে একটি সঠিক নির্বাচন হবে।
কুলাউড়া জংশন স্টেশন মাস্টার মাহিদুর রহমানকে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের কারণ জানতে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, সরাকারি চাকরি করতে গেলে ‘সরকারি দলের’ যখন যে নির্দেশ দেয়া হয় তা শতভাগ তাদের মানতে হয়। আবার যারা অগ্রিম টিকেট কিনেছেন তাদের টিকেটের সমাধান তাদের দিতে হয়। এক পর্যায়ে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে আমরা কোন দিকে যাবো?’
এদিকে পরিবহন শ্রমিক নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল থেকেই সারা জেলার দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আরও জানানো হয়, আন্তনগর ট্রেনের সময় সূচি সরকারিভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এ খবরে অনেক যাত্রী সকাল থেকে বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ভিড় করছেন। সেখানেও বাস পায়নি মানুষ সরকার দলীয় হরতালে পড়েছে বলে তারা জানান।