রাজনীতি

রাজধানী পাহারায় নগর আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর: বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি মোকাবিলায় রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর আটটি পয়েন্টে পাহারা দেবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ।

এ ছাড়া দলটির সাংগঠনিক ১০০টি ওয়ার্ড ও ১৮টি ইউনিয়নে দলের নেতা-কর্মীরা মাথায় পতাকা বেঁধে লাঠি হাতে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

শনিবার রাতে রাইজিংবিডির সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা বলেন, রাজধানীর আটটি এলাকাকে ভাগ করে পাহারায় থাকবে নগর আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। পাহারা দেয়া হবে টীমভিত্তিক। স্থানীয় নেতারা ওই টীমের দায়িত্বে থাকবেন। শনিবারেই এই পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

রাজধানীর আটটি পয়েন্ট

১. ডেমরা, শ্যামপুর ও যাত্রাবাড়ী: আওয়ামী লীগের এ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা হলেন স্থানীয় সাংসদ সানজিদা খানম, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ ওরফে মুন্না। আগামীকাল ভোর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থান নেবেন।

২. উত্তরা, আজমপুর ও বিমানবন্দর: এ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা হলেন স্থানীয় সাংসদ সাহারা খাতুন, বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাকছুদুর রহমান ওরফে মাছুম, উত্তরা থানার সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসানসহ স্থানীয় যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ।

৩. সদরঘাট, সোয়ারীঘাট ও বাবুপুরা ব্রিজ: এ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হলেন স্থানীয় সাংসদ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। সঙ্গে থাকবেন কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ওরফে পর্বত, সূত্রাপুর থানা সভাপতি আবু আহাম্মেদ মান্নাফী প্রমুখ।

৪. গাবতলী ও আমিনবাজার: এ এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হলেন স্থানীয় সাংসদ আসলামুল হক, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা ও মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা। এ ছাড়া এই টিমটি মিরপুর-১-এ অবস্থান নেবে।

৫. কমলাপুর রেলস্টেশন: মালিবাগ মোড়, শাহজাহানপুরের আমতলা, আইডিয়াল স্কুলের সামনে এবং কমলাপুরে আইসিডি মোড়ে অবস্থান নেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে কমলাপুরে প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেবেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান এবং সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণ কমলাপুর রেলস্টেশনের রাস্তায় বিক্ষোভ সমাবেশ করবে।

৬. ফার্মগেট: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার প্রবেশমুখ হলো ফার্মগেট। তাই ফার্মগেট এলাকাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মনে করছে দলটি। এই এলাকায় পাহারার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হলেন স্থানীয় সাংসদ আসাদুজ্জামান খান ওরফে কামাল।

৭. মহাখালী: এ এলাকায় অবস্থান নেবেন ক্যান্টনমেন্ট ও গুলশান থানা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াকিল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান নেব।’

৮. তুরাগ থানা এলাকা: আশুলিয়া ও আবদুল্লাপুর এলাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ এ এলাকায় অবস্থান নেবে।

এর আগে শনিবার রাতে এক কর্মসূচিতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা যাতে রাজধানীতে ঢুকতে না পারে সে জন্য নেতা-কর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার আশপাশের জেলার নেতাদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ওই সব এলাকা থেকে ঢাকায় যেন কোনো লোক না আসতে পারে।