জাতীয় প্রধান খবর

‘অঘোষিত অন্তরীণ’ খালেদা জিয়া!

ঢাকা, ২৮ডিসেম্বর : ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। অনেকটা ‘অঘোষিত অন্তরীণ’ করে রাখা হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার রাত ৮টার দিকে হঠাৎ করেই খালেদা জিয়ার বাসভবনের নিরাপত্তা আরো বাড়ানো হয়। এর পাশাপাশি খালেদা জিয়ার সরকারি নিরাপত্তা প্রটোকলও সরিয়ে নেওয়া হয়।

এদিকে নিরাপত্তা জোরদারের নামে খালেদা জিয়ার বাসার দুই পাশে বেষ্টনী দিয়ে সবধরণের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বেষ্টনীর পাশে পুলিশের গাড়িও আড়াআড়ি ভাবে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে দুইটি বালির ট্রাকও রাখা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা সদস্য মোতায়েন ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে মহিলা পুলিশের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

দলের ভারপ্রপ্ত মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাসভবন ও তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়সহ নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় সরকার কর্তৃক অবরূদ্ধ। নেতা-কর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে যা একদলীয় ও ফ্যাসিষ্ট সরকারের গণতন্ত্রের বিকৃত নমুনা হিসেবেই জনগণ মনে করে।

এর আগেও হরতাল ঘোষণার পর গত ৮ নভেম্বর রাত থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিরোধীদলীয় নেতার বাসার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা দেয়ার জন্যই বাসার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ওই সময় গুঞ্জন ওঠে, যে কোনো সময় বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে তাকে গ্রেফতার করা না হলেও ওই সময় চেয়ারপারসনের বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুল আউলায় মিন্টু ও বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসকে পুলিশ আটক করে।

দলীয় সূত্র জানায়, এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এছাড়া খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ এসকান্দারের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানেও যাওয়ার কথা ছিল। এর আগে হঠাৎ করেই নিরাপত্তার এই কড়াকড়ি।

বিএনপি চেয়ারপারসন সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসেছিলেন। ওই দিন দলের শীর্ষ কোনো নেতা না আসলেও সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। এর আগে বুধবার তিনি বড়দিনের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এখানে আসেন। আর মঙ্গলবার ‘গণতন্ত্র অভিযাত্রা’র কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

যদিও বিএনপি চেয়ারপারসন নিজের যোগ দেয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে  ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপি চেয়াপারসন বলেন, ‘কোনো কারণে আমি না থাকলেও কর্মসূচিতে শরিক হয়ে আন্দোলন সফল করবেন। সকল প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে আপনারা ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় গণতন্ত্র রক্ষার সমাবেশে শরিক হবেন।’

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, ‘আমি আপনাদের পাশে আছি, থাকব সবসময়। যদি আমি আপনাদের পাশে থাকতে না পারি, তাহলেও আপনারা এই কর্মসূচি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন ।’

৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিহতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। কর্মসূচি ঘোষণার পরই মধ্যরাত থেকে তার বাসভবন ও গুলশান কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

খালেদা জিয়া ‘অবরুদ্ধ’হচ্ছেন এমন গুঞ্জনও ওঠে। তবে বুধবার খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও বৃহস্পতিবার যথারীতি অফিস করেন তিনি। তবে এ সময় দলের শীর্ষ কোনো নেতাকেই তার কাছে ভিড়তে দেয়া হয়নি।

বাসভনে দেখা করতে এসে মঙ্গলবার পুলিশের জেরার মুখে ফিরে যান বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ জয়নাল আবদিন ফারুক। পরদিন বুধবার বাসভবনের সামনে থেকে দলের সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে আটক করে পুলিশ। অবশ্য এর কিছুক্ষন পরেই বড়দিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কার্যালয়ে যান বিএনপি চেয়াপারসন। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতাদের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে এসেও ফিরে যান ড. আর এ গনি, ড. আবদুল মঈন খান, উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, শফিক রেহমান খন্দকার মাহবুব হোসেন, শাম্মী আকতার এমপি। তবে এর মধ্যে শাম্মী আকতারকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর এ গণিকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো চারজনকে ওই দিন আটক করা হয়।

তবে সাংবাদিক ও আইনজীবিদের দুটি পৃথক প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। বৃহস্পতিবারও তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। বিএনপি প্রধান ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ তে নয়াপল্টনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।