জাতীয়

রাজধানীতে যৌথ বাহিনী হাতে ১০৫০ জনের তালিকা

ঢাকা, ২৬ ডিসেম্বর: পেট্রলবোমা ছুড়ে নিরীহ মানুষ হত্যা, বিস্ফোরণ এবং যানবাহনে আগুন দিয়ে জনগণ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধনকারী এবং তাদের ইন্ধনদাতাদের বিশাল তালিকা নিয়ে রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে নেমেছে যৌথ বাহিনী। বুধবার মধ্যরাত থেকে যৌথ বাহিনীর ওই অভিযান শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সূত্রটি জানায়, ১০৫০ জনের বিশাল এক তালিকা নিয়ে অভিযানের শুরুতেই আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে ৫৫ জনকে। তবে তাদের মধ্যে যৌথ বাহিনীর তালিকাভুক্ত কেউ নেই। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

‘রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা করার পরই যৌথ বাহিনীর এই অভিযান শুরু হয়েছে’- দাবি করে মহানগর পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় কম্বিং অপারেশন শুরু করেছে পুলিশ, র‌্যাব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী।

ওই কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে আরো বলেন, আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল বা বাধাগ্রস্ত করার মতো যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। আবার পরিস্থিতি বুঝে অভিযান অব্যাহত রাখা হতে পারে বলেও ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আভাস দেন।

অন্যদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আহ্বানে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। তারা যাতে ঢাকার হোটেলগুলোতে অবস্থান করতে না পারেন, সে জন্য রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আজ রাতে ওই সব হোটেলে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলতে পারে বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, সরকার কর্মসূচিতে বাধা দিতে পারে- আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীরা। অধিকাংশ নেতা-কর্মীরই শুক্রবারের মধ্যে ঢাকায় আসার পরিকল্পনায় রয়েছেন বলে সংস্থাটির কাছে তথ্য রয়েছে। এসব কর্মী বাহিনী ছদ্মবেশসহ নানা গোপন পরিচয়ে ঢাকায় এসে অবস্থান নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা।

আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে তারা রাজধানীর হোটেলগুলোতে না উঠে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের বাসায় উঠতে পারেন। রাজধানী এবং আশপাশের এলাকার মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোতে অবস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধী দলের ক্যাডার-কর্মীদের।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের ডাকা টানা ৮৩ ঘণ্টার অবরোধ শেষে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এ কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে প্রহসনমূলক নির্বাচনকে ‘না’ ও গণতন্ত্রকে ‘হ্যাঁ’ বলুন।