অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

ব্যবসায়ীদের তীব্র ক্ষোভ পাকিস্তানের ভূমিকায়

 অর্থনৈতিক প্রতিবেদক,ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর:  দেশে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায়ের বিষয়ে পাকিস্তানের আইনসভায় নিন্দা ও শোক-প্রস্তাব গ্রহণ করায় তীব্র ক্ষোভ ‍ও নিন্দা জানিয়েছেন শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।

একই সঙ্গে একটি নিন্দা-প্রস্তাব এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠন সার্ক চেম্বার এবং পাকিস্তানের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব পাকিস্তান চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতেও পাঠাবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

আজ রোববার বিকেলে দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের জরুরি পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে সংগঠনটির জনসংযোগ বিভাগ জানায়।

সভায় ভবিষ্যতে সুষ্ঠু বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে পাকিস্তানের আইনসভার প্রস্তাব অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় অর্থনীতি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন তারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, বিশেষ করে, কয়েক মাস ধরে চলমান হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি, সেই সঙ্গে দেশব্যাপী অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে চরমভাবে ব্যাহত করছে।

সভায় চলমান অস্থিরতায় পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে বিশেষ নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানান ব্যবসায়ীরা।

সংগঠনটির জরুরি সভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখার স্বার্থে ছয়টি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো : এসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ অব্যাহত রাখার বিষয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রদত্ত বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৪-তে উল্লেখিত সুবিধাদি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ছাড়াও সব খাতের শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক, সেবা প্রতিষ্ঠানের ঋণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা; সব খাতের ব্যাংক ঋণের সুদের স্প্রেড ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা; কমপক্ষে আগামী দুই বছর শূন্য মার্জিনে এলসি খোলার সুবিধা প্রদান; সব শিল্পের মেয়াদি ঋণ এবং চলতি মূলধন ঋণের ক্ষেত্রে যথাক্রমে-১৫ বছর এবং ১০ বছর মেয়াদি পুনঃতফসিলের সুবিধা প্রদান; চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিল্প/বাণিজ্য/সেবা প্রতিষ্ঠানের ইউটিলিটি (গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ) বিল বকেয়ার জন্য লাইন বিচ্ছিন্ন না করা এবং এ পরিস্থিতিতে সব শিল্প-বাণিজ্য, সেবাপ্রতিষ্ঠানের ভ্যাট, শুল্ক, কর প্রভৃতি ২০১৪ সালের  জুন পর্যন্ত যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনা।