চট্টগ্রাম শিক্ষাঙ্গন

চাকসু নির্বাচন ২৩ বছর বন্ধ

 ক্যাম্পাস প্রতিবেদক, চবি, ২২ ডিসেম্বর:  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯০ সালে ছাত্র ঐক্য নেতা ফারুকুজ্জামান নিহত হওয়ার অযুহাতে বন্ধ করে দেয়া হয় চাকসু নির্বাচন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত অকেজো হয়ে পড়ে আছে ছাত্র-ছাত্রীদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চার প্রাণ কেন্দ্রটি। অথচ চাকসু পরিচালনার জন্য প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

জানা যায়, ১৯৬৬ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত চাকসুর নির্বাচন হয় মাত্র ছয় বার। প্রথম কেবিনেট নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। পরের বছর ১৯৭১ সালেই হয় এর পরের নির্বাচন।

এর পর ১৯৭৩ ও ১৯৮০ সালে হয় পরবর্তী দুইটি নির্বাচন। সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ফেবরুয়ারিতে। চাকসুর প্রথম ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং সর্বশেষ ভিপি হন মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। তবে ১৯৯০ সালের ২২ ডিসেম্বর মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামীর মদদ পুষ্ট ছাত্র সংগঠন ইসলামী  ছাত্রশিবিরের হাতে ছাত্র ঐক্য নেতা ফারুকুজ্জামান নিহতের পর চাকসুর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সেই থেকে এই পর্যন্ত আর নির্বাচন হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ এই পর্ষদটির। চাকসু কেন্দ্রে নিয়োজিত আছেন পরিচালক ও সহকারী পরিচালকসহ ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। সর্বশেষ কমিটির ২২ বছর অতিবাহিত হলেও এই কমিটিকে এখনও বিলুপ্ত ঘোষণা করেনি প্রশাসন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিবছর চাকসুর পেছনে ৬ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও তার প্রকৃত হিসাব মেলা ভার।

চাকসু নির্বাচন না হওয়া বিষয়ে চবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘আমরা চাই চাকসু নির্বাচন হোক। তবে এ ক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে সেগুলো অনতিবিলম্বে দূর করে চাকসু নির্বাচন হওয়া উচিত।’

বিগত সময়ের প্রশাসনও চাকসু নির্বাচনের বিষয়ে একই কথা বলেছেন। পরিবেশ তৈরি করে নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছিলেন তারা সবাই। কিন্তু সব সময় সেই আশ্বাস থেকে গেছে আশ্বাসই। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রশাসনের আশ্বাসকে কার্যকর হিসেবে দেখতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ হাজার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন গুলোর মূল দাবি এখন চাকসু নির্বাচন। তবে সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন নির্বাচনের দাবি তাদের।

চবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক স¤পাদক রুবায়েত হোসেন নিপুন বলেন, ‘চাকসুর নির্বাচন এখন সকলের প্রাণের দাবি। তবে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে নির্বাচন উপযোগী করতে হবে। নির্বাচনের আগে পুরো প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। একই সঙ্গে ক্যা¤পাসে সকল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। চাকসু কমিটি থাকলে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় আরও সহজ হবে।’

চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু বলেন, ‘ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয় চাকসু নির্বাচন আমাদেরও দাবি। তবে তার আগে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ, সবার সহাবস্থান ও প্রশসানিক নিরপেক্ষতা তৈরি হওয়া দরকার।’

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমরা সব সময়ই চাকসু নির্বাচনের পক্ষে আছি। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে উদ্যেগী হতে হবে। অন্যদিকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের বিষয়টিও আছে।’ সাধারণ শিক্ষার্থীরাও চাকসু নির্বাচনের দাবি করেছেন।

এদিকে চাকসু নির্বাচন না হওয়ায় বন্ধ হয়ে আছে হল সংসদের নির্বাচনও। ফলে হলের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে রয়েছে বন্ধাত্ব। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে প্রশাসনে শিক্ষার্থীদের একজন প্রতিনিধি থাকবে। আর এতে করে ছাত্রদের মৌলিক দাবিগুলো প্রশাসন থেকে সহজে আদায় করা যাবে বলে মনে করছেন ছাত্র-ছাত্রীসহ সংশিষ্টরা।

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক, চবি, ২২ ডিসেম্বর: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯০ সালে ছাত্র ঐক্য নেতা ফারুকুজ্জামান নিহত হওয়ার অযুহাতে বন্ধ করে দেয়া হয় চাকসু নির্বাচন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত অকেজো হয়ে পড়ে আছে ছাত্র-ছাত্রীদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চার প্রাণ কেন্দ্রটি। অথচ চাকসু পরিচালনার জন্য প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

জানা যায়, ১৯৬৬ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত চাকসুর নির্বাচন হয় মাত্র ছয় বার। প্রথম কেবিনেট নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। পরের বছর ১৯৭১ সালেই হয় এর পরের নির্বাচন।

এর পর ১৯৭৩ ও ১৯৮০ সালে হয় পরবর্তী দুইটি নির্বাচন। সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ফেবরুয়ারিতে। চাকসুর প্রথম ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং সর্বশেষ ভিপি হন মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। তবে ১৯৯০ সালের ২২ ডিসেম্বর মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামীর মদদ পুষ্ট ছাত্র সংগঠন ইসলামী  ছাত্রশিবিরের হাতে ছাত্র ঐক্য নেতা ফারুকুজ্জামান নিহতের পর চাকসুর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সেই থেকে এই পর্যন্ত আর নির্বাচন হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ এই পর্ষদটির। চাকসু কেন্দ্রে নিয়োজিত আছেন পরিচালক ও সহকারী পরিচালকসহ ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। সর্বশেষ কমিটির ২২ বছর অতিবাহিত হলেও এই কমিটিকে এখনও বিলুপ্ত ঘোষণা করেনি প্রশাসন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিবছর চাকসুর পেছনে ৬ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও তার প্রকৃত হিসাব মেলা ভার।

চাকসু নির্বাচন না হওয়া বিষয়ে চবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘আমরা চাই চাকসু নির্বাচন হোক। তবে এ ক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে সেগুলো অনতিবিলম্বে দূর করে চাকসু নির্বাচন হওয়া উচিত।’

বিগত সময়ের প্রশাসনও চাকসু নির্বাচনের বিষয়ে একই কথা বলেছেন। পরিবেশ তৈরি করে নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছিলেন তারা সবাই। কিন্তু সব সময় সেই আশ্বাস থেকে গেছে আশ্বাসই। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রশাসনের আশ্বাসকে কার্যকর হিসেবে দেখতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ হাজার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন গুলোর মূল দাবি এখন চাকসু নির্বাচন। তবে সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন নির্বাচনের দাবি তাদের।

চবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক স¤পাদক রুবায়েত হোসেন নিপুন বলেন, ‘চাকসুর নির্বাচন এখন সকলের প্রাণের দাবি। তবে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে নির্বাচন উপযোগী করতে হবে। নির্বাচনের আগে পুরো প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। একই সঙ্গে ক্যা¤পাসে সকল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্রলীগ সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। চাকসু কমিটি থাকলে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় আরও সহজ হবে।’

চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু বলেন, ‘ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয় চাকসু নির্বাচন আমাদেরও দাবি। তবে তার আগে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ, সবার সহাবস্থান ও প্রশসানিক নিরপেক্ষতা তৈরি হওয়া দরকার।’

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমরা সব সময়ই চাকসু নির্বাচনের পক্ষে আছি। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে উদ্যেগী হতে হবে। অন্যদিকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের বিষয়টিও আছে।’ সাধারণ শিক্ষার্থীরাও চাকসু নির্বাচনের দাবি করেছেন।

এদিকে চাকসু নির্বাচন না হওয়ায় বন্ধ হয়ে আছে হল সংসদের নির্বাচনও। ফলে হলের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে রয়েছে বন্ধাত্ব। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে প্রশাসনে শিক্ষার্থীদের একজন প্রতিনিধি থাকবে। আর এতে করে ছাত্রদের মৌলিক দাবিগুলো প্রশাসন থেকে সহজে আদায় করা যাবে বলে মনে করছেন ছাত্র-ছাত্রীসহ সংশিষ্টরা।