অপরাধ জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

গোপীবাগে ৬ জনকে জবাই, আটক ৯

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর:  রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের একটি বাড়িতে ছয় জনকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ৬৪/৬ নম্বরে চার তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতরা হলেন, ভাড়াটে লুৎফর রহমান ফারুক (৫৫), তার ছেলে সরোয়ারুল ইসলাম ফারুক (৩০), শাহিন (৩২), সোহরাব (৩২), রুবেল (৩০), এবং বাড়ির কেয়ারটেকার মঞ্জু (৩০)। এদের মধ্যে এক ঘরে দুই জনের গলাকাটা লাশ পাওয়া গেছে। অন্য আরেকটি ঘরে পাওয়া গেছে বাকি চার জনের লাশ।

নিহত ফারুকের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। তিনি এলাকায় একজন পীর হিসেবে আলোচিত ছিলেন। তবে নিজেকে হজরত ইমাম মাহাদীর সৈনিক দাবী করতেন বলে বেশ সমালোচিতও ছিলেন।

ওয়ারি জোনের উপ-কমিশনার ইলিয়াস শরীফ জানান, তারা সন্ধ্যায় ওই ছয় জনের জবাই করা লাশ উদ্ধার করেছেন। তবে হত্যার মোটিভ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

ওয়ারী জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান জানান, ফারুক নিজেকে আধ্যাত্নিক গুরু বলে দাবি করতেন। এজন্যে তার কাছে অনেক ধরণের লোকজন আসতেন। নিহতদের মধ্যে সেরকম তিনজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ওই বাড়ির নিচ তলায় ছাত্রদের একটি মেস রয়েছে। সেখান থেকে ছয় জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। পরে পঞ্চাশোর্ধ এক মুরিদকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এরপর রাত ১টায় এই হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে আরও ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন শাহিদা বেগম ও গোলাম মোস্তফা। সম্পর্কে এই দুজন পীর ফারুকের বেয়াই-বেয়াইন। এ নিয়ে আটকের সংখ্যা ৯ জনে দাঁড়ালো।

মেহেদি বলেন, পাশের আরেকটি ঘর থেকে পাঁচজন মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সবার হাত-পা বাধা এবং মুখে স্কচটেপ লাগানো ছিল। উদ্ধার হওয়া পাঁচ নারীরা হলেন- পীর ফারুকের স্ত্রী সালমা বেগম, পুত্রবধু বিথী, দুই মেয়ে ও এক মেয়ের ঘরের নাতনি।

ফারুকের স্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ৮ জন সশস্ত্র যুবক হঠাৎ করে তাদের বাসায় ঢুকে পড়ে। তারা বলে যে, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা এখানে আশ্রয় নিয়েছে। কিছুক্ষণ পরেই তারা চলে যাবে। এরপর তারা সবাই একত্রে মাগরিবের নামাজ পড়ে। নামাজের পরই মহিলাদের একঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটায় তারা। সেসময় তাদের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

তবে বাড়ির মালিক ওয়ালিউর রহমানের সঙ্গে পুলিশ এখনো কথা বলতে পারেনি বলে জানান মেহেদি হাসান।

এদিকে ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, ফারুককে হত্যার পরিকল্পনা খুনিদের অনেক আগে থেকেই ছিল। তাকে হত্যা করতে এসে সেসময় বাড়িতে থাকা ফারুকের ছেলে মনিরকে, কেয়ারটেকার ও বাকি তিন মুরিদকেও হত্যাকরা হয়েছে বলে জানান তিনি। তারা পরিস্থিতির শিকার হয়েছে ধারণা করা হচ্ছে। খুনিরা এঘটনাকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে চেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।