আন্তর্জাতিক সাহিত্য

ভারত-বাংলাদেশের লেখক – বুদ্ধিজীবীরা- মৌলবাদের সমালোচনায়

 নির্জন চক্রবর্তী, কলকাতা, ২১ ডিসেম্বর:  শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভবনে সৈয়দ  নৌসর আলী কক্ষে ‘সোনার বাংলা-মুক্ত ভাবনা না মৌলবাদ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশে  মৌলবাদীদের বর্তমান সহিংসতা এবং ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত বাংলাদেশের কবি- সাহিত্যক – বুদ্ধিজীবীরা।

ওই আলোচনা সভায় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক লেখক শাহরিয়ার কবির, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায়, বিধায়ক অসিত মিত্র, কলকাতার বাংলাদেশ কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি তোফাজ্জেল হোসেন, ভারত-বাংলাদেশ  মৈত্রী সমন্বয় কমিটির সভাপতি অজয় দে প্রমুখ।

বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় মৌলবাদকে গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠা করতে গেলে আগে মৌলবাদকে  নির্মূল করতে করতে হবে। একাজে সমাজের শিক্ষিত সমাজসহ বুদ্ধিজীবীদের  এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা উল্লেখ করে বিশিষ্ট সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, ভারতের সাহায্য ছাড়াও এই স্বাধীনতা কখনই সম্ভব হত না। ভারত  যেভাবে সাহায্য করেছিল সেই নজির ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে আছে। কিন্তু মৌলবাদের উত্থানে সেই স্বাধীন বাংলাদেশে আজ অস্থির হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসের আগুনে জ্বলছে। চারদিকে হানাহানি, দেশের সম্পত্তি নষ্ট করছে, মানুষ পুড়িয়ে মারছে, বাস, ট্রেনে আগুল লাগানো হচ্ছে,  রেল লাইন উপড়ে ফেলা হচ্ছে। এমনকি পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শাহরিয়ার কবির।

তিনি আরো বলেন, আর এই কাজে বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে জামায়াতে ইসলাম। অবিলম্বে এই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। তার অভিযোগ ৭১’এর পরাজয়ের প্রতিশোধ  নেওয়ার জন্য, যুদ্ধাপরাধদের বিচারপ্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন বানচাল করতে পরিকল্পিতভাবে ওই কাজ করছে।

জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির পর পাকিস্তানের পার্লামেন্টে  যেভাবে নিন্দা প্রস্তাব পাশ হয়েছে তাঁর কড়া নিন্দা করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিয়য় কিন্তু সেখানে পাকিস্তান যেভাবে নাক গলাচ্ছে তা কোনোভাবেই মেনে  নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, প্রতিবেশি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অত্যন্ত সুসম্পর্ক আছে, ভবিষ্যতেও এটা বজায় রাখতে হবে। দুদেশের মধ্যে যদি এই মৈত্রী না থাকে নাহলে  কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।  সেই  মৈত্রীতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মৌলবাদ শক্তি। এখনই এই  মৌলবাদকে ধ্বংস করতে না পারলে সেদেশের উন্নতির অগ্রগতি থমকে যাবে বলে মনে করেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়। কিন্তু আজ দেশজুড়ে ফের সেই মৌলবাদ মাথাচাঁড়া দিয়ে উঠেছে। তার অভিযোগ রাজনৈতিক শক্তির আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে বাংলাদেশে মৌলবাদ রাজনীতির বিকাশ শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সাল থেকে। এই মৌলবাদ শক্তিকে ধ্বংস করতে না পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ভাষা, সংস্কৃতি এক হওয়ার কারণে বাংলাদেশকে কখনই আলাদা রাষ্ট্র বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, অন্যদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে আমাদের কখনই নাক গলানো ঠিক হবে না।  সেদেশের জনগণ কাকে নির্বাচিত করবেন, কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেবেন তা তারাই ঠিক করবেন। এবিষয়ে ভারত নাক গলাবে না। তবে এটুকু বলা যায়, আমরা চাই  সেদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক।