অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

সালতামামি-২০১৩; পুঁজিবাজারে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২১ কোটি টাকা

 শানজানা জামান, ঢাকা, ২১ ডিসেম্বর: পুঁজিবাজারে সূচকের পতন স্বাভাবিক। কিন্তু ২০১০ সাল থেকে দেশের পুঁজিবাজারে পতনই যেন নিয়ম। পতনের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। টানা দরপতনে চলতি বছরে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। ১৬টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও আশানুরূপ বৃদ্ধি পায়নি বাজার মূলধন। কাজে আসেনি নানা প্রণোদনা প্যাকেজ।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরজুড়েই রাজনৈতিক সহিংসতা থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটে লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে ২০১০-এর ধসে আস্থা সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেননি বিনিয়োগকারীরা। অধিকাংশ বিনিয়োগকারী তাদের পুঁজির প্রায় সবটুকুই হারিয়েছেন এ বছর। এমনকি যারা নতুন করে এ সময় বিনিয়োগ করেছিলেন, শেয়ারবাজারে ধস অব্যাহত থাকায় তারাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়।
ডিএসইর বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৩১ কার্যদিবস লেনদেন হয়। মোট লেনদেনের পরিমাণ দাড়াঁয় ৯২ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। এ বছর গড় লেনদেন দাড়াঁয় ৩৯৯ কোটি টাকা।
অন্যদিকে গত বছর (২০১২সালে) ২৩৮ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৯৯ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। চলতি বছরে লেনদেন কমেছে ৭ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। চলতি বছর গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৯৯ কোটি টাকা। আর গত বছর এর গড় লেনদেন ছিল ৪২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ দৈনিক  গড় লেনদেন কমেছে ২১ কোটি টাকা।
বিনিয়োগকারীরা জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকায় আস্থার সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে শেয়ারবাজারে ধস অব্যাহত থাকলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনের সংস্কার হলেও চলমান সংকট কাটাতে তা কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।
ডিএসইর পরিচালকরা জানান, চলতি বছরে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ যে অবস্থানে এসেছে, তা আরও বাড়তে পারতো। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়। তবে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ডিএসইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তারা।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ রাইজিংবিডিকে বলেন, ২০১০ সাল থেকে পুঁজিবাজার এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বাজারে আছে তারল্য সংকট। আর এর চেয়েও বড় হলো, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট। এখানে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর ওপর আবার রাজনৈতিক অস্থিরতা, যা বাজারকে পতনের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।