জাতীয় ঢাকা

বাঙ্গালিদের ব্রিটেনে পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর:  যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর পাকিস্তান পার্লামেন্টে এর প্রতিবাদে নিন্দা প্রস্তাব নেয়ার প্রতিবাদে ব্রিটেনে পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন প্রবাসী বাঙালিরা।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় কেন্দ্রীয় লন্ডনে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

হাইকমিশন ভবনের মূল প্রবেশ ফটকের সামনে ৭৩টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত আইসিটি সাপোর্ট ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক প্রবাসী অংশ নেন। মূল প্রবেশ ফটকের সামনে বিক্ষোভে পাকিস্তান হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানালেও বিক্ষোভকারীরা পাক হাইকমিশন কর্মকর্তাদের এই আপত্তি আমলে নেননি।

মূল প্রবেশ ফটকের সামনে থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে হাইকমিশন কর্মকর্তারা পুলিশের শরণাপন্ন হলে পূর্বানুমতি থাকায় বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশও রাজি হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে পাক হাইকমিশন কর্মকর্তারা বিক্ষোভ আয়োজকদের টেলিফোন করে স্মারকলিপি গ্রহণ না করার কথা জানায়।

আইসিটি সাপোর্ট ফোরামের সংগঠক নঈমুদ্দিন রিয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, প্রবাসী বাঙালিদের বিক্ষোভ কর্মসূচির খবরে পাক হাইকমিশন কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকটা অস্বস্তি কাজ করছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাঁরা আমাদের টেলিফোন করে বিক্ষোভ বিষয়ে বিভিন্ন শর্ত দিতে থাকে।

একপর্যায়ে তাঁরা তাদের মূল প্রবেশফটকের সামনে বিক্ষোভ করা যাবে না বলে আমাদের জানায়। আমরা তাদের জানাই পুলিশের অনুমতি নিয়ে বিক্ষোভ করছি, কিছু বলার থাকলে তাঁরা যেন পুলিশকে বলে। তারা পুলিশে অভিযোগ করলে সেখানেও সাড়া পায়নি।

মূল প্রবেশ দ্বারে ঘন্টাখানেক অবস্থান করার পর বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে আইসিটি সাপোর্ট ফোরাম নেতা জালাল উদ্দিন, সৈয়দ ফারুক, নঈমুদ্দিন রিয়াজ, সৈয়দ আনাস পাশা, জামাল খান, ঝলক পাল, শাহাব উদ্দিন চঞ্চল ও অজন্তা দেব রায়ের নেতৃত্বে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।

হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি গ্রহণ করলেও সংবাদকর্মীদের কাছে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্মারকলিপিতে পাকিস্তানের প্রতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে প্রস্তাব নেয়াকে আন্তর্জাতিক কুটনৈতিক রীতিনীতির চূড়ান্ত লঙ্ঘন মন্তব্য করে অবিলম্বে এই প্রস্তাব প্রত্যাহার ও এর জন্যে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানানো হয়। পাশাপাশি একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাইতেও বলা হয় পাকিস্তানকে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, কাদের মোল্লা বাংলাদেশের একজন নাগরিক, যিনি দেশটির জন্মলগ্নে গণহত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবোনাল যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে, যা বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টও অনুমোদন দেয়।

স্মারকলিপিতে একাত্তরের গণহত্যার জন্যে অবিলম্বে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়ে, কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে পাক পার্লামেন্টে নেয়া প্রস্তাব প্রত্যাহারের জন্যে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানানো হয়।

স্মারক লিপি প্রদান শেষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আইসিটি সাপোর্ট ফোরাম নেতা সৈয়দ ফারুক গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তান পার্লামেন্টের প্রস্তাব এটাই প্রমাণ করে গোলাম আযম-নিজামীর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নয়, পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল। ওরা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়। ওরা পাকিস্তানের স্বার্থ সংরক্ষনের জন্যেই বাংলাদেশে তৎপর রয়েছে।’

লন্ডন গণজাগরণ মঞ্চের মূখপাত্র অজন্তা দেব রায় বলেন, ‘আমাদের পূর্ব প্রজন্ম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে প্রমাণ করে গেছেন বাঙালি পরাজয় স্বীকারের জাতি নয়। সুতরাং ঐ প্রজন্মের উত্তরসূরী হিসেবে ২০১৩ সালে আমরাও প্রমাণ করতে চাই পরাজয় শব্দ আমাদের ডিকশনারিতে নেই। পাকিস্তান যদি আন্তর্জাতিক রীতি নীতি অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর চেষ্টা করে তবে ৭১এর ইতিহাসের পুনরাভিত্তির জন্যে আবারও তারাই দায়ি হবে।’

সংগঠনটির আরেক নেতা আনসার আহমেদ উল্লা বলেন, ‘পাকিস্তানি তালেবান কর্তৃক বাংলাদেশ দূতাবাসকে দেয়া হুমকি এটিই প্রমাণ করে তালেবান, আলকায়েদার সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক রয়েছে।’