গাইবান্ধা জাতীয় রংপুর রাজনীতি

নাশকতা ঠেকাতে গাইবান্ধায় এক কাতারে আ.লীগ-বিএনপি

 গাইবান্ধা প্রতিনিধি, ১৯ ডিসেম্বর:  এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাশকতা রোধে একমত হয়েছে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত বুধবার রাতে সাদুল্যাপুর প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা উপজেলাকে দাঙ্গা-হাঙ্গামামুক্ত রাখা এবং নিজ নিজ  দলের কেন্দ্রীয় সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। সাদুল্যাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি প্রভাষক মাহমুদুল হক মিলনের সভাপতিত্বে তিন ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনায় অংশ নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক এস টি এম রুহুল আলম, মোস্তাফিজার রহমান মিন্টু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস ছালাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শাহ মো. ফজলুল হক রানা, সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন, যুবদল সভাপতি আবদুল হামিদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, ছাত্রলীগ সভাপতি মোনতেজার রহমান চঞ্চল, ছাত্রদল আহ্বায়ক রেজওয়ান হোসেন সুজন, যুগ্ম আহ্বায়ক বাশার, জেলা ছাত্রদলের সদস্য আনোয়ার হোসেন রাখু, মাসুদ আকন্দ, তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব এস এম জাকির হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান নাহিদ, মামুন, ওয়াই এইচ আর রিয়াদ। এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সাদুল্যাপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন সাদুল্যাপুর বণিক সমিতির সভাপতি শফিউল স্বপন, ব্যবসায়ী সামসুজ্জোহা প্রামাণিক রাঙ্গা ও বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কাইয়ুম হুদা। এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর উপজেলার জামালপুর বাজারে জামায়াত-শিবিরের হামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খান বিপ্লব গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই হামলার পর সাদুল্যাপুর শহরে বিএনপির নেতা ডা. মইনুল হাসান সাদিকের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ, যুবদল সভাপতির মোটরসাইকেলে আগুন ও দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে এক টেবিলে বসানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুস ছালাম বলেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে অতীতের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমরা প্রেসক্লাবে বসে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা-পরিস্থিতি ভালো রাখতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দলীয় কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছি।’ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিএনপির মিছিল দেখলে মোটরসাইকেল থামিয়ে তাদের সম্মান দেখাই। সেজন্য বিএনপির বন্ধুদের জানিয়েছি, আপনারা জামাত-শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে কোনো দলীয় কর্মসূচি পালন করবেন না। তাহলে সবার মধ্যে রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় থাকবে।’ বণিক সমিতির সভাপতি শফিউল স্বপন বলেন, এ পর্যন্ত সাদুল্যাপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে কখনো দ্বন্দ্ব হয়নি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেনি। তাই ভবিষ্যতেও যাতে কোনো দ্বন্দ্ব না হয়, সেজন্যই দুই দলকে একত্রে বসানো হয়েছে।