আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে কংগ্রেস-আম আদমি জোট সরকার হতে পারে

বিণয় সিকদার, কোলকাতা, ১৪ ডিসেম্বর: ভারতের রাজধানী রাজ্য দিল্লিতে কংগ্রেসের সমর্থনে জোট সরকার গঠন করতে পারে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়ী আম আদমি পার্টি।কংগ্রেস বাইরে থেকে নিঃশর্ত সমর্থন দিতে প্রস্তুত। শনিবার সকালে সরকার গঠনের জন্য কোনও রকম সিদ্ধান্তে আসার আগে দিল্লির লেফটেন্যান্ট জেনারেল নজিব জঙ্গের কাছে ১০ দিনের সময় চেয়ে নিলেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। যদিও শুরু থেকেই আম আদমি পার্টি বলে আসছে, কংগ্রেস বা বিজেপি কারও সমর্থন তারা নেবে না, কিংবা দেবেও না। তারা বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে অথবা ফের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে।
কিন্তু শুক্রবার সকালে সবাইকে কিছুটা চমকে দিয়ে আম আদমি পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা কুমার বিশ্বাস বলেন, সব বিকল্পই খোলা রয়েছে। কুমার বিশ্বাসের এই বক্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি দিল্লিতে সরকার গঠনের কথা ভাবছে আম আদমি পার্টি? এই প্রেক্ষাপটেই শুক্রবার ফের সাংবাদিক সম্মেলন করেন আম আদমি পার্টির আরেক শীর্ষ নেতা যোগেন্দ্র যাদব। সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের নেই কিংবা তারা দল ভাঙার রাজনীতি করবেন না- এরকম নানা কথা বললেও আম আদমি পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে কিনা তা নিয়ে কোন কথা বলেননি তিনি।

এরপরই  রাতে উপ-রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে সরকার গঠনের  ক্ষেত্রে আম আদমি পার্টিকে সমর্থনের কথা জানান দিল্লির ভারপ্রাপ্ত কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ। সেক্ষেত্রে  কংগ্রেসের সমর্থন নিলে আম আদমি পার্টির ২৮জন বিধায়কের সঙ্গে কংগ্রেসর ৮জন মিলে ৩৬ হয়ে যাবে। অর্থাৎ সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যা চলে আসবে।

কিন্তু যে আম আদমি পার্টি দিল্লি থেকে কংগ্রেসকে উৎখাত করেছে, তাদেরই কেন সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এটা কংগ্রেসের কৌশল হতে পারে।

তারা হয়তো ভাবছেন, যে বিপুল প্রতিশ্রুত দিয়ে আম আদমি পার্টি ক্ষমতায় এসেছে, সরকার গঠন করলে তারা সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবে না। ফলে জনগণের সামনে কেজরিওয়ালদের আসল চেহারা বেরিয়ে পড়বে।  তাতে কংগ্রেসেরই লাভ হবে। আবার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী সম্ভবত বুঝতে পেরেছেন, দিল্লির অংশের ভোটার তাদের নয়, আম আদমি পার্টির সরকার দেখতে চেয়েছে। তাই জনতার উদ্দেশ্যে ইতিবাচক বার্তা দিতেই আম আদমি পার্টিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিলেন রাহুল। এখন কেজরিওয়াল কী বলেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।