ঢাকা শিক্ষাঙ্গন

শুক্রবার এখন শিক্ষাবার

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর: চলমান রাজনৈতিক সহিংস কর্মসূচির কারণে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছেনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে। তাই সপ্তাহের জমানো ক্লাস বাধ্য হয়ে নিতে হচ্ছে ছুটির দিন শুক্রবারে। এতে যেমন চাপে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা, তেমনই বিপাকে অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সারা সপ্তাহের ক্লাস একদিনে নিতেগিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নাজেহাল অবস্থা।
শুক্রবার রাজধানীর বেশকয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ক্লাস হচ্ছে। তবে কমানো হয়েছে ক্লাসের সময়সীমা। আর এক দিনেই যেহেতু পুরো সপ্তাহের ক্লাস নিতে হচ্ছে তাই সকাল থেকে শুরু হয়ে সারা দিন ক্লাসে থাকতে হচ্ছে। সপ্তাহের একটি বিশেষদিন শুক্রবার। জুমার দিন হিসেবেও রয়েছে দিনটির আলাদা গুরুত্ব। তাছাড়া এই দিনটিতে সবাই চায় প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে, কোথাও ঘুরতে, একটু বসতে। প্রিয়জনদের সাথে প্রিয় কিছু মুহূর্ত কাটাতে। কিন্তু শুক্রবারে পুরো সপ্তাহের ক্লাসের চাপ থাকার কারণে তা আর উপভোগ করতে পারছেনা শিক্ষর্থীরা। শুধু তারাই নয়, তাদের সাথে সাথে অভিভাবকরাও বঞ্চিত হচ্ছে সাপ্তাহিক অবকাশের সুযোগ থেকে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এখন আর সন্তানকে একা স্কুল বা কলেজে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না অভিভাবকরা। তাই হাত ধরে বা খুব সাবধানে শুক্রবারের দিনটিতেও স্কুল বা কলেজে নিয়ে যাচ্ছেন অভিভাবকরা। যার প্রমাণ মেলে রাজধানীর শুক্রবারের দৃশ্যে। রাস্তায় সাধারণ মানুষ কম। সব রাস্তাতেই দেখা যায় স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। শুক্রবারের ক্লাসের প্রসঙ্গে কথা হয় রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমরানের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এমনি সময় আমাদের ক্লাস হয় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, আর এখন হচ্ছে মাত্র ৪০ মিনিট। এই অল্পসময়ের ক্লাসে ঢুকতে ঢুকতেই ক্লাসটাইম ওভার হয়ে যায়। স্যাররাও ঠিকমতো বোঝাতে পারেন না। উত্তরায়, উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র সাগর রাইজিংবিডিকে জানান, তাদের ও প্রায় একই অবস্থা। ভার্সিটিগুলোর মতো এখন স্কুলেও ক্লাস হচ্ছে সংক্ষিপ্ত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, `এই ভাবে ক্লাস করা যায়? পুরো সপ্তাহের ক্লাস করতে হয় এক দিনে, তাও আবার শুক্রবার জুমার দিনে। এভাবে কতদিন আর সংক্ষিপ্ত ক্লাস করবো।` স্কুল পড়ুয়া এই শিক্ষার্থী রাজনীতিকদের উদ্দেশে একটি প্রশ্ন করেন,  `ক্লাসতো সংক্ষিপ্ত হচ্ছে কিন্তু সামনে বার্ষিক পরীক্ষা। সেটাও কি সংক্ষিপ্ত হবে?` এভাবে দিনের পর দিন চলতে থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এটাই এখন সকলের প্রশ্ন। রাজনৈতিক অস্থিরতা একটা সময় থেমে যাবে এবং স্বাভাবিকও হয়ে যাবে। কিন্তু যেসব শিক্ষার্থী এখন পুরো সপ্তাহের ক্লাস সংক্ষিপ্ত আকারে একদিনে করছেন তাদের ঘাটতি কে পোষাবে?