জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

বিএনপির প্রস্তাবে হাসিনার তিন বিকল্প

 স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজ২৪বিডি.কম,(১৪ডিসেম্বর) ঢাকা:  নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগের তিন জনের নাম প্রস্তাব করেছেন বিএনপি নেতারা। বিশিষ্ট এই তিন ব্যক্তিত্ব হলেন- রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, স্পিকার শিরিন সুলতানা এবং সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার (বীর উত্তম)।   তবে বিএনপির প্রথম পছন্দ একে খন্দকার বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের তৃতীয় দফা বৈঠকে বিএনপি নেতারা এ প্রস্তাব দেন বলে জানা গেছে। যেহেতু বিএনপি হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না, সেহেতু নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়েই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে।

জানা যায়, বিএনপির পক্ষ থেকে ওই তিন জনের নাম প্রস্তাব করা হলেও এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি দেশের এ প্রধান দুই দল। এছাড়া বৈঠকে দুইপক্ষ থেকে দেয়া কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে কথা হয়। অবশ্য সব আলোচনাই অমীমাংসিত রেখে শেষ হয় বৈঠক।

শুক্রবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে গুলশান-২ এর ১১০ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাড়িতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি প্রায় দুই ঘণ্টা চলে। এতে নেতৃত্ব দেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ও উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিনিধি নীল ওয়াকার। তবে তিনি বৈঠকে কোনো প্রস্তাব দেননি বলে সূত্র জানায়।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর রিজভী।

এছাড়া বিএনপির পক্ষে ছিলেন- ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার বিকল্প হিসেবে তিনটি নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তাদের প্রথম পছন্দ হলেন সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার (বীর উত্তম), দ্বিতীয় পছন্দ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং তৃতীয় বর্তমান সংসদের স্পিকার শিরিন সুলতানা। এ প্রস্তাব নিয়ে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার পর জানানো হবে বলে বিএনপি নেতাদের বলা হয়।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়, শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন। তবে তার নির্বাহী ক্ষমতা খর্ব করা হবে। এ প্রস্তাবটি বিএনপি নেতারাও তাৎক্ষণিক গ্রহণ না করে দলীয় প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে জানাবেন বলে আওয়ামী লীগকে আশ্বস্ত করেন।

এছাড়া এ বৈঠকে বিএনপি সমঝোতার পথ প্রশস্ত করতে অবিলম্বে নির্বাচনের তফসিল স্থগিত, প্রধানমন্ত্রীর অপসারণ, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়া ও মামলা প্রত্যাহার, সমাবেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিরোধী দলের অবরুদ্ধ অফিস খুলে দেয়া ও দলের আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ বন্ধ করার দাবি জানায়। আর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই বিএনপিকে তাদের অবরোধ, হরতাল, মানুষ হত্যাসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান করা হয়।

বৈঠক শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আজকে আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব আওয়ামী লীগের কাছে দিয়েছি এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আমরা নীতি নির্ধারণী ফোরামে এসব নিয়ে আলোচনা করবো। তারাও তাদের নীতি নির্ধারণী ফোরামে আমাদের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন।’

তিনি বলেন, ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার এবং সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য গত তিনদিন ধরে আমরা আলোচনা করছি। শিগগিরই আবার আলোচনা হবে।’

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক সৈয়দ আশারাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পয়েন্ট দিয়েছি, তারাও পয়েন্ট দিয়েছে। এসব পয়েন্ট নিয়ে দুই দলের নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কৌশল ঠিক করা হবে।’

এদিকে বৈঠক শেষে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি নেতারা। সাক্ষাতে আওয়ামী লীগের দেয়া প্রস্তাব ও বিষয়বস্তু নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। তবে বৈঠকে আলোচনার ব্যাপারে সাংবাদিকদের কিছু জানানো হয়নি।

অপরদিকে বিএনপির সঙ্গে বৈঠক শেষ করে তাদের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে বসেন।

শেখ হাসিনার সঙ্গে আরো আলাপ-আলোচনা করে আগামী দু’একদিনের মধ্যে আবার বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করবে বলেও গণভবন সূত্রে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা দুইটি বৈঠক করেন। গত ৯ এবং ১০ ডিসেম্বর এ বৈঠক দু’টি হয়। কিন্তু ওই দুই বৈঠকে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি নেতারা। গত বুধবার তারানকো ঢাকা ছাড়ার আগে সর্বশেষ বৈঠকটি হয় এবং সেদিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দুই প্রধান দল সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।