আন্তর্জাতিক ঢাকা

প্রস্থান ইফতিখার : প্রবেশ তাসসাদুক

 ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর: পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থা লৌহ কঠিন হাতে নিয়ন্ত্রণ করা প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরীর প্রস্থান হলো বিচার মঞ্চ থেকে। তার স্থানে প্রবেশ করলেন বিচারপতি তাসসাদুক হুসাইন জিলানি।

আজ বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রপতি মামনুন হুসাইন প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাসসাদুককে শপথ বাক্য পাঠ করান। আর গতকাল বুধবার পদত্যাগ করেন ইফতিখার চৌধুরী।

রাজধানী ইসলামাবাদের আইন-ই সদরে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, সদ্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও উচ্চ আদালতের আইনজীবীরা।

এদিকে দশটির ইতিহাসে সুপ্রিম কোটের প্রধান বিচারপতি হিসেবে ইফতিখার চৌধুরীই (৬৫) সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে বহাল ছিলেন।

ইফতিখারের সম্মানে আয়োজিত এক বিদায় অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্বাধীন ও স্বচ্ছ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রের জন্য বিচারব্যবস্থা কঠোর শ্রম দিয়ে থাকে ও নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ করার বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত ভূমিকা পালন করে।

২০০৭ সালে সাবেক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফ বিচারপতিদের বরখাস্ত করার পর পুনরায় বিচারব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন এই বিচারপতি।

প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির মামলা পুনরায় চালু করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু আদালতের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করায় গত জুনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন সর্বোচ্চ এই আদালত।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া রাজা পারভেজ আশরাফের বিরুদ্ধেও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে প্রধান বিচারপতি ইফতিখার এই মামলায় আশরাফসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

১৯৪৮ সালের ডিসেম্বরে কোয়েটায় জন্মগ্রহণ করেন ইফতিখার। ২০০৫ সালে তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। পারভেজ মোশাররফের শাসনকালে বেআইনিভাবে তাকে বরখাস্ত করায় তিনি ২০০৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৯ সালের মার্চ পর্যন্ত নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।

তবে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজের সরকার তার মেয়াদ আর বাড়াতে রাজি হননি। ফলে পদত্যাগ করতে হলো ইফতিখারকে।

তথ্যসূত্র : ডন, পিটিআই, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।