অপরাধ জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি হটনিউজ স্পেশাল

কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যক্রম নিয়ে শুনানি চলছে

ঢাকা:যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর দুই পক্ষের বক্তব্য শুনতে বসেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

 বুধবার সকাল ১০টায় প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কখন কীভাবে বাস্তবায়ন হবে-আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপরই তা নির্ভর করছে।

 আসামিপক্ষের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন মঙ্গলবার রাতে এক আকস্মিক আদেশে এই  জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থগিত করে দেন।

 এর ঘণ্টা তিনেক আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ও আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

 সে অনুযায়ী সব প্রস্তুতি শেষ করে কারা কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়, বুধবার প্রথম প্রহরেই (রাত ১২টা ১ মিনিট)মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। পরিবারের সদস্যরাও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে কাদের মোল্লার সঙ্গে দেখা করে যায়।

কারাগারে চূড়ান্ত প্রস্তুতির মধ্যেই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার রাজ্জাক চেম্বার বিচারপতির বাড়ি থেকে বেরিয়ে বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ পেয়েছেন তারা।

 রাত পৌনে ১১টার দিকে কাদের মোল্লার আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে পৌঁছে সাংবাদিকদের কাছে যখন স্থগিতাদেশের খবর পৌঁছান, তখন সিভিল সার্জনকে ঢুকতে দেখা যায় কারাগারে।

 এর কিছুক্ষণের মধ্যে কাদের মোল্লার প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাককে দেখা যায় কারাফটকে। তিনি কারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে ফিরে সাংবাদিকদের বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সকাল ১০টা পর্যন্ত স্থগিত রাখতে চেম্বার বিচারপতির আদেশ কারা কর্মকর্তাদের জানিয়ে এসেছেন তারা।

 এরপরই ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি ঝুলে যায়। ঘোষিত সময় ১২টা ১ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এসে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ফরমান আলী সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের আদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখা হয়েছে।

 এদিকে জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ড ঝুলে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ গণজাগরণ মঞ্চ আবার শাহবাগে লাগাতার অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে, যাদের অভূতপূর্ব আন্দোলনে যুদ্ধাপরাধের মামলায় আপিলের সুযোগ তৈরি হওয়ায় চূড়ান্ত রায়ে ফাঁসির আদেশ আসে।

 অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় বাস্তবায়নের খবরেই কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে হামলা চালায় জামায়াতকর্মীরা। বুধবার হরতাল ডাকার পাশাপাশি দলটি হুমকি দিয়েছে, তাদের নেতার ফাঁসি হলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু নিশ্চিত হবে।