অপরাধ জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর

হরতাল-অবরোধের ফাঁদে মানুষ

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১১ ডিসেম্বর:  জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের চেষ্টার প্রতিবাদে বুধবারও হরতাল পালন করছে দলটি। এ হরতাল আজ বুধবার সকাল ৬টায় শুরু হয়েছে এবং চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এদিকে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধের চতুর্থ দফার দ্বিতীয় দিনের অবরোধও চলছে। হরতাল আর অবরোধের ফাঁদে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠে গেছে। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সরকারের বিরুদ্ধে জঘন্য পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যার ঘোষণার অভিযোগ তুলে এর  প্রতিবাদে ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বুধবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সফল করে তোলার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। এর আগে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে সোমবার ও মঙ্গলবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে জামায়াত।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা এক মিনিটে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি নেওয়া সত্ত্বেও চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেওয়ায় তা হয়নি।

এর পরই বিবৃতি দিয়ে হরতাল বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন শফিকুর রহমান।

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধান, সুপ্রিম কোর্ট রুলস, জেলকোড ও সার্বজনীন মানবাধিকারকে ভুলুণ্ঠিত করে সুপরিকল্পিতভাবে আবদুল কাদের মোল্লাকে হত্যার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস্ কমিশন এবং ব্রিটিশ সিনিয়র পররাষ্ট্রমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকার তার তোয়াক্কা না করে ও আবদুল কাদের মোল্লার সাংবিধানিক অধিকার রিভিউ করার সুযোগ না দিয়ে তাকে হত্যা করে দেশের আইন, সংবিধান ও মানবাধিকারকেই হত্যা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।

তিনি বলেন, মাননীয় চেম্বার জজ মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা বুধবার সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছেন। আমরা সুস্পষ্টভাবে সরকারকে বলতে চাই, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্য আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যার প্রয়াস চালানো হলে তা বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে একটি নিকৃষ্ট পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।