অপরাধ জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

রাত ১২ টা ১ মিনিটে কাদের মোল্লার ফাঁসি

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর:  কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করতে জল্লাদ শাহজাহান ভূইয়া প্রস্তুত। কারাগারের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, আজ রাত ১২টা ১ মিনিটে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ জন্যে পরিবারের সদস্যদের মঙ্গলবার রাত ৮ টার মধ্যেই কারাগারের কনডেম সেলে গিয়ে কাদের মোল্লার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য জরুরি তলব করেছে জেল কতৃপক্ষ। এদিকে কাদের মোল্লার ফাঁসি আজ রাত ১২টার পরই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলামও। সন্ধ্যায় আইন প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর একান্ত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসময়ে ফাঁসি কার্যকর পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের করণীয় নিয়েও মন্ত্রীরা আলোচনা এবং রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ কষেছেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকে অংশ গ্রহনকারি এক মন্ত্রী হটনিউজ২৪বিডি.কমকে বলেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়া জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম এজেন্ডা। এখানে কম্প্রোমাইজ করার কোন সুযোগ নেই।

সেক্ষেত্রে বাঙালীর ৪২ তম গৌরবের দিন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রাক্কালে হলেই ভাল হয়’- মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, আমরা জানি এটাকে পুঁজি করে জামায়াত-শিবির আবারো সেই সহিংসতার পথ বেছে নেবে। তাতে সরাসরি মদদ দেবে বিএনপি। আর এসব হিসেব-নিকেশ করেই এগুচ্ছে সরকার।

সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী জানান, ‘আদালত মৃত্যু পরোয়ানা জারির সাত দিনের মধ্যে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। এখন আমরা অপেক্ষা করছি সরকারের আদেশের। আর আদেশ না এলেও জেলকোড অনুযায়ী সর্বশেষ দিনে এ রায় কার্যকর করতে হবে জেল কতৃপক্ষকে।’

কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়েছে ৮ ডিসেম্বর। সেই হিসেবে সম্ভাব্য সর্বশেষ দিন হয় ১৫ ডিসেম্বর, রোববার। তার আগেই রায় কার্যকর করার সব প্রস্তুতি রয়েছে দাবি করে ফরমান আলী আরো বলেন, কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সুপ্রিম কোর্টে রিভিই পিটিশন করার জন্যে ১৫ দিন সময় আছে বলে সাংবাদিকদের যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক নয়। সংশোধিত জেলকোড এখনও অনুমোদন হয়নি। এ সংক্রান্ত নতুন কোনো আইনও সংসদে পাশ হয়নি। প্রচলিত কারা বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত দিন সময়ের মধ্যেই ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হয়।

এর আগে আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে কাদের মোল্লার দুই আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক ও তাজুল ইসলাম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। তাঁরা কাদের মোল্লার সঙ্গে প্রায় পৌনে এক ঘন্টা কথা বলে বেলা ১১টারদিকে বের হন।

জেল গেটে রাজ্জাক সাংবাদিকদের জানান, যত দ্রুত সম্ভব রিভিউ আবেদন করা হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার বিষয়টি কাদের মোল্লার জানা আছে। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদনের সময়সীমা ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দাবি করে তিনি আরো বলেন, ২১ বা ২২ ডিসেম্বর তাঁরা আবারও কাদের মোল্লার সঙ্গে দেখা করবেন। তখন কাদের মোল্লা তাঁদের জানাবেন, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করবেন কিনা?

গত রোববার আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মৃত্যুপরোয়ানা জারি করে আদালত। সে দিনই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ  ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে মৃত্যুপরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে আবদুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ  ট্রাইব্যুনাল-২ কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মুখে মহাজোট সরকার সংসদে বিল পাশের মাধ্যমে আপিল করে উচ্চ আদালতে। ঐ রায়ে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ-এর চারজন মৃত্যু দন্ডাদেশের পক্ষে মত দেন।