অপরাধ ঢাকা স্বাস্থ্য

মিটফোর্ডে ডাক্তার-কর্মচারী সংঘর্ষ, সেবা বন্ধ, পুলিশ মোতায়েন

 হটনিউজ প্রতিবেদক,১০ডিসেম্বর,ঢাকা:  শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের সঙ্গে কর্মচারীদের সংঘর্ষের পর রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসকরা কাজ বন্ধ রাখায় বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন হরতাল-অবরোধের মধ্যে হাসপাতালে আসা রোগীরা।    স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিডফোর্ড হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক শাওন দাস জানান, হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক থেকে এক রোগীকে ভুল রিপোর্ট দেয়ার বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে সোমবার রাত আড়াইটার দিকে টেকনিশিয়ান ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে মারধর করে। এর জের ধরে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে হাসপাতালে এসে ভাংচুর শুরু করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এক পর্যায়ে ছাত্ররা লাঠিসোটা হাতে পুরো হাসপাতাল চত্বরের দখল নেয় এবং কর্মচারীরা প্রায় সবাই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।

এ সময় হাসপাতালের দুই কর্মচারীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন।

তার দাবি ভুল রিপোর্টের কারণে নয়, হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষার জন্য কেন টাকা নেয়া হয়- তা নিয়ে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা প্রশ্ন তুললে সোমবার রাতে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়েই ‘ঝামেলার’ সূত্রপাত।

সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বাইরের দিকে বিভিন্ন কক্ষের কাচ ভাংচুর করা হয়েছে এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও টেলিভিশন ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এদিকে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একটি বাসও ভাংচুর করা হয়। তবে কারা গাড়িটি ভেঙেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

লালবাগ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুস সালাম বলেন, ‘হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।’

এদিকে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগীদের জরুরি বিভাগের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও ভেতরে কোনো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক আবদুর রশিদ বলেন, তিনি নিজে সকাল থেকে কোনো রোগী দেখেননি।

পেটের ব্যথা নিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে আসা হাসনা হেনা (৩৫) জানান, তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু কোনো ডাক্তার পাচ্ছেন না।

সালমা নামে এক প্রসূতিকে তার স্বজনরা মিটফোর্ডে নিয়ে এলেও হাসপাতাল থেকে তাকে পাশের কোনো বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যেতে পরামর্শ দেয়া হয়।

শিক্ষানবিশ চিকিৎসক প্রণয় ঘোষণা বলেন, ‘যতোক্ষণ পর্যন্ত আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হচ্ছে, ততোক্ষণ আমরা কাজে ফিরব না।’