অপরাধ রাজনীতি সারাদেশ

বিজয় দিবসের প্রাক্কালে কাদের মোল্লার ফাঁসি

 হুমায়ুন কবির, ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর:   বিজয় দিবসের আগেই কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করতে চায় সরকার।
সোমবার অনুষ্ঠিত কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর একান্ত বৈঠকে এ রকমই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে ফাঁসি কার্যকর-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের করণীয় নিয়েও মন্ত্রীরা আলোচনা এবং রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কষেছেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক মন্ত্রী রাইজিংবিডিকে বলেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম অ্যাজেন্ডা। এখানে কমপ্রোমাইজের কোনো সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে বাঙালির ৪২তম গৌরবের দিন- ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রাক্কালে হলেই ভালো হয়- মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জানি, এটাকে পুঁজি করে জামায়াত-শিবির আবারও সেই সহিংসতার পথ বেছে নেবে। তাতে সরাসরি মদদ দেবে বিএনপি। আর এসব হিসাব-নিকাশ করেই এগোচ্ছে সরকার।’

এদিকে, সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী জানান, আদালত মৃত্যু পরোয়ানা জারির সাত দিনের মধ্যে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। এখন আমরা অপেক্ষা করছি সরকারের আদেশের। আর আদেশ না এলেও জেলকোড অনুযায়ী সর্বশেষ দিনে এ রায় কার্যকর করতে হবে জেল কর্তৃপক্ষকে।

কাদের মোল্লার মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়েছে ৮ ডিসেম্বর। সেই হিসেবে সম্ভাব্য সর্বশেষ দিন হয় ১৫ ডিসেম্বর, রোববার। তার আগেই রায় কার্যকর করার সব প্রস্তুতি রয়েছে দাবি করে ফরমান আলী আরো বলেন, কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক সুপ্রিম কোর্টে রিভিই পিটিশন করার জন্য ১৫ দিন সময় আছে বলে সাংবাদিকদের যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক নয়। সংশোধিত জেলকোড এখনো অনুমোদন হয়নি। এ সংক্রান্ত নতুন কোনো আইনও সংসদে পাস হয়নি। প্রচলিত কারাবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত দিন সময় পাবেন কাদের মোল্লা।

এর আগে আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে কাদের মোল্লার দুই আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক ও তাজুল ইসলাম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢোকেন। তারা কাদের মোল্লার সঙ্গে প্রায় পৌণন এক ঘণ্টা কথা বলে বেলা ১১টার দিকে বের হন।

জেল গেটে রাজ্জাক সাংবাদিকদের জানান, যত দ্রুত সম্ভব রিভিউ আবেদন করা হবে। প্রাণভিক্ষার বিষয়টি কাদের মোল্লার জানা আছে। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদনের সময়সীমা ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দাবি করে তিনি আরো বলেন, ২১ বা ২২ ডিসেম্বর তারা আবারও কাদের মোল্লার সঙ্গে দেখা করবেন। তখন কাদের মোল্লা তাদের জানাবেন, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না।

গত রোববার আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন আদালত। সে দিনই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ  ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে আবদুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের মুখে মহাজোট সরকার সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে আপিল করে উচ্চ আদালতে। ওই রায়ে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চের চারজনই মৃত্যুদণ্ডাদেশের পক্ষে মত দেন।