জাতীয় বরিশাল ভোলা রাজনীতি

ভোলা-২ আসনে তরুণ প্রার্থীকে পেয়ে ফুরফুরে মেজাজে আ’লীগ

ভোলা প্রতিনিধি :  আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংশয় না কাটলেও ভোলা-২ আসন (বোরহানউদ্দিন-
দৌলতখানে) আ’লীগের তরুণ প্রার্থী আলহাজ্ব আলী আজম মুকুলকে পেয়ে ফুরফুরে রয়েছে এ দুই উপজেলার ’লীগের নেতৃবৃন্দ। যদিও স্থানীয়রা মনে করেন বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোট মাঠে থাকলে রাজনীতির মাঠ পুরো দমে সরগরম হয়ে উঠতো। তারপরও প্রতিদিন আলী আজম মুকুলকে নিয়ে গণসংযোগ ও পথসভাসহ শোডাউন দিয়ে অনেকটা সরগরমে রাখছে এ দুই উপজেলার আ’লীগ নেতৃবৃন্দ। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ও আ’লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির অন্যতম  সদস্য আলহাজ্ব তোফায়েল আহম্মেদের আপন ভাতিজা আলী আজম মুকুল। তিনি মরহুম আলী আশ্রাবের তৃতীয় সন্তান। তিনি ৫/৬ বছর বয়সে বাবাকে হারান। বাবাকে হারানোর পর তার চাচা  তোফায়েল আহম্মেদের আর্দশ ও নির্দেশে ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে আ’লীগে সক্রিয় ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন
আলী আজম মুকুল। তিনি র্দীঘদিন দৌলতখান আ’লীগে নেতৃত্ব দিয়ে দৌলতখানে জিমিয়ে পড়া আ’লীগকে সক্রিয় করে তোলেন। তিনি একজন আর্দশবান রাজনীতিক নেতা হিসাবে দৌলতখান গণ মানুষের মন জয় করে তোলেন। তাই তো ২০১১ সালে পৌর নির্বাচনে তার আপন চাচা তোফায়েল আহম্মেদ আ’লীগের প্রার্থী দিয়ে তার পক্ষে নির্বাচনে গণসংযোগ করেন এবং তার ভাতিজার ওপেন বিরোধীতা করেন। কিন্তু দৌলতখান গণ মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে এত ভালো বাসেন যে তোফায়েল আহম্মেদের নির্দেশকে উপেক্ষা করে আলী আজম মুকুলকে বিপুল ভোটে এদিকে জানা যায়, বর্তমান সর্ব দলীয় সরকারের শিল্প, নির্বাচিত করেন। এরপর থেকে তিনি হয়ে উঠেন দলমত নির্বিশেষে দৌলতখানের সুযোগ্য পৌর মেয়র। তার এ জনপ্রিয়তা বোরহানউদ্দিন মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আপন চাচা তোফায়েল আহম্মেদের বিরোধীতা উপেক্ষা করে গণ মানুষের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় আস্তে আস্তে
আ’লীগের এ প্রবীণ নেতার মনে ঠাই করে নেন। তাই তো আসন্ন ১০ জাতীয় নির্বাচনে আ’লীগের একাধিক প্রার্থী
থাকা সত্বেও জনপ্রিয় হিসাবে এ তরুণ নেতাকে আ’লীগ ভোলা-২ আসনের আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে নমিনেশন দেন।তোফায়েল আহম্মেদের আর্দশে গড়ে উঠা এ তরুণ রাজনীতিবিদ নমিনেশন পাওয়ায় অনেকটা নিস্ক্রিয় আ’লীগ সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চলছে। তার মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার পর থেকে বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলা আ’লীগ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। অপরদিকে আলী আজম মুকুল মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার পর দিন থেকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল শুরু করেছেন। অন্যদিকে এ তরুণ নেতার রাজনীতিক কৌশল দেখে তাকে নিয়ে চুল-চেড়া বিশ্লেষণ শুরু করে দিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা। তিনি যে ভাবে সাধারণ মানুষের গলায় হাত রেখে
জড়িয়ে নিজেকে তাদের সাথে একাকার করার চেষ্টা করছে এতে এ দু’ই উপজেলার দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তাদের মনে এ তরুণ নেতাকে ঠাই দেয়ার অনেকটা মন স্থির করেছে। স্থানীয় জন সাধারণের মতে, এ নেতা নির্বাচিত হতে পারলে তার সাথে সুখ দুঃখের কথা ভাগাভাগি করা যাবে। তিনি সে প্রকৃতির একজন আর্দশ নেতা। তার পরও রাজনীতিতে কি উত্থান-পতন হতে যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে তা দেখার বিষয়। কারণ বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান এলাকায়টি বিএনপির ঘাটি হিসাবে পরিচিত। আর এ ঘাটির দাবী দার আর এক প্রভাবশালী নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও ভোলা-২ আসনের সাবেক এমপি আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহীম। এলাকাবাসী মনে করেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশগ্রহণ করে আর হাফিজ ইব্রাহীম নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে এ নির্বাচনে
হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হতে পারে। নির্বাচন নিয়ে এখনও অশ্চিয়তা থাকলেও ঘরে বসে নেই আলী আজম মুকুল। তিনি নতুন প্রার্থী হিসাবে এলাকায় নিজের অবস্থান তৈরি করার জন্য আ’লীগের নেতৃবৃন্দ নিয়ে দিন রাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তিনি শনিবার দিন ব্যাপী মনিরাম ও কুঞ্জেরহাট এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোটারদের সাথে গণ সংযোগ করেন। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহব্বত জান চৌধুরী, বোরহানউদ্দিন পৌর মেয়র আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক বেলায়েত হোসেন, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও যুবলীগ নেতা মোঃ রাসেল আহম্মেদ মিয়া প্রমূখসহ আ’লীগের উপজেলা অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।