জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

বাছাই শেষে প্রার্থী সাড়ে আটশ

indexআছাদুজ্জামান,হটনিউজ২৪বিডি.কম: যাচাই-বাছাইয়ের পর দশম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রায় সাড়ে আটশ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।    মনোনয়ন দাখিলকারীদের তথ্য এরমধ্যে সাতটি আসনে মাত্র একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। বাছাইয়ের পর ওই আসনগুলো ছাড়াও ২৬টি আসনে একজন করে প্রার্থীর মনোনয়নপত্রকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। লক্ষীপুর-৩ আসনে দুই জন প্রার্থীর কারোরই মনোনয়নপত্র বৈধ হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদনের পর ওই আসনে কোনো প্রার্থী থাকছেন কি না সেই সিদ্ধান্ত হবে।

গত ২৫ নভেম্বর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি ভোট হবে। ২ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেয়া মনোনয়নপত্র বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করেন।

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা জানান, বাতিল হয়ে যাওয়া মনোনয়নপত্র দাখিলকারীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৭ থেকে ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। এরপরও প্রার্থীরা সন্তুষ্ট না হলে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।

১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈধ প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় পাবেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখা জানায়, স্বতন্ত্র ও ২০টি রাজনৈতিক দল মিলে ৩০০ আসনে এবার এক হাজার ১০৭টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন প্রার্থীরা। এরমধ্যে ৮৪৭টি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ হয়েছে। বাতিল হয়েছে ২৬০ জনের মনোনয়নপত্র।

সাত জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করলেও তা নির্ধারিত সময়ের আগে গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

তবে সবকিছু আবারো যাচাই করে চূড়ান্ত সংখ্যা পরে নির্ধারণ করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

ঋণ খেলাপি, প্রয়োজনীয় তথ্য না দেয়া, মিথ্যা তথ্য প্রদান, বিল খেলাপি, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের পক্ষে তথ্যাদি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

দশম সংসদ নির্বাচনেই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সংখ্যক মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। এরমধ্যে মাত্র সাড়ে আটশ বৈধ প্রার্থী হলে [আপিলের পর যদি কারো প্রার্থিতা ফিরে পায়] তাও নতুন রেকর্ড হতে যাচ্ছে।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির সর্বোচ্চ ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

একক প্রার্থী ৩৩ আসনে

বাছাইয়ের পর সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মিলে এবার ৩৩জন এক আসনে বৈধ প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন।

তারা হলেন- লালমনিরহাট-২ নুরুজ্জামান আহমেদ, নাটোর-১ আবুল কালাম, নাটোর-২ শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-৩ জুনাইদ আহমেদ পলক, বাগেরহাট-১ শেখ হেলাল উদ্দীন, বাগেরহাট-২ মীর শওকত আলী বাদশা, পিরোজপুর-১ এ কে এম আউয়াল (সাইদুর রহমান), টাঙ্গাইল-৩ আমানুর রহমান রানা, কিশোরগঞ্জ-১ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ ৪-রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক, মানিকগঞ্জ-২ মমতাজ বেগম, গাজীপুর-২ জাহিদ আহসান রাসেল, ফরিদপুর-১ আব্দুর রহমান, ফরিদপুর-৩ খন্দকার মোশারফ হোসেন, সিলেট-১ আবুল মাল আবদুল মুহিত, মৌলভীবাজার-৪ আব্দুস শহীদ, ফেনী-২ নিজাম উদ্দিন হাজারী, চট্টগ্রাম-৭ হাছান মাহমুদ, কুমিল্লা-৭ অধ্যাপক আলী আশরাফ।

আওয়ামী লীগের অন্য প্রার্থীরা হলেন রংপুর-৫ এ এইচ এন আসিকুর রহমান, রাজশাহী-১ ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৪ এনামুল হক, সিরাজগঞ্জ-৩ ইসহাক হোসেন তালুকদার, যশোর-১ শেখ আফিল উদ্দিন, ভোলা-১ তোফায়েল আহমেদ,মুন্সিগঞ্জ-৩ মৃণাল কান্দি দাস, নরসিংদী-৫ রাজিউদ্দীন আহমদ রাজু, কুমিল্লা-১০ আ হ ম মুস্তফা কামাল, চাঁদপুর-১ মহীউদ্দীন খান আলমগীর, চাঁদপুর-৩ দীপু মনি, নোয়াখালী-২ মোর্শেদ আলম, নোয়াখালী-৫ ওবায়দুল কাদের, সুনামগঞ্জ-২ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

এছাড়া অন্তত ১০৩টি আসনে বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী নিয়ে দুই জন করে বৈধ প্রার্থী রয়েছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর যদি শুধু একজন বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী থাকেন, অথবা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর যদি শুধু একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকেন; ওই প্রার্থীকে রিটার্নিং অফিসার গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনুচ্ছেদ ১৯ অনুসরণে [প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ] নির্বাচিত ঘোষণা করবেন। তবে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর কোনো প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে আপিল দায়ের না করলে একমাত্র বৈধ প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা যাবে।

একই আসনে একাধিক প্রার্থী

জাতীয় পার্টি-জেপি ৯৩টি আসনে প্রার্থী দিলেও চারটি আসনে ২ জন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ১৬টি আসনে আওয়ামী লীগের ২৫ জন প্রার্থী রয়েছে। জাতীয় পার্টি আড়াই শতাধিক প্রার্থী দিয়েছে। তাদের ২০টি আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির একটি আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, মাঠ পর্যায়ের চূড়ান্ত তথ্য পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা হবে।

নিবন্ধিত অর্ধেক দলের মনোনয়ন জমা

ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জমান জানান, ২০টি দল এবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, গণতন্ত্রী পার্টি, গণফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশ তরিকত ফেড়ারেশন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, বিএনএফ, বাংলাদেশ মুসলীম লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে।