ঢাকা লাইফ স্টাইল

শীত আসবে তাই

 হীরা জামান,ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর:  রাজধানীতে এখনো পুরোদমে শীত নামেনি। তবে শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। এরই মধ্যে  অনেকেই শীতের প্রস্তুতি হিসেবে গরম কাপড় কেনাকাটা শুরু করেছেন।

নগরীর বিপনিবিতান ও মার্কেটগুলোতেও শীত নিবারনের পোশাকের পসরা দেখা যাচ্ছে। ফুটপাতগুলোতেও শীতবস্ত্র নিয়ে বসছেন হকাররা। সব মিলিয়ে শীতের আগমনী আবহ তৈরি হয়েছে চারপাশে।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট, বঙ্গবাজার, বদরুদ্দোজা সুপার মার্কেট, স্মার্টেক্স, প্লাস পয়েন্ট, ইনফিনিটি, ক্যাটস আই ও প্রিন্স প্লাজায় গেলে সহজেই পেতে পারেন শীতের কাপড়। এই মার্কেটগুলো ঘুরে কয়েকটি ফ্যশন হাউজের শীত আয়োজন সম্পর্কে আপনাদের তথ্য দিচ্ছেন পুলক।

ব্লেজার :

পুরোদস্তুর অফিসিয়াল ব্লেজার চেয়ে ক্যাজুয়াল ব্লেজারই বাজারে বেশি চলছে। নানান ধরনের রংয়ের বাহার দেখতে পাওয়া যাবে আর্টিফিসিয়াল চামড়ার ব্লেজারে। বোতামেও রয়েছে নানান ধরন।

এগুলোর দাম ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। গ্যাবার্ডিন কাপড়ের ব্লেজারের দাম ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। রেইনকোটের মতো পাতলা পানিরোধি কাপড় দিয়ে তৈরি ব্লেজার ও জ্যাকেটের দাম ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা।

এই মৌসুমে বাজারে মখমলের ব্লেজারও এসেছে। দাম ৩ হাজার ৫’শ থেকে ৬ হাজার ৫’শ টাকা।

বসুন্ধরা সিটির এক্সটেসির বিক্রয়কেন্দ্রে দেখা গেল মেষের লোমের ৩ ধরনের ব্লেজার। এগুলোর দাম ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে।

উলের সোয়েটার লং স্লিপ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪’শ ৫০ টাকা। উলের হাফ সোয়েটার ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। রঙেও রয়েছে বৈচিত্র্য।

মার্কেটগুলোতে মাফলারের প্রচুর সংগ্রহ রয়েছে। দাম ৫৫০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা। বিভিন্ন ধরনের শালও এসেছে এসব বিক্রয়কেন্দ্রে। দাম ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা

লাল সবুজে নগরদোলার পোশাক :

তাদের পোশাকের সম্ভারে রয়েছে মেয়েদের সিঙ্গেল কামিজ, কুর্তি, শাড়ি, পাঞ্জাবি। ছেলেদের ফতুয়া, টি-শার্ট। ছোটদের কুর্তি ও পাঞ্জাবি।

আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ৪টি নতুন ডিজাইনের ‘ত্রয়ী’ ও বাচ্চাদের ২টি ‘রেডি শাড়ি’। ত্রয়ীরগুলো যে কেউ কামিজ, লেগিংস, ওড়না আলাদাভাবে কিনতে পারবেন অথবা সেট হিসাবেও বিক্রয় হবে। এ সমস্ত পোশাকে কারুকাজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী হাতের কাজ, এম্ব্রয়ডারি, স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লক ও অন্যান্য প্যাচওয়ার্ক এর কাজ।

শীত শীত আবহাওয়ার জন্য একটু মোটা কাপড়ে ফুল ও থ্রিকোয়ার্টার হাতাসহ পোশাকগুলি তৈরি করা হয়েছে। রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিজয়ের প্রচলিত লাল সবুজের পাশাপাশি অন্যান্য রংগুলো এসেছে বিজয় দিবসের মর্যাদার সঙ্গে সমন্বয় রেখে। পোশাকের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতা ও সাধ্যের মধ্যে।

শীতে কে ক্র্যাফ্‌ট :

তাদের আয়োজনে থাকছে বিভিন্ন রকমের শাল, জ্যাকেট, স্কার্ফ, মাফ্‌লার, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, টপ্‌স ইত্যাদি। এসব পোশাকের কাট্‌ ও ষ্টিচ সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে করা।

কাপড়েও থাকছে বৈচিত্র্য। ব্যবহার করা হয়েছে খাদি ও সুতি। শালের সমারহে থাকছে খাদি ও নরসিংদির ইক্কত্‌। শালগুলোতে বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ, এপ্লিক ও প্রিন্ট রয়েছে।

খাদি কাপড়ের সঙ্গে সিল্ক কাপড়ের কম্বিনেশন পাঞ্জাবি তৈরি করেছে তারা। পোশাকগুলোর অলংকরণে ব্যবহৃত হয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, মেশিন এমব্রয়ডারি, হাতের কাজ, টাই এন্ড ডাই ও কারচুপির কাজ।

ছেলেদের ফতুয়ার দাম ৪০০ টাকা থেকে ৬৭৫ টাকা। পাঞ্জাবির দাম ৫৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা। মেয়েদের টপ্‌স ৪৫০ থেকে ১,১৫০ টাকা। খাদি মাফ্‌লার ১২০ টাকা থেকে ১৭৫ টাকা। শুধু স্কার্ফ ১২০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা। মেয়েদের পাঞ্জাবি ৪৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা। ছেলে ও মেয়েদের শাল ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। সুতি শার্ট ৪০০ থেকে ৬৭৫ টাকা।

বার্ডস আইয়ে শীতের পোশাক :

বিভিন্ন নকশার ফুলহাতা টি-শার্ট, ফুলহাতা পোলো শার্ট, ম্যাগী হাতা ক্যাপ, ফুলহাতা ক্যাপ, ফুলহাতা সোয়েটার, ফুলহাতা শার্ট ও বাচ্চাদের ক্যাপ। নিজস্ব ডিজাইনারদের নকশায় তৈরি শীত উপযোগী এসব পোশাক পাইকারি ও খুচরা পাওয়া যাচ্ছে ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটে বার্ডস আইয়ের ৩টি বিক্রয়কেন্দ্রে।

অঞ্জন’স-এ শীত আয়োজন :

পতাকার রং প্রাধান্য দিয়ে বিজয়ের মাসে পরবার উপযোগী পোশাক তৈরি করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। হাতে লেখা যুদ্ধকালীন সময়কার একাত্তরের চিঠিগুলোকে ডিজাইনের মোটিফ শাড়ি, পাঞ্জাবি, শাল ও মাথার ব্যান্ডে ব্যবহার করা হয়েছে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে শিশুকিশোরদের জন্যও থাকছে পোশাক।

সুইসুতার শীতের উপহার :

তারা নিয়ে এসেছে অসংখ্য ডিজাইনের নতুন নতুন পোশাক। ক্রেতাদের চাহিদা ও রুচি অনুযায়ী হাজির করেছে ফুলস্লিভ টি-শার্ট, ফুলস্লিভ পোলো টি-শার্ট, ফুলস্লিভ শার্ট, হুডি, সোয়েটার, পাঞ্জাবি, পায়জামা, ফতুয়া, ছেলে ও মেয়েদের শাল, লেডিস টপস্‌, ওড়না, সালোয়ার ইত্যাদি। প্রতিটি পোশাকেই ফুটে উঠে বাঙ্গালি ঐর্তিহ্য, সংস্কৃতির রূপ ও রং। এসব পোশাক পাওয়া যাচ্ছে তাদের ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেট, জাহানারা শপিং কমপ্লেক্স ও সমীরন প্লাজা, কোনাপাড়া, ডেমরা, গুটিয়া মসজিদ ব্রিজ, দারোগার হাট, বাবুগঞ্জ ও বরিশালের বিক্রয়কেন্দ্রে।