অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

পাঁচ বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ

 অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর :  গত নভেম্বর মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। পয়েন্ট টু পয়েন্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। গত অক্টোবর মাসে এই হার ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। চলমান হরতাল ও অবরোধের কারণে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানা গেছে পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য থেকে। আজ বৃহস্পতিবার পরিসংখ্যান ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ব্যুরোর তথ্যমতে, নভেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশে, যা অক্টোবর মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ । একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে, যা অক্টোবর মাসে ছিল ৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

ব্যুরোর মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল জানান, দেশের চলমান অস্থির  রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে যে হারে মূল্যস্ফীতি বাড়ার কথা ছিল, অবশ্য সে হারে বাড়েনি। গত নভেম্বর মাসে শতকরা শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। কিন্তু অক্টোবর মাসে এই বৃদ্ধির হার ছিল শতকরা ১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এই হিসাবে নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি কম হারে বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, চাল, ডাল, মাছ ও অন্য নিত্যপণ্য দ্রব্যাদির দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বলা যায়, হরতাল-অবরোধে যোগাযোগব্যবস্থা অচল হওয়ায় পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় পণ্য সরবরাহ কমেছে। আর এ কারণেই জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও স্বাভাবিক গতিতে চলছে না। ফলে বাজারে পণ্য ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে। পণ্যমূল্য বৃদ্ধির এটিও অন্যতম একটি কারণ। তবে বাজারব্যবস্থায় যে স্থবিরতা চলছে, তাতে মূল্যস্ফীতির হার সে তুলনায় কমই হয়েছে।
এ ছাড়া পরিধেয় বস্ত্র, বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, পরিবহন, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যেরও মূল্যস্ফীতি হয়েছে বলে দাবি করেন গোলাম মোস্তফার।

তিনি বলেন এ খাতে অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি হয়েছে শূন্য দশমিক ২৬ ভাগ। তবে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হয়েছে পরিবহন খাতে। হরতাল ও অবরোধের কারণে এ খাত অনেকটাই থমকে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবচাক প্রভাব আরো তীব্র হবে বলে তিনি দাবি করেন।