অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

কর ফাঁকি রোধে এবার ইমিগ্রেশনে চেকপোস্ট- এনবিআর

xNBR----20131204124323.jpg.pagespeed.ic.Jit9LjRZQH হুমায়ুন কবির, ঢাকা, ৪ ডিসেম্বর:  বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিদের কর ফাঁকি ধরতে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে আলাদা চেকপোস্ট বসানোর অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এই অনুরোধ করা হয় বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে অনেক বিদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন, যারা কর পরিশোধ না করে ভুয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে পার পেয়ে যান। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ব্যর্থতার কারণেই এ রকম হচ্ছে। তাই এনবিআর কর্মকর্তারা যদি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পৃথক ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স ডেস্ক বসান, তাহলে এ সমস্যা অনেকটা দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আয়কর আইন ১৯৮৪ অনুসারে কোনো বিদেশি নাগরিক যদি এ দেশে বছরে ৯০ বা তার বেশি দিন ধরে বসবাস করেন, তাহলে তাকে একটি আয়কর ফাইল খুলতে হয়। অর্থাৎ আয়কর দিতে হবে। তাই ওই বিদেশি নাগরিক যখন বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন তখন তাকে এনবিআর থেকে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিয়ে ইমিগ্রেশনে দেখাতে হয়।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ও তার আশপাশের জেলায় ১০ হাজার বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন, যারা গত অর্থবছরে আয়কর বিবরণী দাখিল করেছিলেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামেও কিছু বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন, যারা সেখানে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।

কিন্তু ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, দেশে কয়েক লাখ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যারা তিন মাসের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন। তারা কর ফাঁকি দিয়ে ভুয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন।

তা ছাড়া এনবিআরের পুরো সিস্টেম ডিজিটালাইজড না হওয়ার কারণেও অনলাইনে সার্টিফিকেট চেক করা যায় না।

প্রসঙ্গত, বিনিয়োগ বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুসারে মাত্র ১২ হাজার বিদেশি নাগরিক বোর্ড থেকে কাজ করার অনুমতি নিয়েছেন।  এ ছাড়া ইপিজেড থেকে অনুমতি নিয়ে কয়েক হাজার বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশই অবৈধ।