জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

তবুও সন্দেহ এরশাদকে নিয়ে

 আছাদুজ্জামান,ঢাকা, ৩ ডিসেম্বর:  আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে জাতীয় পার্টির আকস্মিক সরে দাড়ানোর ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দিহান বিএনপি’র নেতৃত্বধীন ১৮ দলীয় জোট। রাজনীতিতে সবচেয়ে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ চরিত্র হিসেবে উল্লেখ করে জোটের এক নেতা হটনিউজ২৪বিডি.কমকে বলেন, তারা আশা করছে এরশাদ তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন। অন্তত নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের স্বার্থেই তিনি তার সিদ্ধান্তে স্থায়ী হবেন বলে মনে বিরোধী জোটের এই নেতা।

নির্বাচন থেকে জাতীয় পার্টির সরে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান হটনিউজ২৪বিডি.কমকে বলেন,“এরশাদের এই সিদ্ধান্ত সাধুবাদ জানানোর মতো। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে বিএনপি। তবে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবীতে দেশের মানুষের চলমান আন্দোলনে এরশাদ যুক্ত হলে তার ওপর জনগনের আস্থা ফিরে আসবে।” তার পরও এরশাদ তার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকতে পারবেন কি না সে বিষয়ে যথেস্ট সন্দেহ প্রকাশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

নির্বাচনকালীন নিদলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাচ্ছে না বিএনপি, অন্যদিকে সরকার সর্বদলীয় সরকার গঠন করে নির্বাচনের পথে রয়েছে। শুরু থেকেই জাতীয় পার্টির একটি অংশ নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলে আসছে। এর মধ্যেই এরশাদ সর্বদলীয় সরকারে যোগ দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিলে তাঁর দলে ভাঙন ধরে। একপর্যায়ে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরকে বহিষ্কার করা হয়। জাফর পাল্টা বহিস্কার করেন এরশাদকে। এরপর কাজী জাফরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টিতে থাকা একটি অংশ বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করে আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে আকস্মিক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষনা দেন এরশাদ।

জানতে চাইলে বিজেপি’র চেয়ারম্যান আন্দালব রহমান পার্থ হটনিউজ২৪বিডি.কমকে জানান,“সরকার একতরফা নির্বাচন করে পার পাবেনা, এরশাদ বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন। এজন্যই দেরিতে হলেও তিনি নির্বাচনের না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ১৮ দলের এ নেতারা।”

তিনি বলেন, এরশাদ নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষনা দেওয়ায় তিনি রাজনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এখন ফিরে আসায় কিছুটা হলেও তার প্রতি মানুষের সহমর্মিতা বাড়বে।

বিএনপির চেয়াপারসনের একজন উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে হটনিউজ২৪বিডি.কমকে বলেন, সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করে দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আর সরকারের একতরফা নির্বাচনে সমর্থন করে এরশাদ দেশের মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এরশাদের এমন সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য পজিটিভ বলেই মনে করছেন তিনি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবি ও সামাজিক সংগঠনসহ সমগ্র জাতি সব দলের অংশগ্রহনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন চায়। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এ ব্যাপারে একমত। প্রধান বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন এমনিতেই গ্রহনযোগ্য হতো না, এ অবস্থায় এরশাদের নির্বাচন বয়কট চূড়ান্তভাবে গ্রহনযোগ্যতা হারাবে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এল.ডি.পি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল অলি আহাম্মেদ বীর বিক্রম বলেন, প্রায় ৩২ বছর পর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এক দলীয় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষনা দেওয়ার মাধ্যমে তার জীবনে এই প্রথম একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেন। তার এ ঘোষনা জাতির এই ক্রান্তিলগ্মে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী ঘটনা বলে মনে করেন কর্ণেল অলি।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দু’এক দিনের মধ্যে জাতীয় পার্টির সদস্যরা তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেবেন এবং মন্ত্রী সভা থেকে পদত্যাগ করবেন।

নির্বাচন থেকে এরশাদের সরে আসার সিদ্ধান্তের বিষয়টিকে চলমান সংগ্রামে নতুন মাত্রা যোগ করেছে উল্লেখ করেছেন বলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। তিনি বলেন, দেশবাসী বিশ্বাস করতে চায় এরশাদ তার এই সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন।