জাতীয় ঢাকা সারাদেশ

আরটিভির দুই সাংবাদিক চার দিনের রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক: বিস্ফোরোক দ্রব্য আইনের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির সিটি রিপোর্টার তানভিদ রনি ও ক্যামেরা পারসন প্রশান্ত মোদককে চার দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম মো. তারেক মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীচর থানা পুলিশের এস আই রাসুল সামদানী আজাদ গতকাল সন্ধ্যার আগে আসামিদের ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। এসময় শুধু সরকার পক্ষের কথা শুনেই হাকিম রিমান্ডে নেওয়ার এই আদেশ দেন।  আসমিদের আইনজীবীরা অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, আমাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুজোগ না দিয়ে তরিঘরি করে উপরের নির্দেশে এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে। এই আদেশ সেচ্চা চারিতার শামিল।  যাহা দেশের প্রচলিত আইন সমর্থন করে না। বাংলাদেশের সংবিধান  নাগরিককে যে আধিকার দিয়েছে এই আদেশে সেটাও ক্ষুন্ন হয়েছে।  এছাড়া দন্ড বিধ আইনে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগের কথা বলা থাকলেও  আসামিরা এই অধিকরা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আইনজীবীরা আরো  বলেন, ১৮৭৭ সালের সুর্নিদৃষ্ট্র প্রতিকার আইনের ২২ ধারায় বলা আছে যে, বিচারক তার সেচ্ছাধীন ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। সেচ্চাচারিতা ও পক্ষপাতিত্তের কোন আশ্রয় নিবেন না। কিন্তু আসামিদের পক্ষে শুনানীর সুযোগ না দিয়ে হাকিম পক্ষপাতিত্তের আশ্রয় নিয়েছেন। এর ফলে ন্যায় বিচার ব্যহত হয়েছে। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা সরকার বিরোধী মিছিল করিতে উৎসাহ করে এবং মিছিলকারীদের ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটাইতে বলে। পরে আসামিরা বিস্ফোরনের ছবি উঠাইতে থাকে। প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ  পায় যে এই আসামিরা আরটিভির অন্তরালে থাকিয়া সরকার বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করিতে ১৮ দলীয় জোটের নেতা কর্মীদের বিশৃংঙ্খল ও বিস্ফোরন ঘটানোর জন্য উৎসাহিত করিয়া আসিতেছে। এই বিষয়ে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে এই ঘটনার সঙ্গে অন্য আরো কারা কারা জড়ি আছে, কি জন্য সরকার বিরোধী মিছিল করিতে উৎসাহ দেয়া হয়েছিল তার রহস্য উদঘটন করা সম্ভব হবে। আদালত সত্র জানায়, কামরাঙ্গীর চরের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল গেটের সামনে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মিছিল বের করে অবরোধকারীরা। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় সেখানে। এর পর পরই এ দুই সাংবাদিককে আটক করা হয়। তবে পুলিশের দাবি, আটক হওয়া সাংবাদিকেরা অবরোধকারীদের ককটেল ছোড়ায় প্ররোচনা দিচ্ছিলেন। এলাকাবাসী তাঁদের গণপিটুনি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় পুলিশ এই দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে কামরাঙ্গীর চর থানায় নিয়ে যায়।