অর্থ ও বাণিজ্য জাতীয় ঢাকা রাজনীতি

ব্যবসায়ী নেতাদের ৭ দিনের আল্টিমেটাম

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা, ১ ডিসেম্বর:  স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপসহ তৈরি পোশাক শিল্পে অগ্নিকাণ্ড ও অস্থিরতার সঙ্গে জড়িত চক্রকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে ব্যবসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা আনার জন্য প্রধান দু’দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রোববার বিকালে বিজিএমইএ ভবনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিএমটিএ ও বিআইএসহ পরিবহন মালিকদের সংগঠনগুলোর এক জরুরী বৈঠক থেকে এ আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গাজীপুরের কোনাবাড়ীস্থ অগ্নিকাণ্ডে ছাই হওয়া ষ্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের পোশাক কারখানাসহ যে সকল কারখানায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে তাদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে ব্যবসায়ী সমাজ।

তিনি আরো বলেন, সকল ব্যবসায়ী  সংগঠন থেকে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুনর্বাসনে সহায়তা করা হবে। একই সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত ব্যাংক-বীমাসহ সরকারকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে।

গাজীপুরে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে পরিকল্পিত আখ্যা দিয়ে জরুরী এ সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা তীব্র নিন্দা জানান।

এসময় এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ শিল্পকে ধ্বংস করারর অধিকার কারো নেই। পোশাক শিল্পের এই ধ্বংস ব্যবসায়ীরা আর সহ্য করতে পারে না। দেশের স্বার্থে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

আতিকুল ইসলাম আরো বলেন, সংহিস রাজনীতির বলি হতে চায় না দেশের ব্যবসায়ী সমাজ। তাই প্রধান দু’দলকে এ সংহিসতা পরিহার করে ব্যবসায়ীদের নিরাপতত্তার দাবি জানান।

এ সময় আইসিসিআইর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ডিসিসিআই সভাপতি সবুর খান, বিআইএ’র সভাপতি শেখ কবির হোসেন, বিটিএমসির সভাপতি জাহাঙ্গীর আল-আমীন, বিকেএমইএ’র সহ সভাপতি মো. হাতেম, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের এমডি ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনসহ বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতিবৃন্দ ও বর্তমান পরিচালকগন উপস্থিত ছিলেন।

২৮ নভেম্বর রাতে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের পোশাক কারখানায় বহিরাগত শ্রমিকরা আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে শ্রমিকদের উত্তেজিত করে তুলে এবং বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই কারখানায় আগুন দেয়।

এতে দুইটি ৭তলা এবং একটি ১০ তলা ভবন, তৈরি কাপড়, কারখানার মেশিনপত্র এবং মালামালসহ কমপক্ষে ২০টি গাড়ি আগুলে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এতে ১২শ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয় বলে মালিকপক্ষ দাবি করেন।