অপরাধ ঢাকা রাজনীতি

অবরোধ বাড়ছে আরো ৬০ ঘন্টা!

 রেজা মাহমুদ, ঢাকা, ১ ডিসেম্বের:  নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৭২ ঘন্টার অবরোধ বর্ধিত হয়ে ১৩২ ঘন্টা হচ্ছে।

১৮ দলের পূর্বের কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত অবরোধ রয়েছে। সেটি বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় বাড়ানো হচ্ছে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নামে অব্যাহত মামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিরতিহীন এ কর্মসূচি টানতে চাইছে দলটি। এক্ষত্রে সরকারকে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এজন্য বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে আটক এবং কার্যালয় তছনছ করার প্রতিবাদে পুরোনো কর্মসূচির সঙ্গে নতুন করে আরো ৬০ ঘন্টা যোগ হতে পারে। দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র হটনিউজ২৪বিডি.কমকে কে এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছে।

দলটির হাইকমান্ড মনে করছে, সরকার বিরোধী দল দমনে হার্ডলাইনে চলে গেছে। এ অবস্থায় সংলাপ নিয়ে তারা এখন আর কোনো আশার আলো দেখছেন না। সংলাপ ইস্যুতে বিএনপি অনেক দূর এগিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগের অনড় অবস্থানে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প আর কোনো পথ খোলা নেই। এজন্য চলতি সপ্তাহ জুড়েই আন্দোলনে থাকছে দলটি।

শুক্রবার রতে সাড়ে ৯টায় দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ শনিবার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

তবে জোটটির একাধিক সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহ জুড়ে অবরোধ থাকলেও আগামী সপ্তাহের অবরোধ কর্মসূচিতে শিথিল হচ্ছে। ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের রাজনীতি বিষয়ক বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। মূলত এজন্যই আন্দোলনে বিরতি টানবে বিরোধী জোটটি। শেষ ফয়সালা হিসেবে তারানকো সফরকেই প্রধান্য দেবেন খালেদা জিয়া। এজন্য দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের পরও বিএনপি চেয়ারপারসন সরকারকে এখনো সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের কথা বলছেন।

শুক্রবার গনমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতেও বিএনপি চেয়ারপারসন সংলাপের কথাই বলেছেন। সরকারকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘স্বৈরশাসকের পথ বেছে নেবেন না। তাহলে পরিণতি স্বৈরশাসকদের মতোই হবে। সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করে সংলাপের মাধ্যমে নিদর্লীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের পথ খুলে দিন। শান্তি, স্থিতি, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র অব্যাহত রাখারও আহবান জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘দেশের অবস্থা বিস্ফোরনোম্মুখ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একতরফা প্রহসনের নির্বাচন করার উদ্যোগ বাসনায় সরকার দেশকে এক চরম অনিশ্চয়তার পথে ঠেলেছে। সংলাপ ও সমঝোতার আহবান তারা বরাবরা উপেক্ষা কিংবা চাতুর্যের মাধ্যমে এড়িয়ে যাচ্ছে।’

জোটের একাধিক সূত্র জানায়, তারানকোর আসন্ন ঢাকা সফরের পরপরই চূড়ান্ত আন্দোলনে রাজপথে নামবেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করতে অসহযোগ আন্দোলনে চলে যাবেন তিনি। জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিবের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সংলাপ নিয়ে দলের সর্বোচ্চ আগ্রহের কথাও তুলে ধরবেন বেগম জিয়া। এজন্য জাতিসংঘের বিশেষ দূতের বাংলাদেশ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন তিনি।

দলটির প্রভাবশালী এক স্থায়ী কমিটির সদস্য জানান, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাজনৈতিক সংলাপকে আর গুরুত্ব না দিয়ে লাগাতার হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোট। সরকারকে আর সময় দিতে চান না জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাই তারানকোর সফর সময়ের পরে আবারো লাগাতার অবরোধে যাচ্ছে বিএনপি।

দলটির নেতারা বলছেন, গ্রেফতারের মাধ্যমে সরকার আন্দোলন মোকাবেলায় হার্ডলাইনে যাওয়ায় বিএনপি আর নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকবে না। দাবিতে বিএনপি অনড় রয়েছে এবং দমন নিপীড়ন গৌন করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না। এজন্য দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্যাতন করে আন্দোলন দমানো যাবে না। এতে আন্দোলন আরো তীব্র হবে।’

এদিকে একতরফা নির্বাচনের চেষ্টা দেশে রক্তের বন্যা বইয়ে দেবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীকে তার অবস্থান থেকে সরে আসার আহবান জানিয়েছে সুপ্রীম কোর্ট বার কাউন্সিলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

বিএনপি অপর একটি সূত্র জানায়, সংলাপ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের চিঠির কোনো উত্তর না দেওয়ায় সরকারের নেতিবাচক মনোভাব স্পষ্ট বলে ধরে নিয়েছে দলটি। তাছাড়া মহাসচিব পর্যায়ে বৈঠক নিয়ে সরকারের অবস্থানেও অসন্তোষ বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। চূড়ান্ত সংলাপের আগে গণমাধ্যমে নানা তথ্য চলে আসায় ক্ষুব্ধ তারা।

এ ছাড়া অবরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান ও দলের সিনিয়র পাঁচ নেতাকে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করার ঘটনা, কার্যালয় ভাংচুর করে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে গ্রেফতার করায় সংলাপের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় ১৮ দলকে কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেই মানছে দলটি। এজন্য যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কর্মসূচি পালনে কড়া নির্দেশ রয়েছে জোটের শরিকসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাদের ওপর। আর আন্দোলন-কর্মসূচির পুরো বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।