অপরাধ জাতীয় ঢাকা রাজনীতি

দগ্ধ ১৫ জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক

 মেডিকেল প্রতিনিধি, ঢাকা, ২৯ নভেম্বর:  ১৮ দলের ডাকা অবরোধের তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় রাজধানীতে অবরোধকারীদের দেওয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া জীবিত ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এখন ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) রয়েছেন চারজন। মো. নুরুন্নবী (৫৫) পেশায় পুলিশ সদস্য। কামরাঙ্গীরচরে তার বাসা। নুরুন্নবীর শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। আইসিইউতে থাকা আইনজীবী খোতেজা নাসরীন সেলিনা (৪৬)। স্বামী কাজী রেজাউল হক। বাংলামোটরে থাকেন তারা। আদালতের কাজ শেষ করে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। জাহাঙ্গীর আলম মৃধার (৪৫) শরীরের ১০ শতাংশ পুড়লেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসক জানালেন, তার শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। জাহাঙ্গীরের বাড়ি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে। বাবা উকালউদ্দিন মৃধা। লক্ষ্মীবাজারের আবদুর রাজ্জাক (৪০)। বাবা খলিলুর রহমান। তার শরীরের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে। নোয়াখালী চৌমুহনীর মো. রিয়াদ। বাবা মৃত খলিলুর রহমান। রিয়াদের শরীরের ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

লক্ষ্মীবাজারের গীতা সেনের (৪৫) শরীরের ১১ শতাংশ পুড়ে গেছে। একই বাসে ছিল তার মেয়ে ইটিভির মুক্ত খবরের শিশু সাংবাদিক সুস্মিতা সেন (১৭)। তার শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
ফার্মগেট এলাকায়  মাসুমা (২০)। রূপালী ব্যাংকের শ্যামবাগ শাখায় চাকরি করেন। নয় বোনের মধ্যে মাসুমা সবার ছোট। তার শরীরের ১৭ শতাংশ পুড়ে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াহিদুর রহমান বাবু। পুরান ঢাকার আগামাসি লেনে থাকেন। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গুলিস্তান থেকে শাহবাগে যাচ্ছিলেন। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট বাবু।

মেহেরপুর গাংনীর মো. আবু তালহা (৪২)। রাজধানীর সিদ্দিকবাজারে থাকেন। স্যানেটারির ব্যবসা করেন তিনি। ব্যবসার কাজে মিরপুরে যাচ্ছিলেন তিনি। তার শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার দুই ছেলেমেয়ে।

পাবনার রাহাজুলের (২৩) শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের মো. শামীম। পিতা ওলি আকবর শেখ। তার শরীরের ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

আগুনে পুড়ে যাওয়া বাসের ড্রাইভার মো. মাহবুব আলম। তিনি মিরপুর দুয়ারীপাড়াতে থাকেন। গ্রামের বাড়ি গাইবন্ধায়। তিন ভাই চার বোনের মধ্যে তিনি মেজো। তার শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

গাড়ির হেলপার হাফিজুল ইসলাম (২২)। পিরোজপুর জিয়ানগরে তার বাড়ি। বাবা রুস্তম মালেক।

হাফিজুল জানান, মৎস্য ভবন পার হয়ে যাওয়ার পরই একটি পেট্রল বোমা গাড়ির সামনে এসে পড়ে। সাথে সাথে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সামনে যারা ছিলেন তাদেরই বেশি ক্ষতি হয়। তিনি গাড়ির জানালা দিয়ে লাফিয়ে বেরিয়ে আসেন। কে পেট্রল বোমা ছুড়ে দিয়েছে তা তিনি দেখতে পাননি। তার শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

পাঁচবিবি জয়পুরহাটের আমজাদ হোসেন (৪২)। বাবা খইউদ্দিন মণ্ডল। আমজাদের শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। শফিকুল ইসলাম। মিরপুরের তালতলায় থাকেন। বাবা আবদুল কুদ্দুস। শফিকুলের শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তিনি ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার। তার মুখ-হাতসহ শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার মা রাজিয়া খানম উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমরা তো কোনো দোষ করিনি। আমার ছেলে খুব ভালো। তার কেন এ অবস্থা হলো?’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জেন্ট পার্থশঙ্কর পাল বলেন, শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় শ্বাসনালিতে পুড়লে সেটা বেশি আশঙ্কাজনক। আর এ ঘটনায় একজন বাদে সবারই কমবেশি শ্বাসনালি পুড়েছে। যত দিন পর্যন্ত সুস্থ না হবে তত দিন পর্যন্ত আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে না।

হাসপাতালের পরিচালক, ব্রিগেডিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হাসপাতাল থেকে শতভাগ ওষুধ ও সেবা বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি কোনো ওষুধ হাসপাতাল থেকে দিতে না পারলে তারা বাইরে থেকে কিনে ক্রয়রসিদ দেখাতে বলা হয়েছে। বাইরে থেকে কেনা ওষুধের টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার রাতে অগ্নিদগ্ধ নাহিদ এবং শুক্রবার দুপুরে রবিন মারা গেছেন।
অগ্নিদগ্ধদের দেখতে শুক্রবার হাসপাতালে যান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকির।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শাহবাগে বিহঙ্গ পরিবহনের মিরপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অবরোধকারীরা আগুন ধরিয়ে দিলে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।