আন্তর্জাতিক জাতীয় ঢাকা

ফের বান কি মুনের চিঠি

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২৯ নভেম্বর:  দ্বিতীয় দফা চিঠি পাঠিয়ে আবারো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংলাপে বসে বিদ্যমান সংকট দূর করা জন্য দুই নেত্রীকে তাগিদ দিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। ধবার দুই নেত্রীকে আলাদা চিঠিতে বান কি মুন এ তাগিদ দেন। চিঠিতে তিনি বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি নিল ওয়াকার পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের কাছে প্রধানমন্ত্রীর চিঠিটি পৌঁছে দেন। এদিকে বিরোধীদলীয় নেতার চিঠি পৌঁছে দেয়া হয় বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট এক নেতার হাতে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো এ তথ্য জানায়।

সরকার এবং বিরোধীদলের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেও ওই চিঠির সত্যতা জানা গেছে। চিঠিতে আগামী ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে বাংলাদেশে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। এ সফরকালে তারানকোকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি এর মাধ্যমে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন বান কি মুন।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশজুড়ে সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে বান কি মুনের এই চিঠি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই চিঠি এবং আগামী ৬ ডিসেম্বর বিশেষ দূত হিসেবে তারানকোর বাংলাদেশ সফর সংকট নিরসনে জাতিংঘের পক্ষ থেকে হয় তো শেষ উদ্যোগ।

এর আগে সংলাপের তাগিদ দিয়ে বান কি মুন দুই নেত্রীকে প্রথম চিঠি লেখেন গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। এরপর ২৩ আগস্ট দুই নেত্রীর সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলে সংকট সমাধানে সংলাপে বসার আহ্বান জানান তিনি।

ওই সময় তিনি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন চলাকালে সাইডলাইনে সমঝোতা আলোচনার জন্য উভয় রাজনৈতিক দল থেকে দু’জন করে প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানান।

তবে তার ওই অনুরোধে সরকার পক্ষ সাড়া দেয়নি বলে বিএনপিকে টেলিফোনে তারানকো জানিয়ে দেন। ফলে সেপ্টেম্বরে সাধারণ অধিবেশন চলাকালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দু’দলের ওই বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি।

অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে তারানকো এ নিয়ে তৃতীয় দফা বাংলাদেশ সফরে আসছেন। সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করতে সর্বশেষ ১০ মে তারানকো বাংলাদেশ সফর করেন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ৮ সেপ্টেম্বর সংলাপের আহ্বান জানিয়ে দুই নেত্রীকে চিঠি পাঠান। তবে এসব উদ্যোগের কোনোটিতেই এ পর্যন্ত কার্যকর কোনো ফল বেরিয়ে আসেনি। তাই দুই নেত্রীকে পাঠানো জাতিসংঘ মহাসচিবের পাঠানো দ্বিতীয় দফা চিঠি কোনো সুফল বয়ে আনে কি না সেটাই দেখার বিষয়।