জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

বেতন বাড়ল সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ২৮ নভেম্বর :  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষকের বেতন বাড়ছে। গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষকদের এ-সংক্রান্ত ফাইলে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

কিছুদিনের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের নতুন বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে জানান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বেগম জাজরীন নাহার জানান, `শিক্ষকদের নতুন বেতন স্কেল-সংক্রান্ত ফাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন আমাদের মন্ত্রণালয়ে ফাইলটি এলে দু-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।`

তবে প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা আর সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকের একধাপ নিচে বেতন স্কেল নির্ধারণ এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জটিলতা নিরসন। শিক্ষকরা এ দাবি নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন, কর্মবিরতি, অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে দেড় মাস ধরে কর্মসূচি স্থগিত রেখেছেন শিক্ষকরা। কিন্তু তাঁদের এ দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ৫৫০০ টাকার বদলে এখন হবে ৬৪০০ টাকা এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকরা ৫২০০ টাকার বদলে পাবেন ৫৯০০ টাকার স্কেল। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ৪৯০০ টাকার বদলে হবে ৫২০০ টাকা এবং প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা ৪৭০০ টাকা স্কেলের বদলে পাবেন ৪৯০০ টাকার স্কেল।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর থেকে সব বেসরকারি, রেজিস্টার্ড ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রায় ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হওয়ায় এখন বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৩ হাজার। আর এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ। সব শিক্ষকই নতুন বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত হবেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (বাসার-তোতা) সহসভাপতি জুলফিকার আলী জানান, `আমরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হলেও বেতন-ভাতা পাই তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে। আমরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম। তাই আমাদের দাবি ছিল প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা প্রদান ও আট হাজার টাকা বেতন স্কেল নির্ধারণ এবং সহকারী শিক্ষকদের ৬৪০০ টাকার বেতন স্কেল প্রদান। মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের দাবির বিষয়ে পুরোপুরি আশ্বস্ত করেই কর্মসূচি স্থগিত করানো হয়েছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সরকার প্রতিশ্রুত যৌক্তিক প্রত্যাশা পূরণ না করায় আমরা গভীরভাবে হতাশ।`

তবে দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও অনেকেই এ প্রাপ্তিতেই খুশি। তাঁরা দ্রুত এ নতুন বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান।